যাহার আন্তরিক কোনো সৌন্দর্য্য বা পবিত্রতা আছে তাহাই ধর্ম্ম, এমন কোনো কথা নাই;—স্তূপের মধ্যে কিছুকাল যাহা পড়িয়া আছে তাহাই ধর্ম্ম—তাহা যদি বীভৎস হয়, যদি তাহাতে সাধারণ ধর্ম্মনীতির সংযম নষ্ট হইতে থাকে তথাপি তাহাও ধর্ম্ম। এমন উত্তর যতগুলি লোকে মিলিয়াই দিক্ না কেন তথাপি তাহাকে আমি আমার সমাজের পক্ষের সত্য উত্তর বলিয়া কোনোমতেই গ্রহণ করিব না। কেন না, লোক গণনা করিয়া ওজন দরে বা গজের মাপে সত্যের মূল্যনির্ণয় হয় না।
নানা প্রকার অনার্য্য ও বীভৎস ধর্ম্ম কেবলমাত্র কালক্রমে আমাদের সমাজে যদি স্থান পাইয়া থাকে তবে যে ধর্ম্মকে আমার জ্ঞান বুদ্ধি ও ভক্তির সাধনায় আমি শেষ বলিয়া গ্রহণ করিয়াছি, সেই ধর্ম্মদীক্ষার দ্বারা আমি হিন্দুসমাজের মধ্যে আমার সত্য অধিকার হইতে বঞ্চিত হইব এতবড় অন্যায় আমরা কখনই মানিতে পারিব না। তা অন্যায়, সুতরাং ইহা হিন্দুসমাজের অথবা কোনো সমাজেরই নহে!
প্রশ্ন এই, হিন্দুসমাজ যদি জড়ভাবে ভালমন্দ সকল প্রকার ধর্ম্মকেই পিণ্ডাকার করিয়া রাখে এবং যদি কোনো নূতন উচ্চ আদর্শকে প্রবেশে বাধা দেয় তবে এই সমাজকে তোমার সমাজ বলিয়া স্বীকার করিবার দরকার কি? ইহার একটা উত্তর পূর্ব্বেই দিয়াছি—তাহা এই যে, ঐতিহাসিক দিক দিয়া আমি যে হিন্দু এ সম্বন্ধে আমার ইচ্ছা অনিচ্ছার কোনো তর্কই নাই।
এ সম্বন্ধে আরো একটা বলিবার আছে। তোমার পিতা যেখানে অন্যায় করেন সেখানে তাহার প্রতিকার ও প্রায়শ্চিত্তের ভার তোমারই উপরে। তোমাকে পিতৃঋণ শোধ করিতেই হইবে—পিতাকে আমার পিতা নয় বলিয়া তোমার ভাইদের উপর সমস্ত বোঝা চাপাইয়া পর হইয়া দাঁড়াইয়া সমস্যাকে সোজা করিয়া তোলা সত্যাচরণ নহে। তুমি বলিবে, প্রতিকারের চেষ্টা বাহির হইতে পররূপেই করিব—পুত্ররূপে নয়। কেন? কেন বলিবে না, যে পাপ আমাদেরই সে পাপ আমরা প্রত্যেকে ক্ষালন করিব?