ইতিহাসের ধারা দিয়া আজ আমাদের মধ্যে আসিয়া উত্তীর্ণ হইয়াছে। কালীচরণ বাঁড়ুয্যে, জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুর, কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় খৃষ্টান হইয়াছিলেন বলিয়াই এই সুগভীর ধারা হইতে বিচ্ছিন্ন হইবেন কি করিয়া? জাতি জিনিষটা মতের চেয়ে অনেক বড় এবং অনেক অন্তরতর; মত পরিবর্ত্তন হইলে জাতির পরিবর্ত্তন হয় না। ব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তিসম্বন্ধে কোনো একটা পৌরাণিক মতকে যখন আমি বিশ্বাস করিতাম তখনো আমি যে জাতি ছিলাম, তৎসম্বন্ধে আধুনিক বৈজ্ঞানিক মত যখন বিশ্বাস করি তখনও আমি সেই জাতি। যদিচ আজ বহ্মাণ্ডকে আমি কোনো অণ্ডবিশেষ বলিয়া মনে করি না ইহা জানিতে পারিলে এক সুযোগ পারিলে আমার প্রপিতামহ এই প্রকার অদ্ভূত নব্যতায় নিঃসন্দেহ আমার কান মলিয়া দিতেন।
কিন্তু চীনের মুসলমানও মুসলমান, পারস্যেরও তাই, আফ্রিকারও তদ্রূপ। যদিচ চীনের মুসলমানসম্বন্ধে আমি কিছুই জানি না তথাপি এ কথা জোর করিয়াই বলিতে পারি যে, বাঙালী মুসলমানের সঙ্গে তাহাদের ধর্ম্মমতের অনেকটা হয়ত মেলে কিন্তু অন্য অসংখ্য বিষয়েই মেলে না। এমন কি, ধর্ম্মমতেরও মোটামুটি বিষয়ে মেলে কিন্তু সূক্ষ্ম বিষয়ে মেলে না। অথচ হাজার হাজার বিষয়ে তাহার স্বজাতি কন্ফ্যুসিয় অথবা বৌদ্ধের সঙ্গে তাহার মিল আছে। পারস্যে চীনের মত কোনো প্রাচীনতর ধর্ম্মমত নাই বলিলেই হয়। মুসলমান বিজেতার প্রভাবে সমস্ত দেশে এক মুসলমান ধর্ম্মই স্থাপিত হইয়াছে তথাপি পারস্যে মুসলমান ধর্ম্ম সেখানকার পুরাতন জাতিগত প্রকৃতির মধ্যে পড়িয়া নানা বৈচিত্র্য লাভ করিতেছে—আজ পর্য্যন্ত কেহ তাহাকে ঠেকাইয়া রাখিতে পারিতেছে না।
ভারতবর্ষেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম হইতে পারে না। এখানেও আমার জাতি-প্রকৃতি আমার মতবিশেষের চেয়ে অনেক ব্যাপক। হিন্দুসমাজের মধ্যেই তাহার হাজার হাজার দৃষ্টান্ত আছে। যে সকল