আরো কাছে টানিয়া লইয়া আদর করিয়া বলিলেন, কিচ্ছু না? তবে বুঝি আমাকে শুধু একবার দেখতে এসেচিস্?
ললিতা চুপ করিয়া রহিল।
শেখর কহিল, দেখতে এসেচে, রাঁধবে কখন?
মা বলিলেন, রাঁধবে কেন?
শেখর আশ্চর্য্য হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, কে তবে ওদের রাঁধবে মা? ওর মামাও ত সেদিন বললেন, ললিতাই রাঁধাবাড়া সব কাজ করবে।
মা হাসিয়া উঠিলেন। বলিলেন, ওর মামার কি, যা হোক একটা বললেই হ’ল। ওর বিয়ে হয়নি, ওর হাতে খাবে কে? আমাদের বামুনঠাকরুণকে পাঠিয়ে দিয়েছি, তিনিই রাঁধবেন, বড়-বৌমা আমাদের রান্নাবান্না করচেন—আমি দুপুরবেলা ওদের বাড়িতেই আজকাল খাই।
শেখর বুঝিল, মা এই দুঃখী পরিবারের গুরুভার হাতে তুলিয়া লইয়াছেন, সে একটা তৃপ্তির নিশ্বাস ফেলিয়া চুপ করিল।
মাসখানেক পরে এক দিন সন্ধ্যার পর শেখর নিজের ঘরে কোচের উপর কাৎ হইয়া একখানি ইংরাজী নভেল পড়িতেছিল। বেশ মন লাগিয়া গিয়াছিল, এমন সময় ললিতা ঘরে ঢুকিয়া বালিশের তলা হইতে চাবি লইয়া শব্দ-সাড়া করিয়া দেরাজ খুলিতে লাগিল। শেখর বই হইতে মুখ না তুলিয়াই বলিল, কি?
ললিতা বলিল, টাকা নিচ্চি।
শেখর ‘হুঁ’ বলিয়া পড়িতে লাগিল। ললিতা আঁচলে টাকা বাঁধিয়া উঠিয়া দাড়াইল। আজ সে সাজিয়া-গুজিয়া আসিয়াছিল