মামাটি কে?
ললিতা বলিল, তাঁর নাম গিরীনবাবু। পাঁচ-ছ’দিন হ’ল মুঙ্গেরের বাড়ী থেকে এসেছেন, এখানে বিএ পড়বেন—বেশ লোক সে—
বাঃ—নাম, ধাম, পেশা—এই যে দিব্যি আলাপ হয়ে গেছে দেখচি! তাতেই চার পাঁচদিন মাথার টিকিটি পর্য্যন্ত দেখতে পাইনি—তাস খেলা হচ্ছিল বোধ করি?
হঠাৎ শেখরের কথা বলার ধরণ দেখিয়া ললিতা ভয় পাইয়া গেল। সে মনেও করে নাই, এরূপ একটা প্রশ্নও উঠিতে পারে। সে চুপ করিয়া রহিল।
শেখর বলিল, এ ক’দিন খুব তাস চলছিল, না?
ললিতা ঢোঁক গিলিয়া মৃদুস্বরে কহিল, চারু বললে যে।
চারু বললে? কি বললে?—বলিয়া শেখর মাথা তুলিয়া একবার চাহিয়া দেখিয়া কহিল, একেবারে কাপড় পরে তৈরী হয়ে আসা হয়েচে,—আচ্ছা যাও।
ললিতা গেল না, সেইখানেই চুপ করিয়া দাঁড়াইয়া রহিল।
পাশের বাড়ীর চারুবালা তাহার সমবয়সী এবং সই। তাহারা ব্রাহ্ম। শেখর ঐ গিরীনকে ছাড়া তাহাদের সকলকেই চিনিত। গিরীন পাঁচ সাত বৎসর পূর্ব্বে কিছু দিনের জন্য একবার এদিকে আসিয়াছিল। এত দিন বাঁকিপুরে পড়িত, কলিকাতায় আসিবার প্রয়োজন হয় নাই, আসেও নাই। তাই শেখর তাহাকে চিনিত না; ললিতা তথাপি দাঁড়াইয়া আছে দেখিয়া বলিল, মিছে দাঁড়িয়ে রইলে কেন, যাও।—বলিয়া মুখের সুমুখে বই তুলিয়া লইল।
মিনিট পাঁচেক চুপ করিয়া থাকার পরে ললিতা আবার আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করিল, যাব?
যেতেই ত বললুম পলিতা।