পর্য্যন্ত তাহার কোন আদরই কাহারও চোখে বিসদৃশ বোধ হয় না, কিংবা কোন ব্যবহারই কাহারও দৃষ্টি আকর্ষণ করে না। করে না বলিয়াই, সে যে কোনও দিন বধূরূপে এই গৃহে প্রতিষ্ঠিত হইতে পারে, সে সম্ভাবনা কাহারও মনে উদয় হয় নাই। ললিতাদের বাড়ীতেও হয় নাই, ভুবনেশ্বরীর মনেও হয় নাই।
ললিতা ভাবিয়া রাখিয়াছিল, কাজ শেষ করিয়া শেখর আসিবার পূর্ব্বেই চলিয়া যাইবে, কিন্তু অন্যমনস্ক ছিল বলিয়া ঘড়ির দিকে নজর করে নাই। হঠাৎ দ্বারের বাহিরে জুতার মস্ মস্ শব্দ শুনিয়া মুখ তুলিয়াই একপাশে সরিয়া দাড়াইল।
শেখর ঘরে ঢুকিয়াই বলিল, এই যে। কাল তা’ হ’লে ফিরতে কত রাত হ’ল?
ললিতা জবাব দিল না।
শেখর একটা গদি-আঁটা আরাম-চৌকির উপর হেলান দিয়া শুইয়া পড়িয়া বলিল, ফেরা হ’ল কখন? দু’টো? তিনটে? মুখে কথা নেই কেন?
ললিতা তেমনি চুপ করিয়া দাড়াইয়া রহিল।
শেখর বিরক্ত হইয়া বলিল, নীচে যাও, মা ডাকচেন।
ভুবনেশ্বরী ভাঁড়ারের সুমুখে বসিয়া জলখাবার সাজাইতেছিলেন, ললিতা কাছে আসিয়া বলিল, ডাকছিলে মা?
কৈ ডাকিনি ত, বলিয়া তিনি মুখ তুলিয়া তাহার মুখের পানে চাহিয়াই বলিলেন, মুখখানি এমন শুক্নো কেন ললিতে? কিছু খাসনি বুঝি এখনো?
ললিতা ঘাড় নাড়িল।
ভুবনেশ্বরী বলিলেন, আচ্ছা, যা তোর দাদাকে খাবার দিয়ে আমার কাছে আয়।
পরি—২