এক
শক্তিশেল বুকে পড়িবার সময় লক্ষ্মণের মুখের ভাবটা নিশ্চয় খুব খারাপ হইয়া গিয়াছিল, কিন্তু গুরুচরণের চেহারাটা বোধ করি তার চেয়েও মন্দ দেখাইল—যখন প্রত্যূষেই অন্তঃপুর হইতে সংবাদ পৌঁছিল, গৃহিণী এইমাত্র নির্বিঘ্নে পঞ্চম কন্যার জন্মদান করিয়াছেন।
গুরুচরণ ষাট টাকা বেতনের ব্যাঙ্কের কেরাণী। সুতরাং দেহটিও যেমন ঠিকা-গাড়ীর ঘোড়ার মত শুষ্কশীর্ণ, চোখে-মুখেও তেমনি তাহাদেরি মত একটা নিষ্কাম নির্বিকার নির্লিপ্ত ভাব। তথাপি এই ভয়ঙ্কর শুভ-সংবাদে, আজ তাঁহার হাতের হুঁকাটা হাতেই রহিল, তিনি জীর্ণ পৈতৃক তাকিয়াটা ঠেস দিয়া বসিলেন; একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিবারও আর তাঁহার জোর রহিল না।
শুভ-সংবাদ বহিয়া আনিয়াছিল তাহার তৃতীয়া কন্যা দশমবর্ষীয়া আন্নাকালী। সে বলিল, বাবা, চল না দেখবে।
গুরুচরণ মেয়ের মুখের দিকে চাহিয়া বলিলেন, মা, এক গেলাস জল আন্ ত খাই।
মেয়ে জল আনিতে গেল। সে চলিয়া গেলে, গুরুচরণের সর্বাগ্রে মনে পড়িল সূতিকাগৃহের রকমারি খরচের কথা। তার পরে, ভীড়ের দিনে ষ্টেশনে গাড়ী আসিলে দোর খোলা পাইলে থার্ড-ক্লাশের যাত্রীরা পোঁট্লা-পোট্লি লইয়া পাগলের মত যেভাবে লোকজনকে দলিত পিষ্ট করিয়া ঝাঁপাইয়া আসিতে থাকে, তেমনি ‘মার মার’ শব্দ করিয়া তাঁহার মগজের মধ্যে দুশ্চিন্তারাশি