পাতা:পলাতকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পলাতক৷ বামুন কি হয় পইতে দিলেই গলায়! দেখতে শুনতে ভালো হলেই পাত্র হল । রাধে! স্ত্রীবুদ্ধি কি শাস্ত্রে বলে সাধে! যেদিন ওরা গিনি দিয়ে দেখলে ক’নের মুখ সেদিন থেকে মঞ্জুলিকার বুক প্রতি পলের গোপন কাটায় হল রক্তে মাখা । মায়ের স্নেহ অন্তর্যামী, তার কাছে তে রয় না কিছুই ঢাকা ; মায়ের ব্যথা মেয়ের ব্যথা চলতে খেতে শুতে ঘরের আকাশ প্রতি ক্ষণে হানছে যেন বেদনা-বিদ্যুতে । অটলতার গভীর গর্ব বাপের মনে জাগে— সুখে দুঃখে দ্বেষে রাগে ধর্ম থেকে নড়েন তিনি নাই হেন দৌর্বল্য । র্তার জীবনের রথের চাকা চলল লোহার বাধা রাস্তা দিয়ে প্রতি ক্ষণেই, কোনোমতেই ইঞ্চি-খানেক এ দিক-ওদিক একটু হবার জো নেই। তিনি বলেন, তার সাধনা বড়োই সুকঠোর, আর কিছু নয়, শুধুই মনের জোর, অষ্টাবক্র জমদগ্নি প্রভৃতি সব ঋষির সঙ্গে তুল্য— মেয়েমানুষ বুঝবে না তার মূল্য।