পাতা:পলাতকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পলাতক কী ভেবে যে হাত বাড়ালো জানি না কোন ভুলে। অমনি পাগল নিল তারে কাধের পরে তুলে, ভোলানাথের জটায় যেন ধুৎরোফুলের কুঁড়ি ; সে অবধি তার ঘরের কোণটি জুড়ি সুর্মি আছে ঐ পাগলের পাগলামির এক স্বচ্ছ শীতল ধারা হিমালয়ে নিঝরিণীর পারা। এখন তাহার বয়স হবে দশ, খেতে শুতে অষ্টপ্রহর মহেশ তারই বশ । আছে পাগল ঐ মেয়েটির খেলার পুতুল হয়ে যত্নসেবার অত্যাচারটা সয়ে । সন্ধ্যাবেলায় পাড়ার থেকে ফিরে যেমনি মহেশ ঘরের মধ্যে ঢোকে ধীরে ধীরে, পথ-হারানো মেয়ের বুকে আজও যেন জাগায় ব্যাকুলতা— বুকের পরে ঝাপিয়ে পড়ে গল। ধীরে আবোল-তাবোল কথা । এই আদরের প্রথম বানের টান হলে অবসান ওদের বাসায় আমি যেতেম রাতে । সামান্য কোন কথা হত এই পাগলের সাথে । নাইকো পুথি, নাইকে ছবি, নাই কোনো আসবাব ; চিরকালের মানুষ যিনি ঐ ঘরে তার ছিল আবির্ভাব । তারার মতো আপন আলো নিয়ে বুকের তলে 切*8