পাতা:পল্লী-সমাজ.djvu/১০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
পল্লী-সমাজ
১০২
 


অন্ধকারেও রমেশ লক্ষ্য করিতে পারিল। কিন্তু, মনস্তত্ত্ব আলোচনার অবকাশ এবং প্রবৃত্তি তাহার ছিল না;—তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল,—“কলহ-বিবাদের অভিরুচি আমারও নেই বটে, কিন্তু, তোমার সম্ভাবের মূল্যও আর আমার কাছে কিছুমাত্র নেই। যাই হোক্‌, বাগ্‌বিতণ্ডার আবশ্যক নেই, আমি চল্‌লুম।” মাসী উপরে ঠাকুরঘরে আবদ্ধ থাকায় এ সকলের কিছুই জানতে পারেন নাই। নীচে আসিয়া দেখিলেন, রমা দাসীকে সঙ্গে লইয়া বাহির হইতেছে। আশ্চর্য্য হইয়া প্রশ্ন করিলেন,—“এই জল-কাদায় সন্ধ্যার পর কোথায় যাস্‌ রমা?”

 “একবার বড়দা’র ওখানে যাব মাসি!”

 দাসী কহিল,—“পথে আর এতটুকু কাদা পাবার যো নেই দিদিমা! ছোটবাবু এম্‌নি রাস্তা বাঁধিয়ে দিয়েচেন যে, সিঁদূর পড়্‌লে কুড়িয়ে নেওয়া যায়। ভগবান্‌ তাঁকে বাঁচিয়ে রাখুন, গরীব দুঃখী সাপের হাত থেকে রেহাই পেয়ে বেঁচেচে।”

 তখন রাত্রি বোধ করি এগারটা। বেণীর চণ্ডীমন্ডপ হইতে অনেকগুলি লোকের চাপাগলার আওয়াজ আসিতেছিল। আকাশে মেঘ কতকটা কাটিয়া গিয়া ত্রয়োদশীর অস্বচ্ছ জ্যোৎস্না বারান্দার উপরে আসিয়া পড়িয়াছিল। সেইখানে খুঁটিতে ঠেস দিয়া একজন ভীষণাকৃতি প্রৌঢ় মুসলমান চোখ বুজিয়া বসিয়া ছিল। তাহার সমস্ত মুখের উপর কাঁচা রক্ত জমাট বাঁধিয়াগিয়াছে—পরণের বস্ত্র রক্তে রাঙা; কিন্তু, সে চুপ করিয়া আছে। বেণী চাপা-গলায় অনুনয় করিতেছে,—“কথা শোন্‌