পাতা:পল্লী-সমাজ.djvu/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৫৩
পল্লী-সমাজ
 


হাত-পা ধুয়ে মনে কর্‌লুম, হাটটা একবার ঘুরে যাই, মাগী এক চুবড়ি মাছ নিয়ে ব’সে,—আমাকে স্বছন্দে বল্‌লে কি না, কিছুই নেই ঠাকুর, যা’ ছিল, সব উঠে গেছে। আরে, আমার চোখে ধুলো দিতে পারিস্‌? ডালাটা ফস্‌ ক’রে তুলে ফেলতেই হাতটা চেপে ধ’রে ফেল্‌লে! তোর এই আড়াইটা—আর আজকার একটা—এই সাড়ে তিনটে পয়সা নিয়ে আমি গাঁ ছেড়ে পালাব? কি বলিস, মধু?” মধু সায় দিয়া কহিল, “তাও কি হয়!” “তবে, তাই বল্‌ না! গাঁয়ে কি শাসন আছে? নইলে ষষ্ঠে জেলের খোপা-নাপ্‌তে বন্ধ ক’রে, চাল কেটে তুলে দেওয়া যায় না!” হঠাৎ রমেশের প্রতি চাহিয়া প্রশ্ন করিলেন, “বাবুটি কে, মধু?” মধু সগর্ব্বে কহিল, “আমাদের ছোটবাবুর ছেলে যে! সেদিনের দশ টাকা বাকী ছিল ব’লে, নিজে বাড়ী বয়ে দিতে এসেচেন।” বাঁডুয্যে মশাই কুচোচিংড়ির অভিযোগ ভুলিয়া, দুই চক্ষু বিস্ফারিত করিয়া কহিলেন,—“হ্যাঁ, রমেশ বাবাজী? বেঁচে থাক, বাবা—হাঁ, এসে শুনলুম, একটা কাজের মত কাজ করেচ বটে! এমন খাওয়া-দাওয়া এ অঞ্চলে কখনও হয় নি। কিন্তু বড় দুঃখ রইল, চোখে দেখ্‌তে পেলুম না। পাঁচ শালার ধাপ্পায় প’ড়ে কল্‌কাতায় চাকুরি কর্‌তে গিয়ে হাড়ীর হাল। আরে ছি, সেখানে মানুষ থাক্‌তে পারে!” রমেশ এই লোকটার মুখের দিকে চুপ করিয়া চাহিয়া রহিল। কিন্তু দোকান-শুদ্ধ সকলে তাঁহার কলিকাতা প্রবাসের ইতিহাস শুনিবার জন্য মহাকৌতূহলী হইয়া উঠিল।