বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পারস্য যাত্রী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পারস্য-যাত্রী

 [কবির আপন ভাষায় যদি দিতে পারতুম তবেই আমার যোগ্য হত। যে ভাষা অগত্যা ব্যবহার করছি আমার ভারতী সে ভাষায় সম্পূর্ণ সায় দেন না। তাই আমি এখানে যেন ম্যুজিয়মে সাজানো পাখি—তর্জমার আড়ষ্টতায় আমার পাখা বদ্ধ—সে পাখা বিস্তার ক’রে মন উড়তে পারে না, সে পাখায় সজীব প্রাণের বর্ণচ্ছটাময় নৃত্য নেই।

 তা হোক, মৌনের মধ্যে যে বাণী অনুচ্চারিত, বন্দনায় তারও ব্যবহার হয়ে থাকে। সেই আন্তরিক বাণীর দ্বারাই পারস্যের অমর কবিদের আমি আজ অভিবাদন করি; সেই সঙ্গে পারস্যের অমর আত্মাকেও আমার নমস্কার, যে আত্মা ইতিহাসের উত্থানপতনের মধ্য দিয়ে বিচিত্র সৌন্দর্যে শৌর্যে কল্যাণে ভাবীকালের দূরদিগন্তব্যাপী ক্ষেত্রে নিজেকে গৌরবান্বিত করবে।]

 আমি বলার পর ধন্যবাদ জানিয়ে ও পারস্যরাজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ক’রে ইরানী কিছু বললেন। কৌতূহলী জনতার মধ্য দিয়ে গোধূলির আলোকে গবর্নরের সঙ্গে তাঁর প্রাসাদে ফিরে এলুম।

—বিচিত্রা, ১৩৩৯ আশ্বিন, পৃ ২৯৭-২৯৮

পৃ ৪২, শেষ অনুচ্ছেদের প্রথম বাক্যটির পূর্ণতর রূপ

অবশেষে হাফেজের সমাধি দেখতে বেরলুম, পিতার তীর্থস্থানে আমার মানসঅর্ঘ্য নিবেদন করতে।

—পাণ্ডুলিপি

পৃ ৭৮, চতুর্থ ছত্রের পরে

[এ রকম ক্ষেত্রে বস্তুত ভয় ক্ষুদ্রকে—মহত্ত্বকে স্বীকার করার মতো পীড়া তাদের পক্ষে আর কিছু হতে পারে না, বিশেষত যে মহত্ত্ব প্রথার বাঁধাপথে চিরাভ্যন্তভাবে স্বীকৃত নয়।

 আমি রাজাকে জানালুম তাঁর রাজত্বে সম্প্রদায়বিরোধের হিংস্র অসভ্যতা এমন আশ্চর্য শৌর্যের সঙ্গে উন্‌মূলিত হয়েছে, আজকের দিনে এইটেতে আমি সকলের চেয়ে মুগ্ধ। একবার যেন তিনি ভারতবর্ষে আসেন, এই আকাঙ্ক্ষা

১১০