পারস্য-যাত্রী
আমি তাঁকে নিবেদন করলুম। তিনি বললেন, পাশ্চাত্য দেশে ভ্রমণ করতে খাবার পূর্বে নিশ্চয় তিনি যথাসম্ভব এসিয়ার পরিচয় নিয়ে যাবেন।
শ্রদ্ধাপূর্ণ হৃদয় নিয়ে ফিরে এলুম। এ কথা সকলের মুখে শুনি, রাজা বিদ্বান নন, য়ুরোপীয় কোনো ভাষাই তাঁর জানা নেই, পারসিক ভাষা লিখতে পড়তে পারেন, কিন্তু ভালোরকম নয়। অর্থাৎ, তাঁর বুদ্ধিশক্তি বিচারশক্তি বইপড়া বিদ্যার অনেক উপরে।]
পারস্যরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ-উপলক্ষে উপহারস্বরূপে আমার নিজের কতকগুলি বই রেশমের আবরণে প্রস্তুত করা ছিল। সেই সঙ্গে নিজের রচিত একটি চিত্রপটে পরপৃষ্ঠায়-উদ্ধৃত বাংলা কবিতা ও তার ইংরেজি তর্জমাটি লিখে দিয়েছিলুম—
আমার হৃদয়ে অতীতস্থতির
সোনার প্রদীপ এ যে,
মরিচা-ধরানো কালের পরশ
বাঁচায়ে রেখেছি মেজে।
তোমরা জ্বেলেছ নূতন কালের
উদার প্রাণের আলো—
এসেছি, হে ভাই, আমার প্রদীপে
তোমার শিখাটি জ্বালো।
I carry in my heart a golden lamp of remembrance
of an illumination that is past.
I keep it bright against the tarnishing touch of time.
Thine is a fire of a new magnanimous life.
Allow it, my brother, to kiss my lamp with its flame.
[আজ সকালবেলায় শিক্ষাবিভাগের মন্ত্রী আমাকে সঙ্গে ক’রে নিয়ে গিয়েছিলেন শীতযাপনের প্রাসাদ দেখাবার জন্যে।
তুষাররেখাঙ্কিত নীলাভ পাহাড় ঘেরা সুন্দর দৃশ্যের মধ্যে দিয়ে গাড়ি
১১১