পারস্য যাত্রী
চলল। প্রাসাদের বাগানটি ঘনশ্যামল উচ্চশীর্ষ তরুচ্ছায়ায় রমণীয়। দু-তিন ভাগে বিভক্ত অনেকগুলি সিঁড়ি ভেঙে প্রথম তলায় যখন উঠলুম তখন আমার নিশ্বাস বড়ো একটা বাকি ছিল না। মাথার উপরে উচ্চ গম্বুজ আগাগোড়া স্ফটিকে খচিত, আলোয় ঝল্মল্ করছে। ক্লান্তি গোপনের জন্যে স্থির হয়ে খানিকটা দাঁড়িয়ে দেখা গেল। আরো এক তলা উপরে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ওঠবার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে শান্ত ক’রে হাঁফ ছাড়লুম। প্রশস্ত বারান্দায় বেরিয়ে আসতেই দেখি চার দিকের উদার দৃশ্য অবারিত। আকাশ নির্মল নীল, নীচের বাগানে নিবিড়নিবদ্ধ বনস্পতির ঊর্মিল বিস্তার, ডান দিকের দিগন্তে গিরিশ্রেণী, সম্মুখে দূরে তেহেরান নগরী বৃক্ষব্যুহে আবৃত। এখানে বর্তমান রাজা বাস করেন না, কেননা এ জায়গাটা তাঁর কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে। এ প্রাসাদটি প্রাচীন নয়, বছর ত্রিশ আগে তৈরি হয়েছে।]
—বিচিত্রা, ১৩৩৯ পৌষ, পৃ ৭৭০-৭৭১
পৃ ৮০, প্রথম বাক্যের পরে
খানিকটা আমি ইংরেজিতে বলি, তার পরে তার তর্জমা হয় পারসিকে, এই রকম দু-রঙা দু-টুকরো তালি দেওয়া আমার বক্তৃতা।
আমি যা বলেছিলেম তার মোট কথাটা হচ্ছে এই যে, প্রকৃতির শক্তি-ভাণ্ডারের দ্বার য়ুরোপ উদ্ঘাটন করে প্রাণযাত্রাকে নানা দিক থেকে ঐশ্বর্যশালী করে তুলেছে। এই শক্তির প্রভাবে আজকের দিনে তারা দিগ্বিজয়ী। আমরা প্রাচ্যজাতিরা বস্তুজগতে এই শক্তিসাধনায় শৈথিল্য করেছি, তার ফলে আমাদের দুর্বলতা সমাজের সকল বিভাগেই ব্যাপ্ত। এই সাধনার দীক্ষা য়ুরোপের কাছ থেকে আমাদের নিতান্তই নেওয়া চাই।
কিন্তু সেই সঙ্গেই মনে রাখতে হবে যে, কেবলমাত্র বস্তুগত ঐশ্বর্যে মানুষের পরিত্রাণ নেই, তার প্রমাণ আজ য়ুরোপে মারমূর্তি নিয়ে দেখা দিল। পরস্পর ঈর্ষাবিদ্বেষে এবং বিজ্ঞানবাহিনী হিংস্রতার বিভীষিকায় য়ুরোপীয় সভ্যতায় আজ ভূমিকম্প লেগেছে। য়ুরোপ দেবতার অস্ত্র পেয়েছে, কিন্তু সেই সঙ্গে দেবতার চিত্ত পায় নি। এই রকম দুর্যোগেই ‘বিমুখ ব্রহ্মাস্ত্র আসি অস্ত্রীকেই
১১২