পারস্য-যাত্রী
কবির সংবর্ধনা-ভোজের অন্তে বুশেয়ারের গবর্নরের
বক্তৃতা
জনাব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রাচ্যাকাশের উজ্জ্বলতম তারা; তাঁর মনীষার দীপ্তি শুধু এসিয়া মহাদেশকে নয়, সমস্ত বিশ্বকে আলোকিত করেছে। আজ যে তিনি পারস্যদেশে পদার্পণ করেছেন, এতে আমাদের দেশ গৌরবান্বিত হল।
পুরাকালে ভারতবর্ষ ও পারস্যদেশ পরস্পরের কাছাকাছি এসেছিল; ধর্ম শিল্প এবং আরও অনেক উপায় অবলম্বন ক’রে তারা পরস্পরকে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই নিবিড় আত্মীয়তায় দুটি দেশেরই প্রচুর লাভ; সেটাকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রকৃষ্ট উপায় হচ্ছে এই মহাপুরুষের আমাদের দেশে পদার্পণ। আজ তাঁর আগমনে সমস্ত ইরান দেশে একটা সাড়া পড়ে গেছে; আমরা সকলেই একান্ত কামনা করি, তাঁর এই ভ্রমণে যেন তিনি আনন্দলাভ করেন; আমাদের মধ্যে যা-কিছু সত্য, যা-কিছু ভালো আছে, আমাদের দেশে ভ্রমণ ও অবস্থান-কালে তাই দিয়ে যেন আমরা তাঁকে খুশি করতে পারি।
কবির উত্তর
চিত্তাসমৃদ্ধ এই প্রাচীন দেশের প্রতি আমি চিরকালই অন্তরে গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করে এসেছি; এই দেশ দেখা এবং এ দেশের অধিবাসীদের পরিচয় লাভ করাটা আমার অনেক দিনের আকাঙ্ক্ষার বিষয় ছিল। বাংলাদেশের কবি আমি আজ ইরানদেশে এসেছি, প্রাণের প্রীতি ও শ্রদ্ধার অর্ঘ্য নিয়ে। দুঃখ এই—আমার এই বৃদ্ধ বয়স ও ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে আমি ইচ্ছামত ঘুরে বেড়াতে পারব না, প্রাণ ভরে এখানকার জীবনযাত্রার নিকটসংস্পর্শে আসতে পারব না। তবুও এটা বলতে পারি যে, এখান থেকে আমি প্রচুর অনুপ্রেরণা ও শাশ্বত মূল্যের অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরব। পারস্যে এসে আপনাদের নিকট যে বিরাট অভ্যর্থনা পেলুম এর জন্য আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি।
—বিচিত্রা, ভাদ্র ১৩৩৯, পৃ ১৬০
১২৪