বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পারস্য যাত্রী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পারস্য-যাত্রী

১৪ এপ্রিল ১৯৩২ তারিখে কবি-কর্তৃক পারস্যসম্রাট রেজা শা ফ্ল পহ্লবীর নিকট
প্রেরিত তারের মর্মানুবাদ

মহারাজ,

 যে উদার আতিথেয়তা আপনার নিকট পেলেম তার জন্যে ইরান থেকে বিদায় নেবার আগে আমার হৃদয়ের কৃতজ্ঞতা আপনার কাছে নিবেদন করি। আপনি আপনার নিজস্ব প্রাণশক্তি দেশের জীবনের মধ্যে সঞ্চারিত করেছেন, আপনার প্রতি আমার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা-অর্ঘ্য রেখে যাই। আপনার প্রজাবর্গের প্রতি আমার অন্তরের প্রীতির নিদর্শনস্বরূপ কয়েকটি কথা বলে আজ বিদায় গ্রহণ করব।

ইরানের বন্ধুবর্গের প্রতি

 আজ শেষ পর্যন্ত তোমাদের কাছে বিদায় নেবার সময় এসেছে; কৃতজ্ঞতায় ভরা আমার এই হৃদয়খানি তোমাদের দেশে রেখে গেলেম। তোমাদের সম্রাট তাঁর সাম্রাজ্যে আমাকে নিমন্ত্রণ ক’রে যে সম্মান দিয়েছেন তোমরা রাজভক্ত প্রজার মতো সেই সম্মানের মর্যাদা রেখেছ এবং তোমাদের চিরাচরিত আতিথেয়তার ইতিহাসবিশ্রুত যশ অম্লান রেখেছ। তোমাদের এই উদার অভ্যর্থনা আমি গ্রহণ করেছি অন্তরের সঙ্গে, বিশেষত যখন এর মধ্যে রয়েছে আমার মাতৃভূমির প্রতি আস্তরিক শ্রদ্ধানিবেদন। যে দুটি জাতির মহাস্থান আজ ভারতবর্ষ ও পারস্য, ইতিহাসের প্রথম যুগে তারা যখন অনাগত ভবিষ্যতের মধ্যে তাদের জয়যাত্রা শুরু করেছিল তখন তারা ছিল এক। কালচক্রে তারা পৃথক হয়ে গড়ে তুলল এসিয়ার দুটি বিরাট সভ্যতা, তার মধ্যে প্রকাশের ভঙ্গিমা বিভিন্ন হলেও অন্তরের তেজ ও প্রাণশক্তি একই রকম। যুগে যুগে তাদের মধ্যে চিন্তাসমৃদ্ধ চিত্তের আদানপ্রদান চলে এসেছে যতদিন না এসিয়া তন্দ্রাবেশে আত্মবিস্তৃত হয়ে পড়ল।

 অবশেষে দেখা গেল নবজাগরণের আলোকরশ্মি। এই মহাদেশের অন্তরের মধ্যে একটা স্পন্দমান জীবনের কম্পন ক্রমেই যেন নিবিড় আত্মোপলব্ধির মধ্যে সুপরিস্ফুট হয়ে উঠছে। এই পুণ্যমুহূর্তে আজ আমি কবি তোমাদের কাছে

১২৫