পাতা:পালামৌ.djvu/৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।




ভূমিকা

 উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্দ্ধে বঙ্গভারতীর একজন কৃতী অথচ অলস ও অসাবধান সাধক বঙ্কিমাগ্রজ সঞ্জীবচন্দ্রের অন্যতম সার্থক এবং সুসমঞ্জস রচনা “পালামৌ”—বস্তুতঃ আধুনিক কাল পর্য্যন্ত তাঁহার সাহিত্যকীর্ত্তি এই “পালামৌ”কে কেন্দ্র করিয়াই প্রতিষ্ঠিত আছে। এই কারণে সঞ্জীবচন্দ্রের এই রচনাটিই আমরা পুনঃপ্রকাশিত করিলাম।

 “পালামৌ” সঞ্জীবচন্দ্র-সম্পাদিত ‘বঙ্গদর্শনে’ সর্ব্বপ্রথম ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। লেখকের আসল নাম ছিল না; “প্র. না. ব.” এই ছদ্ম নাম ব্যবহৃত হইয়াছিল। ১২৮৭ বঙ্গাব্দের পৌষ-সংখ্যায় আরম্ভ, ১২৮৯ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে ‘বঙ্গদর্শনে’ ইহা সমাপ্ত হয়। প্রকাশের ক্রম এইরূপঃ ১২৮৭, পৌষ, পৃ. ৪১২-১৯; ফাল্গুন, পৃ. ৫১৩-১৯; ১২৮৮ আষাঢ়, পৃ. ১৩৫-৩৯; শ্রাবণ, পৃ. ১৬৫-৭১; আশ্বিন, পৃ. ২৮১-৮৬; ১২৮৯, ফাল্গুন, পৃ. ৫১৪-১৭। “পালামৌ” সঞ্জীবচন্দ্রের জীবৎ-কালে স্বতন্ত্র পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয় নাই। তাঁহার মৃত্যুর পর বঙ্কিমচন্দ্র ‘সঞ্জীবনী সুধা’ নাম দিয়ে সঞ্জীবচন্দ্রের রচনার যে সঙ্কলন প্রকাশ করেন, তাহাতেই “পালামৌ” সর্ব্বপ্রথম পুস্তকাকারে মুদ্রণগৌরব লাভ করে। দুঃখের বিষয়, অনবধানবশতঃ ‘সঞ্জীবনী সুধা’তে অনেক মুদ্রাকর-প্রমাদ ঘটিয়া স্থানে স্থানে অর্থ বোইকল্য ঘটিয়াছে এবং যে-কোন কারণেই হোক ‘বঙ্গদর্শনে’ প্রকাশিত সর্ব্বশেষ অংশ স্থান পায় নাই। বসুমতি-সংস্করণ সঞ্জীব-গ্রন্থাবলিতে ‘সঞ্জীবনী সুধা’র পাঠই অনুসৃত হইয়াছে। সুতরাং আমরাই সর্ব্বপ্রথম সম্পূর্ণ “পালামৌ” পুস্তকাকারে প্রকাশ করিলাম, ইহা বলা চলে। আমরা ‘বঙ্গদর্শনে’র পাঠ গ্রহণ করিয়াছি।