(২)
কিন্তু আমরা তাঁদের প্রশংসা না করে থাক্তে পারি না। এরূপ মহাত্মাদের উপদেশ বিশেষ প্রনিধান করে শোনা আবশ্যক এবং যদি তাঁদের কথা যুক্তি সঙ্গত হয় তাহ’লে তাহা সাদরে গ্রহণ করা কর্ত্তব্য।
ভক্তিমন্ত্রই পাদ্রি সাহেবদের প্রধান সম্বল। তাঁরা প্রকারান্তরে বলেন:—“স্বর্গের প্রকৃত পথের সন্ধান আমরা পেয়েছি, আর কেহ পায়নি। এসো ভক্তিভাবে চোখ বুজে আমাদের পশ্চাদগামী হও; তাহলেই স্বর্গ রাজ্য পাবে, উদ্ধার হয়ে যাবে। নচেৎ, অনন্ত নরক ভোগ ছাড়া তোমাদের গতি নাই”।[১] কতক লোকে এ কথা সহজেই মেনে নেবে কিন্তু শিক্ষিত লোকে অনেক স্থলে যুক্তি সঙ্গত না হলে ভক্তি-মন্ত্র নিতে অনিচ্ছুক। তাই আজ কাল অশিক্ষিত ও অসভ্য লোকে যত সহজে খ্রীষ্টান-ধর্ম্ম গ্রহণ করে শিক্ষিত লোকে সেরূপ করে না। ভক্তি-মার্গের গুণগান সকল ধর্ম্মেই করে থাকে। বৌদ্ধ, মুসলমান ও হিন্দু প্রত্যেকেই আপন আপন ধর্ম্মকে ভক্তিভাবে একমাত্র সত্য ধর্ম্ম বলে প্রচার করে। আমরা যদি তাদের কথা নাও মানি তাহ’লে পাদ্রি সাহেবকে জিজ্ঞাসা করতে হয়:—“আমরা কোন্ ধর্ম্মে মুক্তি পাবো, রোমান কাথলিক চর্চ আমাদের মুক্তি দেবে না প্রটেষ্টাণ্ট চর্চ?” রোমান কাথলিক বলবেন:— “আমরাই আদি ও প্রকৃত খ্রীষ্টান প্রভূ যীশু স্বহস্তে তাঁর প্রিয় শিষ্য পীতরের হাতে স্বর্গ দ্বারের চাবি দিয়ে গেছেন। সেই চাবি রোমের পোপেরা যত্নে রক্ষা করে আসচেন। রোমান কাথলিক চার্চ
- ↑ “Faith is the cry of all theologians; believe with us and you will be saved; refuse to believe and you are lost. Yet they know nothing of what belief means. They dogmatize, but they fail to persuade......”—Froude's Short Studies on Great Subjects.