পাতা:পাষাণের কথা.djvu/১৭৮

উইকিসংকলন থেকে
Jump to navigation Jump to search
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
পাষাণের কথা
 

দেবত্ব আরোপণ করিয়াছিল তাহা ব্যতীত অপর প্রস্তরগুলি রজ্জু ও লৌহদণ্ডের সাহাষ্যে স্থানান্তরে লইয়া যাইতে আরম্ভ করিল। এই কার্য্যে দিনের পর দিন অতিবাহিত হইতে লাগিল।

 ক্রমে যে সমস্ত পাষাণখণ্ড যোজনা করিয়া শৈব সন্ন্যাসীর মন্দির নির্ম্মিত হইয়াছিল, তাহা স্থানান্তরিত হইল। একদিন মধ্যাহ্নে শত শত বৎসর পরে তীব্র সূর্য্যালোক আসিয়া আমাকে অন্ধ করিয়া ফেলিল, আমি পুনরায় প্রকাশিত হইলাম। যতদিন দেবাদিদেব মহাদেবরূপে সন্ন্যাসিগণ কর্ত্তৃক পূজিত হইতাম ততদিন দধি, দুগ্ধ, ঘৃত, মধু ও উদকে স্নান করিয়া আমার অঙ্গ মসৃণ হইয়া উঠিয়াছিল, কিন্তু মন্দিরের পতনকালে অগ্নির উত্তাপে এবং পতনশীল পাষাণখণ্ডসমূহের আঘাতে আমার অঙ্গ খণ্ড বিখণ্ড হইয়া গিয়াছিল। যখন জগতে পুনঃ প্রকাশিত হইলাম, তখন আর দেবাদিদেব বলিয়া কেহ আমাকে সম্বোধন করিল না, কিন্তু যে বিরলকেশ শ্বেতাঙ্গ বর্ব্বরগণের কার্য্য পর্য্যবেক্ষণ করিতেছিল, সে ব্যক্তি দর্শন ও স্পর্শমাত্রে আমার প্রাচীনতা অনুভব করিতে পারিয়াছিল। আমাকে দেখিয়া তাহার অজ্ঞাতসারে তাহার মুখ হইতে হর্ষব্যঞ্জক অস্ফুট ধ্বনি নির্গত হইয়াছিল। মাতা যেমন অতি সাবধানে শিশু সন্তানকে ক্রোড়ে উঠাইয়া লইয়া থাকে, শ্বেতাঙ্গের তত্ত্বাবধানে তেমনই সাবধানে বর্ব্বরগণ আমার সহস্র সহস্র বর্ষের বাসস্থান হইতে আমাকে উত্তোলন করিয়া স্থানান্তরে লইয়া গেল। বিরলকেশ শ্বেতাঙ্গ বহুক্ষণ ধরিয়া আমাকে পরীক্ষা করিল, আমাকে দর্শন করিয়া হর্ষে তাহার মুখ প্রফুল্ল হইয়া উঠিল।

 তখন খনিত্র হস্তে বর্ব্বরগণ খনন করিতে আরম্ভ করিল, ধীরে ধীরে সযত্নে ভূগর্ভে সজ্জিত প্রস্তরগুলি দিবালোকে প্রকাশ করিতে লাগিল,

১৬৬