পাতা:পাষাণের কথা.djvu/৬০

উইকিসংকলন থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

পাষণের কথা

ও চিকিৎসক জীবকের উপদেশানুসারে বুদ্ধ-দর্শনে গমন করিয়াছিলেন। রাজা পঞ্চশত স্ত্রী সমভিব্যাহারে হস্তিপৃষ্ঠে রাজগৃহ নগরদ্বার হইতে নির্গত হইতেছেন। চিত্রের নিম্নদেশে হস্তিপৃষ্ঠে পুরুষদ্বয়ের মধ্যে একজন রাজা অজাতশত্রু ও অপর জন হস্তিপক। চিত্রের ঊর্দ্ধদেশে নতজানু পুরুষ রাজা অজাতশত্রু। অপরস্থানে বৃত্তের মধ্যে অনাথপিণ্ডদের জেতবনদানের চিত্র। বৃত্তের মধ্যে বামপার্শে তিনটি বৃক্ষ। তিনটি মনুষ্য ভূমিতে চতুষ্কোণ সুবর্ণমুদ্রা বিস্তৃত করিতেছে, চতুর্থ ব্যক্তি শকট হইতে সুবর্ণ মুদ্রা বহন করিয়া লইয়া যাইতেছে। এক ব্যক্তি একটি বৃক্ষের পার্শ্বে শকটের সম্মুখে দণ্ডায়মান। বৃত্তের দক্ষিণপার্শ্বে দুইটি স্বতন্ত্র গৃহ আছে। তাহাদিগের ব্যবধানে পূর্ণভৃঙ্গার হস্তে এক ব্যক্তি দাঁড়াইয়া আছেন, ইনি শ্রাবস্তী নগরের প্রধান শ্রেষ্ঠী অনাথপিণ্ডদ। অনাথপিণ্ডদের সম্মুখে কতকগুলি পুরুষ দণ্ডায়মান। কথিত আছে, ভগবান শাক্যমুনির জীবনকালে শ্রেষ্ঠী অনাথপিণ্ডদ বুদ্ধদেবের জন্য একটি বিহার নির্ম্মাণে কৃতসঙ্কল্প হইয়া শ্রাবস্তীনগরোপকণ্ঠে উপযুক্ত স্থানের সন্ধান করিতেছিলেন। নগরোপকণ্ঠে কুমারপাদ জেতের উদ্যানবাটিকা তাঁহার দৃষ্টি আকর্ষণ করায় তিনি জেতের নিকট উহার মূল্য জিজ্ঞাসা করেন। জেত বলিয়াছিলেন যে সুবর্ণমুদ্রা কর্ত্তৃক ভূখণ্ড আচ্ছাদন করিয়া দিলে তিনি উদ্যান বিক্রয়ে প্রস্তুত আছেন। তদনুসারে অনাগপিণ্ডদ কোটি সুবর্ণমুদ্রা ব্যয় করিয়া অধিকাংশ ভূমি আচ্ছাদন করিলে জেত অবশিষ্ট ভূমি বিনামূল্যে প্রদান করেন। অনাথপিণ্ডদ জলধারা ভূমিতে নিক্ষেপ করিয়া বৌদ্ধসঙ্ঘের নামে উদ্যান উৎসর্গ করিয়াছিলেন। চিত্রে যে দুইটি গৃহ আছে তাহা গন্ধকূটি ও কোশম্বকূটি নামে আখ্যাত। যতদিন সদ্ধর্ম্মের মহিমা অম্লান থাকিবে ততদিন

৪৮