পাতা:পাষাণের কথা.djvu/৮৭

উইকিসংকলন থেকে
Jump to navigation Jump to search
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পাষাণের কথা

চিনিতে পারিলাম, দূর হইতে তাহাদিগের ভাষা বুঝিতে পারিলাম; তাহরাও আমাদিগের ন্যায় রক্তবর্ণ পাষাণ। সমুদ্রগর্ভে একদিনে এক সময়ে উৎপন্ন, বহুকাল একত্র পর্ব্বতের সানুদেশে বাস করিয়াছি, তাহারা আমদিগেরই, নূতন নহে। তাহারা বলিল যে, আমরা চলিয়া আসিবার পর বিদীর্ণবক্ষ অল্প সময়ের মধ্যেই বনরাজীতে আচ্ছাদিত হইয়া গিয়াছিল, বহুকাল আর কেহ তাহাদিগের অঙ্গে আঘাত করে নাই। কখনও কখনও দুই চারিজন মনুষ্য আসিয়া তাহাদিগের অঙ্গভেদ করিয়াছিল বটে, কিন্তু তাহারা অধিক আঘাত করে নাই। কেহ কেহ আঘাত করিয়া পাষাণ লাভে সফলকাম হইত। কেহ বা হতাশমনে গৃহে প্রত্যাগমন করিত। অল্পদিন পূর্ব্বে মেষচর্ম্মাবৃত কয়েকজন মনুষ্য পর্ব্বতশিখর হইতে অবরোহণ করিয়া পাষাণের অবস্থা নির্ণয় করিয়া গিয়াছিল, ইহার কয়েক দিবস পরে মনুষ্যগণ আসিয়া তাহাদিগকে লইয়া আসিয়াছে। মনুষ্যগণ আমাদিগকে যে ভাবে ছেদন করিয়াছিল, যে নগরে আনয়ন করিয়াছিল ও যে ভাবে রক্ষণ করিয়াছিল, ইহাদিগকেও তদ্রূপ করিয়াছিল, তবে ইহারা ব্রাহ্মণগণ বা সদ্ধর্ম্মের অপর কোনও শত্রুর নিকট হইতে কোনরূপে বাধাপ্রাপ্ত বা ক্ষতি গ্রস্ত হয় নাই। আমরা অনুমান করিলাম, সদ্ধর্ম্মের চিরশত্রু ব্রাহ্মণগণ মহাকোশল হইতে দূরীভূত হইয়াছে। নূতন পাষাণে স্তূপের ও বেষ্টনীর সংস্কার আরদ্ধ হইল, সপ্তচ্ছত্র-মণ্ডিত স্তূপশীর্ষ আবার গগন স্পর্শ করিল, ভগ্ন বা বিদীর্ণ প্রস্তর খণ্ডের পরিবর্ত্তে নূতন প্রস্তর যোজিত হইল, স্বস্থানচ্যুত পাষাণ যথাস্থানে প্রতিস্থাপিত হইল, স্তূপের ও বেষ্টনীর শোভা আবার যেন ফিরিয়া আসিল। জীর্ণসংস্কার কার্য্য কতদূর অগ্রসর হইল তাহা জানিবার জন্য সুদূর মথুরা হইতে শকসম্রাট চর প্রেরণ করিতেন, উজ্জ্বল বর্ম্মাবৃত সকোণ শিরস্ত্রাণ পরিহিত স্বল্পশ্মশ্রু শকজাতীয় অশ্বারোহিগণ ক্ষুদ্র-

৭৫