পাতা:পাষাণের কথা.djvu/৯১

উইকিসংকলন থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পাষাণের কথা

করিয়া তাহারা বহুদুরে চলিয়া যাইতে পারে। শকসৈন্যের মধ্যে দরদজাতি ব্যতীত অপর কোনও জাতি চরের কার্য্য করিতে পারে না। ক্ষুদ্র ভিক্ষুসঙ্ঘে এইরূপ কত কথাই হইত, আমরা শুনিয়া যাইতাম ও প্রথম উৎসবের কথা ভাবিতাম।

 পঙ্গপালের ন্যায় শ্রমজীবিগণ আসিয়া বিশাল অরণ্যের বৃক্ষসমূহ নির্ম্মূল করিল। একদিন দূরে উচ্চ মৃৎপিণ্ড দৃষ্ট হইল, কে যেন আমাদিগকে বলিয়া দিল, সেই নগর—যে নগরের অধিবাসী আমাদিগকে পর্ব্বতের সানুদেশের শয্যা হইতে উঠাইয়া লইয়া আসিয়াছিল। যে নগরবাসীরা তথাগতের শরীর স্তূপগর্ভে স্থাপন করিয়াছিল, তাহাদিগের বহুযত্নের, বহুশ্রমের নগর মৃৎপিণ্ডে পরিণত হইয়াছে! যে ভীষণ দর্শন বিশালতোরণ পথে আমরা নগরমধ্য হইতে প্রান্তরে আনীত হইয়াছিলাম, সে তোরণের চিহ্ণ মাত্র নাই, বৃহৎ মৃৎপিণ্ডের উপরে কে যেন দুইটি ক্ষুদ্র মৃৎপিণ্ড স্থাপন করিয়াছে, কে যেন আমাদিগকে বলিয়া দিল, উহাই বিশাল তোরণের ধ্বংশাবশেষ। ভুলি নাই, বিশাল আয়োজনের কলরবের মধ্যেও দেখিতে পাইলাম তোরণ হইতে যেন দেবযাত্রা নির্গত হইতেছে; মনে পড়িল, কালভারাবনত দেহ মহাস্থবির, চিরস্মরণীয় পৌরববংশজ সিংহদত্ত, আর ধনভূতি। সিংহদত্তের ভবিষ্যৎবাণী সফল হইয়াছে, বর্ষাগমে সিন্ধুনদের প্লাবনে তৃণমুষ্টির ন্যায় আর্য্যাবর্ত্তের দেশীয় ও বিদেশীয় রাজগণ শকজাতির সম্মুখে ভাসিয়া গিয়াছে; আর্য্যাবর্ত্তের পূর্ব্বসীমান্তে জলপথাবৃত সমতটেও শকসম্রাটের শক্তি অনুভূত হইয়াছে। সুদীর্ঘহস্তে কণিষ্ক রাজদণ্ড ধারণ করিয়াছেন। চিরতুষারাবৃত কুরুবর্ষের উত্তর মরু হইতে বাবিরুষ ও মিজ্রাইমের পণ্যবাহী ভৃগুকচ্ছ পর্য্যন্ত রাজার অঙ্গুলী হেলনে কম্পিত হইতেছে। দূরদর্শী পৌরর সত্য বলিয়াছিলেন, সদ্ধর্ম্মেরও দিন ফিরিয়াছে, নতুবা

৭৯