পাতা:পাষাণের কথা.djvu/৯২

উইকিসংকলন থেকে
Jump to navigation Jump to search
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পাষাণের কথা

এই শ্বাপদসঙ্কুল অরণ্য ভেদ করিয়া পাৰ্ব্বত্য প্রদেশ হইতে পথ প্রদর্শক আনিয়া শকরাজপুরুষ তথাগতের শরীর গর্ভের অনুসন্ধানে আসিবে কেন?

 যাহারা সম্রাটের অভ্যর্থনার উদ্যোগ করিতেছিল, তাহারা অরণ্যের বৃক্ষরাজি নিৰ্ম্মূল করিয়া সেই কাষ্ঠে নগর নিৰ্ম্মাণ করিয়াছিল; সেই দারুনিৰ্ম্মিত নগরের কয়েক খণ্ড পাইয়া স্থির করিয়া রাখিয়াছ যে, প্রাচীনকালে প্রস্তর শিল্প ছিল না। সকলেই চিরক্ষুণ্ণমার্গ অনুসরণ করিয়া চলিয়াছে; জানিয়া রাখিয়াছ, এই একমাত্র পথ। পথিপার্শ্বে বনান্তরালে যে উদ্দিষ্ট শত্রু লুক্কায়িত থাকিতে পারে, তাহা ভাব নাই। স্তূপের পার্শ্বে কারুকার্য্যশোভিত কাষ্ঠখণ্ড পাইয়া স্থির করিয়াছ, পাষাণনিৰ্ম্মিত স্তূপের পূৰ্ব্বে এই স্থানে দারুনিৰ্ম্মিত স্তূপ ছিল, কিন্তু এ কথা কেহ কখনও কোথাও স্বপ্নেও ভাব নাই যে, স্তূপে আগত তীর্থযাত্রীর জন্য দারুনিৰ্ম্মিত প্রাসাদ নিৰ্ম্মিত হইতে পারে, তোমাদিগের জন্য অতীতকাল স্তরে স্তরে ধ্বংসাবশেষ সাজাইয়া রাখে নাই, প্রকৃতির আলোড়নে ঊর্দ্ধের স্তর নিম্নে গিয়াছে, নিম্নের স্তর ঊর্দ্ধে আসিয়াছে, মধ্যের স্তরগুলি অপর দেশে চলিয়া গিয়াছে। অতীতের গতি নিরূপণ করিবার জন্য যে বিশ্লেষণ শক্তির আবশ্যক তাহা সকলের থাকে না, তাহা বহুশিক্ষার ফল, গুরুপরম্পরায় শিক্ষার ফল, একদিনে তাহার লাভ হয় না। শ্বেতাঙ্গ রাজপুরুষ স্তূপের দক্ষিণ-তোরণের সান্নিধ্যে কূপ খননকালে কারুকাৰ্য্য শোভিত যে কাষ্ঠখণ্ড পাইয়াছিলেন, তাহ প্রস্তর শিল্পের পূর্ববৰ্ত্তী যুগের নহে, তাহা শকাধিকার কালের। ইহা শুনিয়া আশ্চৰ্য্যান্বিত হইওনা। আমি অতীত যুগের সাক্ষী, আমার কথা মানিয়া লইও। আমার যদি সময় নিরূপণ করিবার ক্ষমতা থাকিত তাহা হইলে আমি

৮০