স। চাঁদবদন দেখিতে কাহার না সাধ বল? চাকরি গুখুরি, ছুটি না পাইলে কি করিব বল?
নি। (সদানন্দকে) ওকালতি কর না কেন?
চা। (পরমানন্দকে) চাকরি বড়, কি দিদি বড়, যে রকম গতিক, আর কিছুদিন না আসিলে, বোধ হয় আর দিদিকে দেখিতে পাইতে না।
স। (পরমানন্দকে) আমাদের শ্বশুর একজন বড় সাধক, ধার্ম্মিক পুরুষ।
প। তাহা আর কি একবার? উনি সন্ধ্যাহ্লিকের সময় পেটের ভিতর হইতে নাড়ি বাহির করিয়া ধৌত করিয়া শুদ্ধ হয়েন।
স। বটে!
অনন্তর সদানন্দ ও পরমানন্দ পৃথক পৃথক ঘরে বিশ্রামার্থ গমন করিলেন। তখন নিস্তারিণী হাসিতে হাসিতে চারুশীলাকে কহিলেন, “বাবা তোমার পূজা করিতেছিলেন, সদানন্দ দেখিয়াছে ত?”
চারুশীলা। হাঁ কতক কতক দেখিয়াছে, কিন্তু ওটা মেড়াকান্ত, কিছুই বুঝিতে পারে না!
নিস্তারিণী। পুরুষ মাত্রেই এইরূপ।
চা। আমার মনে বড় ভয় হয়েছিল, কিন্তু পরক্ষণেই সামলাইয়া লইলাম।
নি। সাবাস মেয়ে মানুষ, তোকে বলিহারি!
চা। আমি সাবাস নহি, সাবাস তোমার বাবা।
নি। সে যাহা হউক, এখন তুমি ঠাকুর জামাইয়ের কাছে যাও।
চা। তুমি বুঝি কিছু জান না, মাঝের মাছখানি। তুমিও তবে একবার পরমানন্দের ঘরে যাইয়া পরমানন্দ ভোগ কর।
নি। আমার এখন অনেক কাজ।
“তাহা জানি।” এই বলিয়া চারুশীলা হাসিতে হাসিতে তথা হইতে প্রস্থান করতঃ সদানন্দের গৃহমধ্যে প্রবেশ করিলেন। নিস্তারিণী একাকী সেই ঘরে রহিলেন, এবং কত কি ভাবিতে লাগিলেন। চিন্তার পর চিত্তা তাহার হৃদয় আন্দোলিত করিতে লাগিল। বোধ হয়, নিস্তারিণী এবার বুঝি চিন্তাস্রোতে