বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাসী বাঙ্গালী - গিরিজাভূষণ ভট্টাচার্য (১৮৮৮).pdf/২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভূমিকা।

 বড় অধিক দিনের কথা নহে—এমন দিন ছিল যে, কোন বাঙ্গালী তীর্থযাত্রায় বাহির হইলে, বাটীতে কান্নাহাটী পড়িয়া যাইত। তীর্থযাত্রী ও ভাবিতেন যে, তিনিও বুঝি জন্মের সাধ আত্মীয় স্বজনদিগকে দেখিয়া চলিলেন। তীর্থযাত্রা ভিন্ন কোন বাঙ্গালীই সহজে গ্রাম ছাড়িয়া বিদেশে যাইতে চাহিতেন না,—যাইতেনও না। কিন্তু এখন?—এখন হিমালয় হইতে কন্যাকুমারী পর্য্যন্ত—কোয়েটা হইতে ভামো পর্যন্ত “বাঙ্গালী বাবু” বিরাজমান। এখন যেখানে যাও, সেই খানেই দেখিবে, বাঙ্গালী বাবু হয় আফিষের ডেস্কে কলম পিশিতেছেন, নয় তারের ঘরে হাতল নাড়িতেছেন, নয় সবুজ ফ্ল্যাগ উড়াইয়া লোহার রথ ছুটাইতেছেন, নয় হাসপাতাল আলো করিয়া পূঁয রক্ত ঘাঁটিতেছেন, নয় এজলাসে বসিয়া ডিক্রি ডিসমিস দিতেছেন, নয় সামনা মাথায় বক্তৃতা জুড়িয়া মক্কেলের টাকার মান রাখিতেছেন, নয় ক্ল্যাসে ছেলে ঠেঙ্গাইতেছেন, নয় কুলী খাটাইয়া চুক্তিদারী করিতেছেন। লক্ষণটা ভাল।

 এ সব অঞ্চলে ইংরাজের নীচেই বাঙ্গালী বাবুর মান। তবে আগে যতটা ছিল, এখন ততটা নাই। বাবুরা নিজের দোষেই মান হারাইতেছেন। প্রথম প্রথম প্রকৃত হিন্দু বাঙ্গালীরা এ সব অঞ্চলে আসিয়াছিলেন, বিলাতী সভ্যতায় তাঁহারা আচারভ্রষ্ট ছিলেন না, কাজেই এসব অঞ্চলের লোকেরা তাঁহাদিগকে যেমন মান্য করিত, সেইমত ভক্তিও করিত। এখনকার বাবুবংশধরগণ বিলাতী শিক্ষা-সভ্যতায় একে অন্ধ, তাহাতে জাতীয় ধর্ম্মকর্ম্মে আদৌ মতি নাই, তাহার উপর সমাজশাসন ভয় নাই, কাজেই ইহারা সৃষ্টিছাড়া যথেচ্ছ রীতিনীতি চালাইয়া আপনারা যেমন স্থানীয় অধিবাসীসাধারণের ঘৃণার পাত্র হইতেছেন, সেইমত আপনাদিগের মুক্তির দ্বার আপনারাই পাথর দিয়া বুজাইতেছেন।

 সামাজিক শাসন এবং সামাজিক দণ্ড না থাকিলে, মানুষ সহজেই যথেচ্ছাচার, অনাচার এবং পাপাচারে মত্ত হয়। এ সব অঞ্চলে সমাজ নাই, সমাজ ভয় নাই, কাজেই এখানে অনেক বাবুকে এরূপ পৈশাচিক এবং নারকী লীলা করিতে দেখা যায় যে, স্মরণ করিলে, বোধ হয় না যে, তাঁহারা হিন্দুর