বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাসী বাঙ্গালী - গিরিজাভূষণ ভট্টাচার্য (১৮৮৮).pdf/৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অপূর্ব্ব রহস্য!

 সদানন্দের স্ত্রীর নাম চারুশীলা। চারুশীলা ক্রোধভরে কহিলেন, “ব্যাপার আর কি, তুমি কি চোখের মাথা খাইয়াছ?”

 সদানন্দ। রাগ কর কেন, আমি কি কিছু মন্দ বলিতেছি?

 চারুশীলা। রাগ করিব না, রাগের কাজ করিলেই রাগ করিতে হয়। আমি যে বড় ভাল মেয়ে, অন্য কেহ হইলে তোমাকে টের পাওয়াত।

 স। কেন? আমার অপরাধ?

 চা। আবার মুখ তুলে কথা কহিতেছ, বলি, এতদিন কোথায় ছিলে?

 স। ছুটি পাই নি বলে আসিতে পারি নাই।

 চা। সে যাহা হউক, তোমার কি কাণ্ডাকাণ্ড জ্ঞান নাই? কাকাকে যাহা ইচ্ছা, তাহাই বলিলে। কাকা আর বাবা কি ভিন্ন? তুমি কি শোননি, কাকা ত মানুষ নন, উনি দেবতা। সে দিন দেখিতে দেখিতে একটা কুষ্ঠরোগীকে আরাম করিলেন। আবার পরশ্ব রাস্তায় কাকাকে কে গালি দিয়াছিল, সেই জন্য কাকা যেমন তার নামে স্বস্ত্যয়ন করিলেন, অমনি সে পটল তুলিল। তোমার জন্য আমার বড় ভাবনা হইয়াছে।

 স। (হাস্য পূর্ব্বক) স্বস্ত্যয়ন করিলে না কি মানুষ মরে!

 চা। তুমি বিশ্বাস না করিতে পার, কিন্তু আমার চক্ষের দেখা।

 একে রমণী, তাহাতে যুবতী, তাহার কথায় অবিশ্বাস করিলে, বাবু নামে কলঙ্ক স্পর্শিতে পারে; কাজে কাজেই সদানন্দ বাবু, চারুশীলার সমস্ত কথা বিশ্বাস করিলেন, এবং একটু ভীত হইয়া কহিলেন, “এখন উপায় কি?”

 চারুশীলা সহাস্যবদনে কহিলেন, “কোন ভয় নাই। কাকা মেয়ের অপেক্ষা আমাকে অধিক ভাল বাসেন, এবং আমার খাতিরে তোমাকে যথেষ্ট স্নেহ করেন। তুমি উহাকে একটু ভক্তি করিও। দেখ, আমি কাকার হাতে পায়ে ধরিয়া তোমার যাহাতে ভাল চাকরি হয়, তজ্জন্য স্বস্ত্যয়ন করাইব, আর উনি স্বস্ত্যয়ন করিলে, তাহা অব্যর্থ।

 সদানন্দ একেবারে গলিয়া গেলেন, এবং স্ত্রীকে দৃঢ়রূপে আলিঙ্গনদান পূর্ব্বক কহিলেন, “প্রিয়তমে! তোমার শ্রীচরণে আমি চিরবাধিত থাকিলাম।” উত্তরের প্রতীক্ষা না করিয়াই সদানন্দ সেই যুবতীরত্নের চারুচন্দ্রবদন বারম্বার চুম্বন পূর্ব্বক কহিলেন, “হৃদয়েশ্বরি! তুমিই আমার সর্ব্বস্ব, তুমি ভিন্ন আর