পাতা:প্রবাসী (ঊনত্রিংশ ভাগ, দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ᎼᎽb~ প্রবাসী—কাত্তিক, ১৩৩৬ [२>* छांनं, २ ब्र थ७ হইত তৎসম্বন্ধে প্রথম জ্ঞান পাই, এবং এই সম্বন্ধে কৌতুহলও খুব হয় ; সঙ্গে সঙ্গে ইহাও জানিবার ইচ্ছা হয় আমাদের দেশে বৰ্ম্ম ছিল কিনা, এবং কি-রকম ছিল। ওয়াই-এমূ-সী-এ বালক-বিভাগের সদস্ত ছিলাম, পাদ্রি আর্থার লি-ফেডর সাহেব তখন ছিলেন তাহার পরিচালক, এ সম্বন্ধে তাহাকে প্রশ্ন করি। তিনি বলেন, “হা, ছিল বৈ কি—লোহার জিঞ্জির বা শিকলের বর্শ এদেশে পরিত, আবার তাহার উপরে লোহার পাতের বর্শ্ব পরারও রেওয়াজ ছিল—মিউজিয়মে গেলে দেখিতে পাইবে।” তাহার কথায় মিউজিয়মে গিয়া যখন সত্য-সতাই জিঞ্জিরের সাজোয়া দেখিয়া আসিলাম—তখন কত না আনন্দ হইল ! চোখের সাম্নে কত হলীঘাটের, ফতেপুর সিক্রীর, পানিপথের যুদ্ধের ছবি ভাসিয়া উঠিতে লাগিল, মিউজিয়মের আলমারীর ভিতরের বর্ণ পরিয়া কত রাজপুত আর মোগল সওয়ারের ঘোড়া ছুটাইয়া গমন চোখের সামনে যেন ফুটিতে লাগিল—সোনা-রূপার কাজ করা লোহার শিকলের সানা বা বশ্বের ঝনঝন শব্দ ঘোড়ার টপকের ধ্বনির সহিত মিশিয়া যেন কানে বাজিতে লাগিল । এক আইভানহো বইয়ের ছবি, বৰ্ম্ম-সম্বন্ধে এই কৌতুহলের উদ্রেক করিয়াছিল। ঐতিহাসিক ঘটনা বা ব্যক্তিকে সজীব করিয়া ধরিতে পারে ছবি এবং নাটক। র্যাহারা ছবি জাকেন বা নাটকের সজা করেন, এ বিষয়ে জনসাধারণের প্রতি র্তাহাদের কৰ্ত্তব্য আছে। ঐতিহাসিক ছবির বা নাটকের পাত্র-পাত্রীর পোষাক ও অলঙ্কার আদি এবং তাহাদের গৃহসজ্জা প্রভৃতি দেশ ও কালের অনুরূপ হওয়া উচিত। এই রূপটা হইলেই, সাধারণ ছবি ও নাটক ঐতিহাসিক পারিপাশ্বিক বিষয়ে লোক-শিক্ষার সাধন হুইয়া উঠে। বাঙ্গালী চিত্রকরদের অনেকেই এ বিষয়ে এখন একটু অবহিত হইয়াছেন, বঙ্গীয় নাট্যশালায়ও লোকের মনোভাব কিছু কিছু এ সম্বন্ধে বদলাইতেছে। কিন্তু ছবিতে ও নাটকে এখনও অনেক হাস্যকর ভুল দেখা যায়। এক মফস্বল শহরে ডি-এলরায়ের “চন্দ্রগুপ্ত” অভিনয়ে দেখিয়াছিলাম, সেলেউকাসকস্তা হেলেন আসিলেন, গাউন পরা, পায়ে চাপলি জুতা (গ্ৰীক বলিয়া ! ), নাকে টিপ-কলে-জাট চশমা, হাতে বাজু-ঘড়ী—শিক্ষিতা ইউরোপীয় মেয়ে কিনা ! *সিরাজুদ্দৌলা” নাটকে ক্লাইব আসিলেন, হাল ফ্যাশানের ইংরেজী পোষাক পরিম্বা ; প্রতাপাদিত্য নাটকে রড। ফিরিঙ্গ দেখা দিল, খাকীর হাফপ্যান্ট পরা। অত দূরের কথায় গিয়া কাজ নাই, ঘরের খবরই আমাদের এত কম জানা আছে, আমাদের নিজেদেরই দূর বা নিকট পুৰ্ব্বপুরুষদের পোষাক-পরিচ্ছদ ধরণ-ধারণ আমরা এতটা কম জানি যে, অনেক সময়ে যে সব সাজ-সজ্জায় র্তাহাদের আমরা ভূষিত করি তাহ দেখিয়া আমাদের অজ্ঞতায় লজ্জিত হওয়া উচিত। আধুনিক বাঙ্গালী ভদ্রলোকের ধুতী পাঞ্জাবীতে আমরা অম্লান-বদনে শ্ৰীমন্ত সদাগরকে ভূষিত করি, যে-যুগের বাঙ্গালীর পরিধেয় সম্বন্ধে প্রাচীন বাঙ্গালী কবি বর্ণনা করিয়া-গিয়াছেন যে তিন খণ্ড বস্ত্রে ভদ্র পরিচ্ছদ হইত—“এক খান কাছিয়া পিন্ধে, আর খান মাথায় বান্ধে, আর খান দিল সৰ্ব্ব গায় ।” গিরিশচন্দ্রের "প্ৰফুল্ল” নাটকের রমেশকে আমরা টিপ-কলে নাকে-ক্সাটা চশমা আর তার সঙ্গে মোট কালে ফিতা পরাই। লোকে যে এ সব জিনিস সহিয়া যায়, কিছু তাহাদের চোখে বাধে না, ইহার জন্য যে হাস্যরসের উদ্রেক হয় না—কেবল অসম্পূর্ণ শিক্ষাই ইহার মূল। আমাদের ভারতবর্ষের বা কেবল এই বাঙ্গালা দেশের প্রাচীন পোষাকও বিভিন্ন যুগে কি ছিল, ইহা একটা অতি আবশ্যকীয় মৌলিক গবেষণার বিযয়—বাঙ্গালা অক্ষরের পরিণতি কি করিয়া হইল, বা বাঙ্গালা দেশের বাস্তু-শিল্প, বা ভাস্কৰ্য্য, বা চিত্রাঙ্কনের উৎপত্তি ও বিকাশ কেমন ভাবে হইল, এইরূপ বিষয় অপেক্ষ এই পরিধেয়-সম্বন্ধে গবেষণা কোনও অংশে লঘু নহে। বাঙ্গালা ও অন্ত প্রাচীন সাহিত্য এবং প্রাচীন শিল্পের নিদর্শন, এই দুইটা বিষয় এই কার্ধ্যের জন্য মুখ্য উপজীব্য হইবে। এতদ্ভিন্ন ভারতবর্ষে আগত বিদেশী লোকেদের লেখা বর্ণনায় বা যেখানে পাওয়া যায় তাহাজের আঁকা ছবিতে এ সম্বন্ধেও কিছু কিছু তথ্য পাওয়া যাইবে। এই বিষয়ে যতটুকু জানিতে পারিবার ততটুকু জানিতে পারিলে, প্রাচীন বা আধুনিক যুগের সাহিত্য ও সাধারণ সংস্কৃতিকে