পাতা:প্রবাসী (ঊনত্রিংশ ভাগ, দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


3२रै প্রবাসী— কাৰ্ত্তিক, ১৩৩৬ [ ২৯শ ভাগ, ২য় খণ্ড যেতাম। আমার নূতন দেশ দেখতে একটুও ইচ্ছে করছে না।” জয়ন্তী বলিল, “এখন বলছ বটে, একথা । পরে হয়ত ও দেশ ছেড়ে আর আসতেই চাইবে না ।” গাড়ী ছাড়িয়া দিল, এবং আল্লক্ষণ পরেই উট্রাম ঘাটে আসিয়া উপস্থিত হইল। সেখানে সৰ্ব্বদাই দারুণ ভীড় । ভারতবর্ষের সকল জাতির লোকই মোট-ঘাট বাধিয়া চলিয়াছে। ইউরোপীয় এবং ফিরিঙ্গীরও অভাব নাই। মায়া আরো বিচলিত হইয়া উঠিল। সবলে ইন্দুর হাত চাপিয়া ধরিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “পিসীম, এই সব মুসলমান, সাহেব যেম, এদেরই সঙ্গে আমাদের যেতে হবে নাকি ? মাগো, কি করে পারব ?” ইন্দু হাসিয়া বলিল, “না রে পাগলি, ওদের সঙ্গে যাব কেন ? আমাদের জন্তে আলাদা ঘর নেওয়া হয়েছে না ?” ডেকের যাত্রীরা তখনও কাঠগড়ায় বন্দী অবস্থায় ঠেলাঠেলি করিতেছে। ডাক্তার তাহাদিগকে পরীক্ষা করিয়া যাইবার অল্পমতি দিলে পর তাহারা জাহাজে উঠিতে পাইবে । সম্প্রতি প্রত্যেকেই পোটলা-পুটলি লইয়া রেলিংএর সামনের স্থানটি দখল করিবার জন্য যুঝিতেছে। খোলা পাইলেই দৌড়িয়া ডেকে উঠিয়া ভাল জায়গা দখল করিয়া বসিতে পাইবে। একজন ফিলিঙ্গী মেম অগ্রসর হইয়া নিরঞ্জনকে ইংরেজীতে জিজ্ঞাসা করিল, “এই মহিলারা কি রেজুন যাইতেছেন ?” নিরঞ্জন বলিলেন, “ই।” মেম প্রথমে ইন্দুর হাত ধরিয়া নাড়ী পরীক্ষা করিল। এক সেকেণ্ডও লাগিল না, জিজ্ঞাসা করিল, “ভবিষ্কৃৎ আচ্ছা হায় ?” ইন্দু হাসিয়া ইসারায় জানাইল, তাহার তৰিয়ৎ আচ্ছাই বটে। হিন্দী বুঝিতে পারলেও, বলিতে তাহার বাধ বাধ লাগিত । cभभ बॉब्रांब. झांड शब्रिटङ भाहेबांयांब cन ७८कयाद्ब्र স্বাৎকাইয়া উঠিল। বলিল, “ও পিসীমা, ছুয়ে দিচ্ছে ষে ? আবার ত নাইতে হবে । জাহাজে ভাল জল কোথা পাৰ ?” . নিরঞ্জন একটু যেন বিরক্ত হইয়া বলিলেন, “aাহাজে গঙ্গার জল যত চাও, তত পাবে, ভাবনা নেই । ছোট থাট জিনিষ নিয়ে অত গোলমাল কোরো না ।” মায়া ভয়ে চুপ করিয়া গেল। লেডী ডাক্তার তখন অন্ত যাত্রিনীদের পরীক্ষা করিতে চলিয়া গেল । ইতিমধ্যে জাহাজে উঠিবার ঘণ্টা পড়িয়া গেল। হুড়াছড়ি গোলমালের মধ্যে নিরঞ্জন কোনো প্রকারে ভগিনী এবং কঙ্কাকে লইয়া উপরে উঠিয়া গেলেন ; এবং বয়দের সাহায্যে কেবিন খুজিয়া লইয়। তাছাদের বসাইয়া আসিলেন। তাহার পর একটু নিশ্চিন্ত হইয়। জিনিষপত্রের তত্ত্বাবধান, নিজের জায়গার সন্ধান প্রভৃতি করিতে গেলেন । মায়া কেবিনে ঢুকিয়াই বলিল, “ও পিসীম, কতটুকু ঘর, মা গে। এর ভিতর তিন দিন থাকতে হবে ? কই স্বান টান করবার ত কোনো জায়গা নেই?" জাহাজের কাগুকারখানা ইন্দুর ও জানা ছিল না। সে বলিল, “দাড়া, মেজদ। আমুক, সব জেনে নেব। আমার জিনিষপত্রগুলো এখনও ত দিয়ে গেল না। ঘড়ার জলটলগুলো না ফেলে দিলে বাচি।” জিনিষপত্র শীঘ্রই নিরাপদে আসিয়া পৌছিল। নিরঞ্জন বলিলেন, “সব দেখে শুনে নে রে। সব ঠিক আছে ত ? জাহাজ ছাড়তে আর বেশী দেরি নেই।” ইন্দু এবং মায়া সব জিনিষপত্র মিলাইয়া লইল। তখন নিরঞ্জন বলিলেন, “দাদা, জয়ন্তী ওরা সব এখনো দাড়িয়ে আছে। ডেকে গিয়ে একবার দেখবি নাকি ?” মায়ার বিশেষ ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু ইন্দু রাজী হওয়াতে সেও অগত্যা সঙ্গে সঙ্গে চলিল। ডেকের উপর তখন বিষম ভীড় । সকলেই দাড়াইয়া নিজের নিজের আত্মীয়স্বজনের কাছে বিদায় লইতেছে। কত ভাষায় কত কথা যে শুনা যাইতেছে তাঁহার ঠিকানাই নাই। মনোরঞ্জন তখনও ছেলেমেয়েদের লইয়া ঘাটের উপর তলায় অপেক্ষা করিতেছিলেন। কথা বলিবার চেষ্টা করা বৃথা, কিছুই প্রায় শোনা যায় না। তৰু ভগিনীর দিকে তাকাইয়া, হাসিয়া দ,ড়াইয়া রহিলেন। জাহাজ ছাড়িতে আর বেশী দেরি ছিল না । ভাঙার