পাতা:প্রবাসী (ঊনত্রিংশ ভাগ, দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১ম সংখ্যা ] প্রধান কৰ্ম্মচারীদিগকে নিমন্ত্ৰণ করিয়া খাওয়াইলেন ; র্তাহার মাতা স্বহস্তে অতিথিদের জন্ত রান্না করিলেন। ভোজশেষে নানা উপহার পাইয়া মারাঠারা বাসায় ফিরিল । তাহার পর কাজের কথা আরম্ভ হইল। অনেক আলোচনার পর শিবাজীর সহিত এই শর্তে সন্ধি হইল :– কুতুব শাহ দৈনিক পনের হাজার টাকা এবং নিজ সেনাপতি মীরজা মহম্মদ আমিনের অধীনে পাচ হাজার সৈন্ত, কতকগুলি তোপ এবং গোল বারুদ দিয়া শিবাজীকে কর্ণাটক-জয়ে সাহায্য করিবেন। শিবাজী প্রতিজ্ঞা করিলেন, কর্ণাটকের যে-যে অংশ তাহার পিতা শাহজীর ছিল তাহা বাদে জয় করা সমস্ত দেশ কুতুব শাহকে দিবেন। এ ছাড়া তিনি কুতুব শাহের সম্মুখে ধৰ্ম্ম-শপথ করিয়া বলিলেন যে মুঘলেরা আক্রমণ করিলেই তিনি গোলকুণ্ডা-রাজ্য রক্ষা করিতে ছুটিয়া আসিবেন । তজ্জন্ত কুতুব শাহ পূর্ব প্রতিশ্রুতি-মত বাধিক কর পাচ লক্ষ টাকা নিয়মিতভাবে দিতে থাকিবেন বলিয়া আশ্বাস দিলেন । গোপনে এই সব মন্ত্রণা ও বন্দোবস্ত চলিতে লাগিল, আর বাহিরে আমোদ-প্রমোদ তামাশা ও ভোজে মারাঠা এবং নগরবাসীদের সময় মুখে কাটিতে লাগিল। শিবাজী দ্বিতীয়বার কুতুব শাহের সহিত দেখা করিলেন ; দুই , রাজা প্রাসাদের বারান্দায় পাশাপাশি বসিলেন, আর সমস্ত মারাঠ-সৈন্ত কুচ করিয়া তাহাদের সামনে দিয়া চলিল ; গোলকুণ্ডার স্বলতান তাহাদের নানা উপহার দিলেন। শিবাজীর ঘোড়াকে পৰ্য্যন্ত একটি মণি ও হীরার মালা গলায় পরাইয়া দেওয়া হইল, কারণ সে-ও তাহার যুদ্ধজয়ে সঙ্গী ছিল ! আর একদিন কুতুব শাহ জিজ্ঞাসা করিলেন, “আপনার কয় শত হাতী আছে ?” শিবাজী তাহার হাজার হাঙ্গার মাবলে পদাতিক সৈন্ত দেখাইয়া দিয়া বলিলেন, “ইহারাই আমার হাতী।” তখন স্বলতানের একটি প্রকাগু মত্ত হস্তীর সহিত মাবলে সেনাপতি যেসাজী কঙ্ক তরবারি লইয়া যুদ্ধ করিলেন, এবং উহাকে কিছুক্ষণ ঠেকাইয় শিবাজীর দক্ষিণ-বিজয় G. উজীর মাদল্লী পণ্ডিত পরদিন শিবাজী ও র্তাহার • রাখিয়া শেষে এককোপে উহার শুড় কাটিয়া ফেলিলেন। হাজী পরাস্ত হইয়া পলাইয়া গেল। এইরূপে এক মাস কাটাইবার পর টাকা ও মালপত্র লইয়া শিবাজী মার্চ মাসের প্রথমে হায়দরাবাদ আগ করিলেন। দক্ষিণ দিকে গিয়া কৃষ্ণা নদীর তীরে “নিবৃত্তিসঙ্গমে" ( ভবনাশী নদীর সহিত মিলন ক্ষেত্রে ) তীর্থস্নান ও পূজা দানাদি করিয়া, সৈন্যদের অনন্তপুরে পাঠাইয়া দিলেন, এবং নিজে অল্প রক্ষী ও কৰ্ম্মচারী সঙ্গে লইয়। দ্রুতবেগে শ্রীশৈল দর্শনে চলিলেন। এই স্থান কর্ণল নগর হইতে ৭• মাইল পূৰ্ব্বদিকে। এখানে কৃষ্ণা নদী হইতে হাজার ফাট উচু এক অধিত্যকার জনহীন বনের মধ্যে মল্লিকাজুন শিবের মন্দির,—ইহ। দ্বাদশ জ্যোতিলিঙ্গের "একটি লিঙ্গ । মন্দিরটি পচিশ ছাব্বিশ ফাট উচু দেওয়াল দিয়া ঘেরা ; ইহার চারিদিকে অতি বিস্তৃত আঙ্গিন। বড় বড় গমচতুষ্কোণ পাথর দিয়া এই দেওয়াল গাথা, আর তাহার গারে হাতী, ঘোড়া, বাঘ, শিকারী, যোদ্ধ, যোগী, এবং রামায়ণ ও পুরাণের দৃপ্ত অতি স্বন্দরভাবে খোদাই করা। শিবমন্দিরটিও সমচতুষ্কোণ। বিজয়নগরের দিগ্বিজয়ী সম্রাট কৃষ্ণদেব রায়ের অর্থে মন্দিরের চারিদিকের দেওয়াল ও ছাদ আগাগোড়া সোনার হলকর পিতলের চাদরে মোড়া ( ১৫১৩ ) । ঐ বংশের এক সম্রাজ্ঞী উপর হইতে নীচে কৃষ্ণার জলধারা পধান্ত হাজার ফীটেরও বেশ দীর্ঘপথ, পাথরের শান বাধাইয়। দিয়াছিলেন। তাহার নীচের ধার্টের নাম “পাতাল গঙ্গা" ; আর কিছু ভাটীতে “নীলগঙ্গা" নামে পার-ঘাট ; দুইটিই বিখ্যাত স্নানের তীর্থ। শিবমন্দিরের কাছে একটি ছোট দুগা-মন্দির। z = শিবাজী শ্ৰীশৈলে উঠিয়া পূজা স্বান দান লক্ষ ব্রাহ্মণ ভোজন ইত্যাদি কাধ্যে এখানে নবরাত্রি (অর্থাৎ চৈত্র শুক্লপক্ষের প্রথম নয় দিবস, ২৪ মার্চ—১ এপ্রিল, ১৬৭৭ ) যাপন করিলেন। এই তীর্থস্থানের শাস্ত স্নিগ্ধ সৌন্দৰ্য্য, রম্য নির্জনতা, এবং ধৰ্ম্মভাব জাগাইবার স্বাভাবিক শক্তি দেখিয়া তিনি আনন্দে অভিভূত হইয়া পড়িলেন। এটা যেন তাহার নিকট দ্বিতীয় কৈলাস বা শিবের স্বগ ৰলিয়া বোধ হইল। মরিবার এমন উপযুক্ত স্থান এবং