পাতা:প্রবাসী (ঊনত্রিংশ ভাগ, দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৮১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিজ্ঞান ও শিক্ষা ক্রমুহৃৎচন্দ্র মিত্র, এম-এ, ডি-ফিল (লাইপ জিগ) আমাদের দেশে বিদ্বৎসমাজে বিজ্ঞানশিক্ষার যেরূপ আদর আছে, শিক্ষা-বিজ্ঞানের সেরূপ নাই। বাস্তব জগতে বিজ্ঞানশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সকলে স্বীকার করেন বটে, কিন্তু দৈনিক জীবনে শিক্ষা-বিজ্ঞানের উপকারিতা অনেকেই অন্তভব করেন না । বিজ্ঞান, শিক্ষণীয় বিষয়ের মধ্যে যে একটি বিশেষ স্তর অধিকার করে, সে-সম্বন্ধে কাহারও মতভেদ হইবে না ; কিন্তু শিক্ষা যে বৈজ্ঞানিক বিষয়-সমূহের মধ্যে স্থান পাইতে পারে, সে ধারণা করিতে অধিকাংশ লোকেই কুষ্ঠিত হুইবে না । এই কুষ্ঠার কারণ কি ? আমার মনে হয়, শিক্ষা এবং বিজ্ঞান—এই উভয় বিষয় সম্বন্ধেই কতক অসম্পূর্ণ ও কতক ভ্রান্ত ধারণা হইতেই এই কুষ্ঠার উদ্রেক হয়। বিজ্ঞান বলিলেই আমাদের মনে Botany, Laboratory, so footáš off; spot: উদয় হয়। মৃতরাং তাহার মধ্যে শিক্ষা-সমস্যার কোনো যোগাযোগ দেখিতে পাই না । অপর দিকে, শিক্ষা অর্থে নানা লোক নানারূপ কল্পনা করিয়ী থাকেন এবং সেক্ট সকল পল্লনার মধ্যে ঐকা অপেক্ষ অনৈক্যই অধিক। তবে লক্ষ্য কারলে দেখা যায় যে, অধিকাংশ আলোচনাই হয় শিক্ষার উদ্বেগু সম্বন্ধে, শিক্ষার আদশ কিরূপ হওয়া উচিত, এই বিষয়ে । এই ঔচিত্য অনেীচিত্যের মীমাংসা নির্ভর করে আবার আরও একটি বৃহত্তর প্রশ্নের উপরে,— মানব জীবনের উদ্ধেত কি ? এই শেষ প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞান দেয় ন-দেয় দশন । অতএব, শিক্ষা সম্বন্ধে আলোচনা বিজ্ঞানের নয়, দশন-শাস্ত্রেরই অন্তর্গত হওয়া উচিত—ইহাই সাধারণের কথা । সাধারণের এই ধারণা ভ্ৰমাত্মক । শিক্ষা এবং বিজ্ঞান, ইহাদের স্বরূপ বিশ্লেষণ করিয়া বিচার করিলে এই সিদ্ধান্ত যে উপনীত হওয়া যায় না, তাহাই প্রমাণ Physics, Chemistry, করিবার চেষ্টা করিব । শিক্ষা-সম্বন্ধীয় নানাবিধ জটিল প্রশ্ন স্বভাবতই উখিত হয়। এই সমস্ত প্রশ্ন লইয়৷ আজকাল আমাদের দেশে একটি তুমুল আলোড়নের স্বষ্টি হইয়াছে, সকল বিষয়েই আমূল পরিবর্তন, সমূল উৎপাটন প্রভূতির ব্যবস্থা হইতেছে। এই সমস্ত সমস্তার সন্তোষজনক সমাধান করিতে হইলে যে-পন্থা আমার বিবেচনায় সৰ্ব্বাপেক্ষ সহায়ক হইতে পারে, এই প্রবন্ধে তাহারই একটি ইঙ্গিত দিতে প্রয়াস পাইব । দেখা যাউক, বিজ্ঞানের বিশেষত্ব কি। Physics, Chemistry প্রভৃতি যে বিজ্ঞান, সে-সম্বফে আপাত্তকরিবার কিছুই নাই। কিন্তু যদি শুধু ঐগুলিকেই বিজ্ঞান বলিয়া মনে করি, তাহা হইলে বিজ্ঞান সম্বন্ধে অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ ধারণ করা হয়। আমরা সচরাচর এইরূপ সঙ্কীর্ণ ধারণাই পোষণ করি । তাহার কারণ বোধ হয় শিক্ষণীয় বিষয় সম্বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আমাদের সম্পূর্ণ নির্ভরতা । বিশ্ববিদ্যালয় Science Course-এর জন্ম যে-সকল বিষয় নিৰ্দ্দেশ করিয়া দিয়াছেন, সেইগুলিই বিজ্ঞান, এবং যেগুলি Arts Course-এর জন্য বলিয়া দিয়াছেন, সেইগুলিই Arts, এইরূপ বিশ্বাস করি । কিন্তু সামান্য বিচার করিলেই দেখা যাইবে, এক্ট মাপকাঠির দ্বারা বিষয়ের শ্রেণী ভাগ করা শুধু অবৈজ্ঞানিক নয়, ন্যায়শাস্ত্র-বহির্ভূতও বটে। সুতরাং, ব্যাবহারিক জীবনে এই ব্যবস্থা মানিয়া লইলেও, বিজ্ঞানের বিশেষত্বের অনুসন্ধান করিতে হইলে আরও অগ্রসর হইতে হইবে এবং অন্ত মানদণ্ডের সাহায্য লইতে হইবে । বিশ্ববিদ্যালয় কেনই বা কতকগুলি বিষয়কে বিজ্ঞান বলেন, এবং অন্যগুলিকে অন্তরূপ ছাপ মারিয়া দেন ? জীবনধাত্র নির্বাহ করিতে হইলে দৈনিক জীবনে যে-সমস্ত বস্তুর সংস্পশে আসি, তাহদের স্বরূপ এবং পরস্পরের সম্পর্ক সম্বন্ধে একটা মোটামুটি ধারণা সকলকেই