পাতা:প্রবাসী (ঊনত্রিংশ ভাগ, দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৮২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৬ষ্ঠ সংখ্যা ] निरवद्र अडाब-अडिएषाभं बडम्ब.गलब कषाहेबारह । ছবেলা দ্বমুঠ ভাত, দ্বখানা ধুতি আর একটি জাম, এছাড়া তার আর কিছুরই প্রয়োজন নাই। যেখানেই সে থাক আর যাই করুক না ও তার জুটিবেই । দেশের কাজে সে তার সমস্ত শক্তি এবং সময় ব্যয় করিতে পারিবে । কিন্তু স্নেহের যাদের তুলনা নাই, সংসারে যারা তাকে একান্ত আপনার বলিয়া কাছে টানিয়া লইয়াছে, আশা-নিরাশার দ্বনে আশার প্রদীপের সলিত উস্কাইয়৷ দিয়াছে, তাদের প্রতি নিজের কৰ্ত্তব্যের কথা সে কি করিয়া বিস্তুত হইবে ? বিরূপ ভগবানের অভিশাপে অভিশপ্ত এই অভাগা দেশে নিজেদের ছোট ছোট গষ্ঠীর মাঝে রাষ্ট্র ও সমাজের শত অত্যাচার সহিয়াও যারা মুখের নীড় রচিয়া স্বর্গের আনন্দম্বধা সঞ্চিত করিয়া রাখিয়াছে বাইশ বংসর সেই স্বধা পান করিয়া সক্ষম যৌবনে তাদের দাবীকে সে অস্বীকার করিয়া বসিবে কোন প্রাণে ? হাতবাক্স খুলিয়া বৌদিকে কতদিন সে স্তন্ধ হইয়৷ দাড়াইয়া থাকিতে দেখিয়াছে। অক্ষমতার গ্লানি আর বিরুদ্ধযুক্তির সংগ্রামে অন্তর তার রক্তাক্ত হইয়া উঠিয়াছে। দেশকে যে ভালবাসিল, নিজের দারিদ্র্য এবং দুঃখ সে হাশিমুখে বরণ করিতে পারে, কিন্তু পুথিবীর দেড়শে কোটি নরনারীর মাঝে যে-কাট মানুষের স্থান বিধাতা একেবারে তার হৃদয়ের মধ্যে নির্দেশ করিয়া দিলেন তাদের দুঃখ সে কেমন করিয়া সয় ? কেমন করিয়া জোর গলায় বলে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বপদুঃখের কাছে তোমাদের মুখদুঃখ আমার চোখে তুচ্ছ হইয়া গেছে। আমি দেশসেবক,—দেশ ছাড়া কারও কথা ভাবিবার অবকাশ আমার নাই ! বলা যায় না। বলিলেও সে হয় মিথ্যা। দেশের জন্ত সে বেদনা বোধ করে সত্য, কিন্তু তার চেয়ে বেশী বেদনা অনুভব করে প্রিয়জনের উপর অভাবের পীড়ন দেখিয় । হয়ত এ তার দুৰ্ব্বলতা, ক্ষুত্রের প্রতি স্থবিপুল ভালবাসাকে ছোট করিয়া বৃহতের প্রতি ভালবাসাকে স্নবিপুল করিয়া তুলিতে না পারার অক্ষমতা। কিন্তু যে দুর্বলতাকে জয় করা তার সাধ্যাতীত, যে দুৰ্ব্বলতা তার আছে এবং جسده هج চাপ জাগুন ৭৬৯ চিরদিন থাকিবে, জোর করিয়া নাই বলিলেই ত সে আর যাইবে না ! শিবপদর আশা ছিল থদ্ধর বিক্রয় করিয়া সংসারে টাকা দিবে, কালে খন্দরের একটা বড় দোকান খুলিবে—এ স্বপ্নও সে দেপিয়াছে। কিন্তু চার জানা পাচ আনার বেশী লাভ তার হয় না—যেদিন সবচেয়ে বেশী হয়, আট আনা । দাদার প্রস্তাবে মত দেওয়া ছাড়া সংসারের সচ্ছলতা বিধান করিবার অন্য ক্ষমতা তার নাই। অথচ, যে অধীনতাকে, যে দাসত্বকে সে পাপ বলিয়া জানিয়াছে, জীবনের অভিশাপ বলিয়া জানিয়াছে, প্রিয়জনের মুখ চাহিয়া কেমন করিয়াই বা সে সেই পাপকে বরণ করিয়া লইবে, সেই অভিশাপকে মানিয়া লইবে ? কি কঠিন সমস্ত । রমাপদ আবার বলিল, “কাল সকালে কোথাও বেরুসনে তাহ’লে ।" মুছম্বরে শিবপদ বলিল, “আমি চাকরী করতে পারব না দাদা।" রমাপদ চটিয়া বলিল, “কি করবি তবে ? ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবি ?” শিবপদ নিঃশব্বে দাড়াইয়া রহিল। তার আরন্ধ · সাধনার বিপুল নিষ্ফলতাকে যদি ঘরের গাইয়া বনের মহিয তাড়াইবার সংজ্ঞা কেহ দেয় তবে ভবিষ্যতে সে নিষ্ফলতার স্তুপ সাফলোর স্পশে অপূৰ্ব্ব হইয়া উঠিবে । কি উঠিবে না, সে লইয়া আর তর্ক করা চলে না। রমাপদ অত্যস্থ ক্রুদ্ধ হইয়া উঠিল, “মতলবটা কি, এ্যা ? উদয়াস্ত পরিশ্রম করে আমি তোকে গাওয়াবে। আর তুই টে। টো কোম্পানী করে স্বদেশী কবি ? লজ্জ করে না তোর ? অপদার্থ হলে কি সব দিক দিয়েষ্ট হতে হয় ?” রমাপদ অতিশয় শাস্ত ও কোমল প্রকৃতির মাতুয, কঠিন কথা বলা তার অভ্যাস নয়। কিন্তু সংসারের কঠোর শুষ্কতা ও দারিদ্যের মিষ্টর ব্যঙ্গ তার অস্তরের রসধারা ৪ কোমলতা শুকাইয়া তুলিতেছিল। প্রত্যেকটি, কথা ভাইয়ের মনে কাটিয়া কাটিয়া বসিতেছে বুঝিয়াও