পাতা:প্রবাসী (ঊনত্রিংশ ভাগ, দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৮২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ፃፃ: “সংসারে টানাটানি, তাই। রোজগার না করলে চলবে কেন ?" “শুধু এই !” শিবপদ ক্ষুণ্ণ হইয়। বলিল, “সংসারে টাকার টানাটানি জিনিষটা কি, তোমার জানা নেই নীতি, তাই ও-কথা বলতে পারলে। তোমার পরণের শাড়ীখানার যা দাম, আমাদের দুভায়ের একমাসের রোজগারে বোধ হয় তত হবে না ।” ক্ষণকাল চুপ করিয়া থাকিয় নীতি বলিল, “যাক গে ও কথা। তুমি এখন বাড়া যাচ্ছ তো ? গাড়ীতে এসো, কলেজ ষ্ট্রাটের মোড়ে নামিয়ে দেব ।” শিবপদ বলিল, “না থাক।” মুখ লাল করিয়া নীতি বলিল, “না কেন ?” শান্তকণ্ঠে শিবপদ বলিল, “সেটা তো তোমার না বুঝবার কথা নয় নীতি!” নীতির চোখ অকস্মাৎ প্রদীপ্ত হইয়া উঠিল, মুখে ফুটিয়া উঠিল অস্তরের কঠিন জালার প্রতিচ্ছবি। যে হাসির আড়াল রচিয়া, যে সহজভাবের মুগোস পরিয়া সে কথা কহিতেছিল, এক নিমিষে তাহা নিশ্চিহ্ন হুইয়া মিলাইয়া গেল। মুখ ফিরাইয়া সে অন্যদিকের দোকানস্বরগুলির দিকে শূন্তদৃষ্টিতে চাহিল ; ক্ষণিকের দুৰ্ব্বলতার আত্মবিস্মৃতি এবং অস্তরের বিপ্লবী সত্যের কাছে তার মুহূর্ভের পরাজয় শিবপদর চোখে পড়িতে দিল না। মুখ ফিরাইয়া শিবপদর দিকে যখন চাহিল তখন সে আত্মসংবরণ করিয়াছে। অধরের কোণে জোর করিয়া ফোটান সেই ছলনার হাসি জাগাইয়াছে। নিপুণ অভিনেত্রীর মত মুখে কৌতুকচ্ছটা ফুটাইয়াছে এবং চোখের দৃষ্টি শান্ত ও কোমল করিয়া আনিয়াছে। পরিহাসতরলকণ্ঠে বলিল, “বুঝেছি। এতটা পথ পাশাপাশি যেতে পাছে পুরনো স্মৃতি আমায় দুৰ্ব্বল করে ফেলে, সেই ভয়ে তুমি গাড়ীতে আসবে না । সময় সময় ভারি মজার কথা তুমি বল শিবপদ,” এই বলিয়া হাত উচু করিয়া আংটি দেখাইয়া বলিল, “বুঝতে পারছ ?” కాషి _“পারছি !" “কি বল তো ?” বড় হয়েছি, কিছু প্রবাসী—চৈত্র, లిరిNు [ ২৯শ ভাগ, ২য় খণ্ড “এনগেজমেণ্ট রিং ” হাতটি নামাইয়া নীতি বলিল, “ঠিক । হীরাট লক্ষ্য করেছ বোধ হয় ? কার পয়সায় কেনা শুনতে কৌতুহল হচ্ছে না ?” “হচ্ছে। ভারি আনন্দিত হলাম নীতি, তুমি যাকে পছন্দ করেছ সে যে—” বাধা দিয়া নীতি হাসিয়া বলিল, “আগে নামটাই শোন। কুমার জিতেজনারায়ণ চৌধুরীকে তুমি নিশ্চয় চিনতে, কি বল ?” শিবপদ চমকাইয়া উঠিল। হীরাবসানো বহুমূল্য এনগেজমেণ্ট রিং দিবার মত সঙ্গ যার সে বড়লোক, এটুকু বুঝিতে তার বিলঙ্গ হয় নাই, কিন্তু সে যে জিতেন চৌধুরী এ তে সে কল্পনাও করিতে পারে নাই। জিতেন চৌধুরী ! সেই মাতাল পশুটা! তাব দেওয়া এনগেজমেন্ট, রিং নীতির আঙুলে! কি ভয়ানক কথা এ | নীতির হাতটি কোলের উপর পড়িয়াছিল, শিবপদ আংটির হীরাটার দিকে চাহিল। মনে হইল, হীরাটা অসংখ্যমুখে দাতার তমু-আৰ্ত্ত প্রেমের স্বতীব্র জালা বিচ্ছুরিত করিতেছে। শিবপদর অধর কঁাপিয়া উঠিল, কিন্তু কথা বাহির হইল না। চাপা বেদনার অভিব্যক্তিতে তার মুখ মরণাহত অসহায় মূক প্রাণীর মত বিকৃত হইয়া গেল। অত্যুঞ্জ শঙ্কায় একেবারে আর্ন্ত-হইয়া-ওঠা দৃষ্টি মেলিয়া সে নীতির মুখের দিকে চাহিল ; নীতি মুখ ফিরাইয়া বলিল, “জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে বিয়ে হবে। নেমস্তন্নপত্র অবুশ্ব পাবে, মুখেও বলে যাচ্চি ধেও কিন্তু নিশ্চয় । আচ্ছা চললাম। ঘুমাও, ঘর—” শোফার গাড়ী চালাইয়া দিল। রাস্তায় একটা গ্যাসপোষ্ট ধরিয়া দাড়াইয়া যতক্ষণ দেখা গেল শিবপদ চাহিয়৷ রছিল। গাড়ী আদৃত হইয়া গেলে শিবপদ একটা নিঃশ্বাস ফেলিয়া ধীরে ধীরে অগ্রসর হইল। মন্তরপদে ওয়েলিংটন স্কোয়ারে প্রবেশ করিয়া একপাশে নিরিবিলি ঘাসের উপর বসিয়া পড়িয়া দুই হাতে কপাল টিপিয়া ধরিল। চমৎকার জীবন ! আনাচে-কানাচে শুধু কঠিনতম সমস্ত উকি দিতেছে। কি ষে তার সমাধান—এতটুকু ইঙ্গিতও মিলিতেছে না।