৪র্থ সংখ্যা ] * মস্তকে মানিতেই হইবে তখন যাহাতে নৈসর্গিক ব্যাপারে মানুষের জ্ঞান উত্তরোত্তর বৰ্দ্ধিত হয় তাহার চেষ্টা করা কি মানুষের পক্ষে বাঞ্ছনীয় নহে? অবশ্য যাহারা অদৃষ্ট ও প্রাক্তনের স্বন্ধে সংসারের সকল দুঃখকষ্ট আরোপ করিয়া নিশ্চিন্ত হইতে চান তাহাদের পক্ষে একথা খাটে না । অজ্ঞতা ও বিশ্বাস যে দুঃখের প্রাথর্য্য লাঘব করে, ইহা ত অবিসংবাদিত সত্য। ইউরোপ যে মধ্যযুগে মহামারী প্লেগে বিধ্বস্ত হইয়াছিল তাহ যে শুধু অজ্ঞতার ফলে নহে, এ-কথা কে অস্বীকার করিবে ? দেবতার অভিশাপে মহামারীর আগমন এবং দৈবরোয-শান্তির জন্য প্রার্থনা ও স্বস্ত্যয়ন আবশ্বক, এবিশ্বাস প্রাচ্যজাতিসমূহে মজ্জাগত হইয়। গিয়াছে—ইহাকে একেবারে উড়াইয়া দিবার আবশ্যকতা অাছে কি না, প্রতীচীর আলোকে উদ্ভাসিত হইয়াও প্রাচীকে এপ্রশ্নের উত্তরদানে বিব্রত হইতে হইবে । বৈজ্ঞানিক বলেন প্লেগের জীবাণু মাছির সাহায্যে মৃষিকে এবং মূৰ্ষিক হইতে মাতৃষে সংক্রামিত হয়— দৈবরোষের প্রয়োজনীযুত স্বীকার করিতে বৈজ্ঞানিক প্রস্তুত নহেন । অজ্ঞতার ফলে মাচুর্য বিল অথবা জলময় ক্ষেত্র হুইতে উখিত বাপকেই ম্যালেরিযার কারণ বলিয়া নির্দেশ করিয়াছিলেন—বৈজ্ঞানিক প্রমাণ করিলেন যে, এক-শ্রেণীর মশকের সাহায্যেই ম্যালেরিয়াজীবাণু মনুষ্য-দেহে সঞ্চারিত হয় ; আর এই তথ্যের সাহায্যেই ইটালীর কয়েকটি প্রদেশ যাহ। পূৰ্ব্বে ম্যালেরিয়ার প্রভাবে মকুন্তবাসের অযোগ্য ছিল, এখন তাহা স্বাস্থ্যনিবায়ে পরিণত হইয়াছে । ব্যাধির প্রকৃত স্বরূপ যত দিন আমরা নিৰ্দ্ধারিত করিতে না পারি, ততদিন পর্য্যস্ত ইহার সম্মুখে মানুষ নিতান্তই অসহায় । কিন্তু যখনই বৈজ্ঞানিক গবেষণার সাহায্যে শক্রবাহের সন্ধান পাওয়া যায় তখনই চিকিৎসাশাস্ত্র তাহার সকল অস্ত্র ইহার বিপক্ষে প্রয়োগ করিতে আরম্ভ করে। প্লেগের বিপক্ষে যুঝিতে হইলে মুষিকসস্কুল স্থানের সমস্ত মূর্ষিককে মারিয়া ফেলিতে হইবে এবং ম্যালেরিয়া সমূলে বিনাশ করিতে হইলে ম্যালেরিয়াগ্রস্ত স্থানের চতুষ্পার্থের ক্ষুদ্র জলাশয়গুলি পরিষ্কৃত চিকিৎসা-শাস্ত্রে বিজ্ঞানের দান , 8や> রাথিতে হইবে। এইসকল নিয়ম প্রতিপালনের ফলে অস্বাস্থ্যকর স্থান যে রোগশূন্ত হইতে পারে তাহার সাক্ষ্য দিতেছে হাভানা, পানাম প্রভৃতি আমেরিকার কয়েকটি প্রদেশ । রোগের প্রকৃতির সহিত পরিচয় লাভ করিতে হইলে রোগীর পরিচর্য্য করা আবশ্যক কিন্তু ইহাতে রোগের কারণ-নির্ণয়ে লে বিশেষ সহায়তা হয় তাহা মনে হয় না, কারণ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরিয়া চিকিৎসক রোগশয্যার পাশ্বে বসিয়া রোগের নিদান লিপিবদ্ধ করিয়৷ আসিতেছেন কিন্তু পাস্তুর, লিষ্টার প্রভৃতি অচিকিৎসক অসুসন্ধিৎস্থ বৈজ্ঞানিকের গবেষণার ফলে রোগের প্রকৃতি এবং কারণ সম্বন্ধে - যত তথ্য আবিষ্কৃত হইয়াছে চিকিৎসকের নিদান হইতে তত হয় নাই ইহ। বলাই বাহুলা । সুতরাং ব্যাধির বিপক্ষে অবিশ্রাস্তভাবে যুদ্ধ চালাইতে হইলে, সমূলে ব্যাধির বিনাশের উপায় নিৰ্দ্ধারণে প্রবৃত্ত হইতে গেলে এবং ব্যাধির প্রসার রুদ্ধ করিতে হইলে, সাধারণ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হইলে চলিবে না । রাসায়নিক ও জীবাণু তত্ত্বজ্ঞ পণ্ডিতই এযুদ্ধের প্রধান উদ্যোক্তা এবং বৈজ্ঞানিৰ পৰ্য্যবেক্ষণাগারই ইহার রণস্থলী। সাধারণ চিকিংসই কতকটা ইঞ্জিনিয়রের মত,—তিনি বৈজ্ঞানিক তথ্যগুদি কার্য্যক্ষেত্রে আরোপ করিতে সুদক্ষ পরন্তু তাহার কার্য্য প্রণালী কতকগুলি নিয়মের মধ্যে আবদ্ধ। ব্যাধিসংক্রাং কোন নুতন তথ্য আবিষ্কার করিবার আগ্রহ বা স্বঘো র্তাহার নাই । অবশ্য সাধারণ নিয়মের “সম্মানিত ব্যতিক্রম সৰ্ব্বত্রই সম্ভব, কিন্তু ইহা কিছুতেই অস্বীকা করা যায় না যে, লব্ধ-প্রতিষ্ঠ গবেষক চিকিৎসকের সংখ অপেক্ষণকৃত অল্প । প্রতিবৎসর দুই-চারিটি দুশ্চিকিৎস্য ব্যাধির প্রীি ষেধকের আবিক্রিয় চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন হিসাবে সংবা পত্রস্তম্ভে প্রকাশিত হয় কিন্তু পরীক্ষা-শালার ভিত্ত স্বাস্থ্য, উদ্যম ও অর্থ ক্ষয় করিয়া কত বৈজ্ঞানিক যে বিফলতার তিক্ত স্বাদ অনুভব করিয়া নীরবে কষ্ট সহ কে তাহার হিসাব বাহিরের কয়জন লোকে রাখে ? “সভ বিস্তারের” ফলে সকল সভ্য দেশেই বর্তমানে ফৈরিঙ্গে
পাতা:প্রবাসী (চতুর্বিংশ ভাগ, প্রথম খণ্ড).djvu/৫০৮
অবয়ব