বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাসী (চতুর্বিংশ ভাগ, প্রথম খণ্ড).djvu/৮২১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

৭৫২ পারে, দেশের লোক এর আগে একথা জ্ঞানৃত না। তার লেখা দুটাে একটা কবিতা পড়েই দেশের সকল শ্রেণীর লোকেরই মাতৃভাষার উপর একটা আন্তরিক টান আসতে স্বরু হ’ল । তারপরে "উড়ন্‌চ’ড়ে ছেলে নামক নাটকথানা যখন তিনি বের করলেন, শিক্ষিত লোকেরা তখন সকলেই ফরাসা-জাৰ্ম্মান ছেড়ে নিজের ভাষার চর্চা করতে আরম্ভ করে দিলেন। বহুলোক রুশভাষায় বই লিখতে লাগলেন। অনুবাদই হ’তে লাগল বেশীর ভাগ। দু’চারখান মৌলিক গ্রন্থও লেখা হয়েছিল বটে, কিন্তু ফরাসী সাহিত্য-রথীদের স্পষ্ট প্রভাষ সেগুলির উপরেও আগাগোড়া-ছিল । সাহিত্য-স্থিাসাব এ-সব বইয়ের কোন স্থায়ী মূল্য না থাকৃলেও এগুলির খুব বেশী সাময়িক মূল্য ছিল। এদেরই ভিত্তির উপরে বর্তমান রুশ-সাহিত্য গড়ে’ "উঠেছে। /* ५ জার্মান-ফরাসী সাহিত্যের প্রভাব কাটিয়ে নতুনরকমের স্বাতন্ত্র্যলাভের প্রয়াস রুশসাহিত্যে প্রথম দেখা যায় ১৮১৫ খৃষ্টাব্দে। পথপ্রদর্শক হয়েছিলেন নিকোলাস কারামূজিন্‌কারামূজিনের পিতা ছিলেন জারের সেনাদলের একজন সেনানায়ক-জুতিতে তাতার। তার আর্থিক অবস্থা বেশ স্বস্থল ছিল। কারামূদ্বিনূের প্রথম শিক্ষা মস্কোতে আরম্ভ হয়। সেখানকার শিক্ষা শেষ হ’লে সৈণ্ট পূিটাসবর্গে এসে তিনুিকলেজে ভর্তি হন। তিনি মেধাবী এবং অসাধারণ-প্রতিভা-সম্পন্ন ছিলেন। বিশেষ প্রশংসার সঙ্গে কলেজের পড়া শেষ করে জাৰ্ম্মানী ফ্রান্স স্থইজারল্যাও এবং ইংলণ্ড থেকে ঘুরে এসে তিনি মস্কোতে একখানা খবরের কাগজের সম্পাদনভার গ্রহণ করেন এবং অল্পদিনের মধ্যেই রুশ-পৰ্য্যাটকের পত্রাবলীর’ নামে তিনি একথানা বই লেখেন। গ্রীক-লাটিন, এবং আধুনিক কয়েকটি ভাষার অনেকগুলি বইও তিনি এই সময়ে অনুবাদ করেছিলেম। কিন্তু এসব করে সাহিত্য-জগতে তেমন খ্যাতি লাভ করতে পারেননি। এগুলি ছিল তখনকার দিনের মামুলী কাজ—এতে সাধারণের দৃষ্টি তেমন আকর্ষণ করা যেত না। কারামূজিনের সাহিত্যিক প্রতিভা লোকের কাছে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছিল তার রুশ সাম্রাজ্যের ইতিহাস নামক বিখ্যাত বইখানা লেখায়।

প্রবাসী-মাশ্বিন, )ురిరి) দিকে চেষ্টা চলতে লাগল। রুশভাষায় ইতিপূৰ্ব্বে স্কশkদশের কোন ধারাবাহিক, ইতিহাস ছিল না । জাতীয় সাহিত্যের এ অভাবটা মৰ্ম্মেমৰ্ম্মে বেশ, অনুভব .ه داد খৃষ্টাব্দে কারামূজিনের ইতিহাস লিখতে আরম্ভ করেন। . রুশিয়ায় তখন প্রথম আলেকজাণ্ডারের রাজত্বকাল । ' আলেকজাণ্ডার সাহিত্যামোদম রসিক পুরুষ ছিলেন। তার সময়ে মুদ্রাঘন্ত্রের অবাধ স্বাধীনতা না থাকলেও দেশীয় সাহিত্যের উপর থেকে সরকারী স্বদ্বষ্ট্রির তীব্রতাটা অনেকথানি কমে গিয়েছিল। ইতিহাস লেখায় কারামজিনের তিনিই ছিলেন প্রধান উৎসাহদাতা ,ইতিহাসের যখন যে খণ্ড লেখা শেষ হ’ত সেই খণ্ড কারামূজিন তাকে পড়ে শোনাতেন । এইরকম করে ১৮২৬ খৃষ্টাব পৰ্য্যস্ত এগার খণ্ড লেখা শেষ হওয়ার পরে কারামূজিনের মৃত্যু হয়। ইতিহাসও অসম্পূর্ণই থেকে যায়। এমনই সুন্দর মুস্পষ্ট প্রাঞ্চল এবং ওজস্বিনী ভাষায় কারামূজিন্‌ ৰ্তার ইতিহাসে । দেশের স্থখ-দুঃখের কথা আলোচনঃ করেছিলেন CR。 সেগুলি পড়ে’ সমগ্র রুশজাতির ভিতরে জাতীয়তার একটা সাৰ্ব্বজনীন বিকাশ হ’তে আরম্ভ হয়েছিল। সাহিত্যের দিক দিয়েও এ বইখানা মূল্য হয়েছিল খুব বেশী। এখানা পড়েই রুশ-সাহিত্যিকের প্রথম বুঝতে পেরেছিলেন যে, সাহিত্য-স্বজনের মালমশল্পী রুশদের নিছক জাতীয় জীবন থেকে গ্রহণ করলে তা , বিদেশ থেকে আমদানী জিনিষের চেয়ে ঢের ভাল এবং গুণম্পর্শী হবে। কথাটা বোঝা মাত্রই এ-বিষয়ে চারি .. দুৰ্দশখানা বইও অনেকে লিখে ফেললেন। তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছিল আলেকজেণ্ডার গ্রিবর্ডভের লেখা ‘অতিবুদ্ধির দুর্ভোগ’ বলে একখানা নাটক । , . ঠিক এই সময়ে ਸ੍ਤਸ লোক এসে সাহিত্যক্ষেত্রে প্রবেশ করলেন। এর নাম আলেক্জাণ্ডায় পুশকিন্‌-রুশিয়ার শ্রেষ্ঠ কবি । এরই অক্লাস্ত চেষ্টায় শুধু যে রুশ-সাহিত্য ਿੱੋੜ পঃিপুষ্ট হ’য়ে উঠেছিল তা নয়, রুশ-সাহিত্যের ধারা ལྟ་བ་སྟེ་རིགས། গিয়েছিল। পুশকিনের আগে সাহিত্যে শুধু দুটি জিনিষেরই ੇ` হচ্ছিল-প্রথম গুরুগম্ভীর-স্কাজেই সাধারণের দুৰ্ব্বোধ্য