পাতা:প্রবাসী (চতুর্বিংশ ভাগ, প্রথম খণ্ড).djvu/৮৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করার সময় সমস্যা ছিল।


৬ষ্ঠ সংখ্যা। শ্ৰীমদ্ভগবদগীতা প্রকাশিত হইয়াছিল ৷ ‘চন্দননগর-পরিচয়’ নামে চন্দননগরের বিবিধ বিষয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচয় পুস্তক-প্রণয়নে ইনি প্রবৃত্ত আছেন ।

এখানকার গ্রন্থাদির সংক্ষেপে পরিচয় দেওয়া হইল । কে প্রকৃত গ্রন্থকারপদবাচা,কে নহে, সে সন্ধান বা বিচারে প্রবুত্ত না চক্টয়া র্যাহার লিখিত অনুবাদিক বা সম্পাদিত কোন পুকুক পুস্তিক প্রকাশিত হইয়াছে, তাহার ও তাহাব গ্রন্থাদির কথা এই তালিকান্তভূক্ত করা হইয়াছে। অন্যদিকে শক্তিশালী লেখক র্যাহার কোন পুস্তক ছাপা হয় নাই বা হইলেও সে-সংবাদ অবগত নহি, তাছাদের কথা বলা হয় নাই। অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্য ভাগে রাস্ক, নুসিংগু, নিতানন্দ বৈরাগী, আণ্টনি ফিরিঙ্গি প্রভৃতি কবিওয়ালাদেব কোন গ্রন্থের কথা না জানা থাকিলেও তাহাদের রচিত ভাবময সঙ্গীতসকল সে-কালের বাঙ্গালা গীত বা পদ্য-রচনার নিদর্শন, হিসাবে মূল্যবান । তংপরবর্তী কালের বলরাম কপালী এবং আধুনিক সময়ের মধুপাত্র, রামচন্দ্র দত্ত প্রভৃতি গীত-রচয়িতাদের কথাও উল্লেখযোগ্য । অন্য প্রসঙ্গে র্তীকাদের কথা বলা হইবে ।

উল্লিখিত গ্রন্থসকল ভিন্ন গ্রন্থ-প্রচার-সমিতি, প্ৰবৰ্ত্তক পাবলিশিং হাউস্ এবং বি গ্ৰ ভাণ্ডার বসন্তকুটার হইতে আরও পচিশ-ত্রিশখানি গ্রন্থ প্রকাশিত হইয়াছে ; কিন্তু তাহ বাহিরের লোকের লেখা। সারস্বত-সম্মিলনী হইতে প্রকাশিত ‘স্বগীয় নন্দলাল বস্ব মুহাশয়ের সংক্ষিপ্ত জীবনী, বন্দনা’ বা অন্য কোন সভা-সমিতি হইতে প্রকাশিত ঐরূপ বা শ্ৰীযুক্ত সাগরকালী ঘোষ মহাশয়ের দ্বারা প্রকাশিত ভেল-দিগ-দিগ বা কপাটি খেলার নিয়মাবলীর ন্যায় পুস্তিকা প্রভৃতির কথাও আলোচিত হইল না ।

আর একখানি অতি প্রাচীন গ্রন্থের কথা বলিয়া এই বিষয়টি শেষ করিব। এই গ্রন্থের নাম ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ। ইহাই সৰ্ব্ব প্রথম ইউরোপীয় লিখিত, মুদ্রিত বাঙ্গালা পুস্তক বলিয়া কেহ কেহ স্থির করিয়াছেন। ফাদার গেরেন ( Father J. F. M. Guerin) ইং ১৮৩৬ খ্ৰী: অব্দে পুনলিখিত ও সম্পাদিত হইয়া ইহ। প্রকাশিত হয়। ইহার আদি গ্রন্থের পোর্তুগীজ অংশ বাঙ্গাল মিশনের অধ্যক্ষ পর্তুগীজ পাদরী মনোয়েল দা আসামসাও (Frey Manoel da Assumpcao) রচিত বা অসুবাদিত এবং বাঙ্গালা অংশ ভাওয়ালনিবাসী কোন বাঙ্গালী খৃষ্টান দ্বারা ১৭৪৩ খৃষ্টাব্দে লিখিত বলিয়া সুধীগণ অল্পমান কবেন । এভোরা (l;vora) সাধারণ পুল্লকালয়ে ইহার একথানি হস্তলিখিত কপি আছে । ইহ৷ খৃষ্ট ধৰ্ম্ম-বিষয়ক • ধৰ্ম্মজিজ্ঞাসা-গ্রন্থ, একজন রোমান ক্যাথলিক খৃষ্টান ও হিন্দু ব্রাহ্মণ উভয়ের কথোপকথনচ্ছলে লিখিত এব" ফ্রানসিঙ্গো W7 সিলভা (Francisco da Silva) লিসবন-নগরীতে ১৭৪৩ খৃষ্টাব্দে মুদ্রিত । খণ্ডিত ও অসম্পূর্ণ অবস্থায় ইঙ্গর এক কপি এসিয়াটিকৃ সোসাইটির পুস্তকাগারে রক্ষিত আছে। কথিত আছে ভূষণ-রাজ্য ধ্বংসের পর তথাকার কোন রাজপুত্র খৃষ্টধৰ্ম্মাবলম্বী হইয়া তাঙ্গর নবগৃহীত ধৰ্ম্মের বহুল প্রচারের উদ্দেশ্যে বাঙ্গালী ভাষায় ইহা প্রথম রচনা করেন । লিসবন হইতে প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের বাঙ্গাল অংশ রোমান অক্ষরে লেথা |

পাদী গেরেন তাহাব সম্পাদিত বাঙ্গালা অক্ষরে মুত্রিত সংস্করণে সমস্ত ভূল ঠিক করিয়া এবং বাজে গল্প বাদ দিয়া পুস্তকের আকার অৰ্দ্ধেকেরও অপেক্ষা ছোট করিয়! একরূপ সংস্কৃত করিয়াছেন বলিতে পারা যায় তদ্ভিন্ন তিনি তিনটি নূতন কথোপকথন এবং ১৮৩৬ হইতে ১৯০৪ পর্য্যন্ত স্বৰ্য্য ও চন্দ্র-গ্রহণ-গণনা সংযোজিত করিয়া দিয়াছেন ।

  • প্রথিতনাম ডাক্তার সুহ্যদ্বর শ্ৰীযুক্ত যজ্ঞেস্তুর ঐiমানী, এল এম্-এস মহাশয়ের মিকট হইতে সম্প্রতি এই পুস্তকের একখণ্ড প্রাপ্ত হইয়াছি। উহাতে ১৮৩৬ নং ১৯৪০ পর্য্যস্ত গ্রহণ-গণনা দেওয়া আছে। এই পুস্তকের উপরের পরিচয়পত্র না থাকিলেও উছ চন্দননগর সংস্করণ বলিয়াই মনে হয়। প্রাপ্ত পুস্তকও প্রায় দেখা যায় না। সময়াস্তরে ইহার সুবিশেষ পরিচয় দিতে এবং আবস্তৃক মনে হইলে উহার সমস্ত বা অংশবিশেষ প্রকাশিত করিতে ইচ্ছা রহিল। এই অবসরে যজ্ঞেশ্বর-বাবুকে আমার আন্তরিক ধগুবাদ জ্ঞাপন করিতেছি ।