বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাসী (ত্রয়োবিংশ ভাগ, দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৮০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

২৭৬ প্রবাসী—অগ্রহায়ণ, ১৩৪২ - “ l ২৩শ ভৗগ;ধরখেঃ 喙 জীবস্ত আদর্শ যাহা তাহ সৰ্ব্বদাই জাতির কাৰ্য্যের ও ব্যবহারের ভিতর দিয়া প্রকাশিত হয় । আমাদের দেশে যেরূপ মুখের ও শাস্ত্রের বচনে নারীগণ দেবী, শরীর মন্দির, বলহীনের আত্মা নাই, জন্মভূমি স্বর্গাপেক্ষ শ্রেয়, ছাত্রগণ ব্রহ্মচারী এবং হিন্দুজাতি শ্রেষ্ঠজাতি ; কিন্তু কাধ্যে আমরা নারীকে পুড়িয়া মরিতে বা অন্য কোন উপায়ে আত্মহত্যা করিতে বাধ্য করি, তাহাকে বছক্ষেত্রে অশেষ অপমান ও অসহ যন্ত্রণ ভোগ করাই, শরীরকে কদৰ্য্য ও নিবীৰ্য্য করিয়া রাখি, শরীরে ও মনে সৰ্ব্বতোভাবে বলহীন হইয়া শুধু আত্মার বড়াই করি, ছাত্রজীবনে ব্রহ্মচর্য্যের সকল পবিত্রতা উপেক্ষা করি এবং হিন্দুজাতিকে অবনতির শেষ সীমায় অনিয়া ফেলিয়া রাখি ; তাহাতে বোধ হয় আমাদের জাতীয় আদর্শ মৃত ও আমাদের জাতীয়তা নাই। আমরা ব্যক্তিগত দোষগুণ লইয়াই এখন অত্যন্ত বেশীমাত্রায় ব্যস্ত; জাতীয়তা ও আদর্শবাদ আমাদের অনেক ক্ষেত্রেই একট। মনভুলান মিথ্য মাত্র । একথা অবশু সত্য যে আমাদের প্রকৃত জাতীয়তা ক্রমে ক্রমে গড়িয়া উঠিতেছে, কিন্তু সে তুলনায় আমাদূের জাতীয় জীবনে মৃত আদর্শের বিজ্ঞাপন ও প্রচার একটু বেশী মাত্রায়ই হইয়া থাকে। অপর কোন দেশে কিছু ভাল দেখিলেই “আমাদের মহাভারতে উহা ছিল” অথবা “আমাদের শাস্ত্রেরও ঐ একই মত" বলিয়া চীংকার করা আমাদের একট জাতীয় অভ্যাস হইয়া দাড়াইয়াছে। আমরা ভুলিয়। গিয়াছি, যে, ঠাকুরদাদার ধন-সম্পত্তি ছিল বলিয়া ভিখারী যেমন ধনী নহে, সেইরূপ অতীতের কোলে আমাদের বর্তমান জীবন হইতে বিচ্ছিন্ন যে-সকল গৌরবজনক মতামত জ্ঞান ও কার্যকলাপ রহিয়াছে তাহাতে আমাদের অগৌরব ও অকৰ্ম্মণ্যত অপ্রমাণ হইয়া যায় না। আমাদের শাস্ত্রকারগণ স্বপ্রজনন-বিজ্ঞান (Eugenics) যুঝিতেন কি না জানি না । কিন্তু কথা উঠিলে অনেক শাস্ত্রবিদ এখনই আসিয়া বলিবেন “বর্তমান আমাদের কি শিখাইবে ? বৰ্ত্তমান ত নবীন, তাহার জ্ঞান হইবে কি করিয়া ?" নবীম কেন যে উৎকৃষ্টতর ও নূতন জ্ঞানে ও স্বকার্য্যে জগৎকে সৌন্দৰ্য্যশালী করিতে পারবে না তাহার প্রমাণ স্বরূপ শুধু বৃদ্ধের মনে নবীনের প্রতি অশ্রদ্ধা ও অবিশ্বাস ছাড়া আর কিছু নাই। বৃদ্ধ রেল গাড়ী চড়িম তিন দিবসে অল্পব্যয়ে বৃন্দাবন যাইতে প্রস্তুত আছেন ; কিন্তু এই রেলপথের সাহায্য লওয়া হইল নবীনের সেবা গ্রহণ। জ্ঞানের ক্ষেত্রে নবীন কিছু বলিলে তfহার আত্মমৰ্য্যাদায় আঘাত লাগিবে সুতরাং “নৃবীন, তুমি কৰ্ম্মক্ষম বটে, কিন্তু তোমার জ্ঞান ও • বুদ্ধির কিছু অভাব আছে” । নবীনকে বলিতেছি নাযে বৃদ্ধের কাছে শিথিবীর কিছু নাই। সৰ্ব্বত্রই শিখিবার আছে এবং কোন ব্যক্তি বা জাতি-বিশেষের নিকট কিছু শিখিতে অনিচ্ছা প্রকাশ বাৰ্দ্ধক্যের লক্ষণ । বৃদ্ধ শাস্ত্রবিদ বলিবেন “আমাদের শাস্ত্রে স্থপ্রজননবিজ্ঞান বিষয়ে যাহা নাই তাহা না শিখিলেও চলে’, কিন্তু তাহার অন্তঃপুরে প্রবেশ করিয়া দেখিলে দেখা যাইবে, স্নপ্রজনন-জ্ঞানের অভাব ভগ্নশরীর বালিকা মাতা ও নিস্তেজ মৃতপ্রায় ৪ অনেকস্থলে জন্মান্ধ জন্মক্ষয় বা অঙ্গহীন শিশুর মূৰ্ত্তি ধরিয়া শাস্ত্রবিদ পণ্ডিতের মিথ্যাচরণের জীবন বিষময় করিয়া তুলিতেছে। মিথ্যাচরণ বলিতেছি কেন ? যে বিশ্বাস, যে জ্ঞান জীবনের কার্য্যে দেখা যায় না তাহাই মিথ্যা বিশ্বাস, তাহাই মিথ্যা জ্ঞান । অর্থাৎ সেই বিশ্বাস বা জ্ঞান সত্য-সত্য কাহারও হৃদয়ে নাই। তাহা জ্ঞাতসারে অথবা অজ্ঞাতসারে একটা বিশ্বাস ও জ্ঞানের ভাণ বা মিথ্যা অভিনয় মাত্র । সেইরূপ যে কাৰ্য্য ও যে জীবননিৰ্ব্বাহপ্রণালী মনের বিশ্বাস বা জ্ঞানের বিরুদ্ধচরণ করে তfহ। মিথ্যাচরণ । আমাদের অনেক পণ্ডিতের ( পণ্ডিত বলিতে সকল শিক্ষিত ব্যক্তি বুঝাইতেছে ) আচরণ মূর্ধাচরণ। মুখাচরণ বলিতেছি কেন ? মুখ কে ? ' যে জ্ঞান লাভ করে নাই সে মুখ এবং সে ছাড়া যাহার জ্ঞান লাভে অনিচ্ছুক অথবা জ্ঞান লাভকে তাচ্ছিল্যকরে তাহারাও মুর্থ। আমাদের শিক্ষিত-সমাজের মধ্যেও ( প্রকৃত শিক্ষার অভাবে) প্রায় সৰ্ব্বত্র বাল্যবিবাহ, স্ত্রীর প্রতি অত্যাচার, নিৰ্ব্বোধের ন্যায় সস্তান পালন, শরীরের প্রতি অত্যাচার, এক কথায়, মনের জ্ঞান যাহা বলে কার্ঘ্যে তাহার বিরুদ্ধাচরণ দৃষ্ট হয়। ইহা গেল মিথ্যাচরণ। কিন্তু ইহা ছাড়াও দেখা যায় যে