বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাসী (ত্রয়োবিংশ ভাগ, দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৬৫১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

৫ম সংখ্যা ] ہ۔--سے দুঃখ সয়ে যার তরে আজ কিন্তু আমি বিপুল স্থখ, বুক দিয়ে যায় কবৃন্থ মাস্থ্য, সে এই আমার রাখছে মুখ ! যে গৰ্ব্ব মোর দাড়িয়েছিল উচ্চশিরে আকাশ-গায়, ভরত - তারে কুইয়ে ধূলায় কবুলি গুড়া অবজ্ঞায় ! t; ( & ) [ ঘুণীয় ও বিক্রপে জর্জরিত। কৈকেয়ী প্রাসাদ-কোণে গোপনে অনুতাপে চতুর্দশ বৎসর কাটাইয়াছিলেন। রামের অযোধ্যায় ফিরিবার সময় তাহার অনুতাপ প্রবল ও তীব্ৰ হইয় উঠে। মূল বাল্মীকির রামায়ণে উল্লেথ না থাকিলেও কৃত্তিবাস লিখিয়ছেন–রাম ’মা’ বলিয়৷ ন। ডাকিলে বিষাক্ত লাড়, খইয়া প্রাণত্যাগ করিবেন, কৈকেয়ী এমন প্রতিজ্ঞাও করিয়াছিলেন ।] চোদ্দ বছর রাম গেছে বন,-আসছে নাকি কাল সে ফিবে,— বাহন তারি কোন হনুমান জানিয়ে গেল। কালকে কি রে এই পোড়া মুখ তুলব আমি সেই সে রামের চোখের পরে, হিংসা-বিষে জলিয়ে যারে তাড়িয়ে দিহু স্বখের তরে ?— তাড়িয়ে দিলু গহন কুন-রাজ্য-মুখ ও স্নেহের স্থখ সকল কেড়ে করন্থ":ণ, শাস্তি দিহু কঠোর দুখ। চোদ্দ বছর প্রতিটি দিন রামের ব্যথা বাজল মোর পাষাণ বুকে ; বনচারী তার নয়নের তপ্ত লোর অগ্নিবিন্দু সমান আমার বুকের মাঝে রাত্রিদিন বোধ করেছি, জালিয়ে দেছে, পুড়িয়ে মোরে করলে ক্ষীণ । সেদিন আমি ভুলিনি যে—আমিই যেদিন পাঠাই বনে সাশ্র চোখে মোরই কাছে বিদায় নিলে মোর চরণে ! তখন মনে দিইনি আমল তার সে কাতর করুণ ছবি, ভরত আমায় ছাড়লে যেদিন, সেদিন হ’তে বুঝন্ত সবি রামের বেদন, তার সে ছবি রইল জেগে ব্যথার সাথে,— সে ব্যথা মোর নিত্য সার্থী স্বপ্নে জেগে দিনে রাতে । ছাড়লে সতীন, পৌরনারী, ছাড়লে দাসী, রাখলে দূরে ক্রুর নাগিনী কৈকেয়ীরে শিউরে ভয়ে বিজন পুরে। বিরাটু পুরীর একটি কোণে বরহ কঠোর নির্জনতা, দিনের পরে দিন চলে যায়,—বক্ষে জমে বিরাটু ব্যথা। " ক্রুর নাগিনীর বিষের সে দাত ভাঙলে ভরত— জানবে কে তা ? পুড়ছে গরল দুখের দাহে,বুঝলে না কেউ, কেউ না হেথা ! , ○○○ SSAS SSAS SSAS SSAS SSAS রাম-বনবাস-ষষ্ঠ-দিনে দশরথ ত ত্যজলে দেহ, ভরত দিলে ভৎসনা মোরে, রইল কে আর করতে স্নেহ ? কার কাছে আর দাবী আমার, কার কাছে মোর গৰ্ব্ব রবে— শাসিয়ে যারে ভুলিয়ে যারে কৈকেয়ী তার কাম্য লবে ? সেদিন হ’তে নেই কেহ নেই, রইঙ্ক কোণে ঘৃণ্য একা ; লক্ষ লোকের মনে কেবল হিংসা আমার রইল লেখা ! হিংসামূলে ঘুণ ধরেছে, বোঝেনি তা কেউ দরদী ; কেউ আসেনি জানতে কি তাপ করছে শোষণ নিরবধি । আপন-গড়া দুঃখ আমার আপন হ'য়েই রইল নিতি,— জানলে না কেউ,— পেলাম শুধু নিদয় ঘৃণা, নিদয় ভীতি । বনে বনে রাম ঐ ঘোরে দুঃখে ক্লেশে,—আমার হিয়ায় সে ব্যথা যে বাজ ল কী ঘোর কী পীড়াময়— বুঝবে কে তায় ? আমায় সে যে ‘মা’ বলেছে—সে কথা কি ভুলতে পারি ? পাষাণ ছিকু সে এক দিনে,—তাই বলে’ কি নইক নারী ? ছয় ছটা দিন পাশের ঘরে দশরথের আর্ভরবে প্রাণ গলেনি,—আশায় ছিমু প্রাণের ভরত বস্বে যবে অযোধ্যারি সিংহাসনে, মিট্‌বে আমার সকল গ্লানি ; তার পরে সব উণ্টে গেল,—ভরত দিলে বজ্ৰ হানি’ !— সেই আঘাতে গৰ্ব্ব গুড়, সেই আঘাতে বুঝতু আঘাত রামের বুকে দিলাম যাহা—ঘটুল যাহে রাজার নিপাত । গভীর রাতে রোজ মনে হয়—দাড়িয়ে যেন সেই দশরথ সামনে আমার ক্রুদ্ধ চোখে কটুমটিয়ে,—করবে যে বধ । চম্কে শুনি, ঘুম ভেঙে যায়, পাঞ্জর-ভাঙা সেই সে ধ্বনি দশরথের সেই সে বিলাপ,-বুক কাপে মোর, প্রহর গণি ! মূৰ্ত্তিমস্ত এস রাজা জীবন লয়ে দাড়াও ভুয়ে— সব অপরাধ কবৃব স্বীকার, চাইব ক্ষমা চরণ ছয়ে। বলনহীনা ভিখারিণীর নগ্ন গায়ে বৃষ্টি-ধারা যেমন বেঁধে, তেমনি যে রে রামের নিশাস তীব্র পারা আমার বুকের চামড়া ভেদি মৰ্ম্মমাঝে বেদন তোলে ! অনশনে রাম যে বনে,—সে কথা কি-এ মন ভোলে ? চোদ্দ বছর ‘মা’ বলেনি ভরত আমায়—পাইনি কোলে, সকল স্নেহ সব অভিমান বক্ষে জমে উতল দোলে ! হিংসা যত উচ্চাভিলাষ বিলুপ্ত মোর, কান্না খালি রূপ নিয়েছে অগাধ স্নেহের—স পূব কারে এ মোর ডালি ?