পাতা:প্রবাসী (পঞ্চদশ ভাগ, দ্বিতীয় খণ্ড).pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* >b" ँ ਾਂ ভারতের সমস্ত৷ সাধারণ দারিদ্র্য। ভারতবাসী সাধারণতঃ কৃষিজীবী । ইহার সহর অল্প। ইহার প্রধান রপ্তানী কৃষি-উৎপন্ন পদার্থের এবং প্রধান আমদানী শিল্পের । আমাদের রপ্তানীর মূল্য আমদানীর মূল্য অপেক্ষ অধিক। কারণ আমরা যেসকল শিল্পদ্রব্য আমদানী করি তাহার মূল্য ছাড়া যে-সকল বিদেশী আমাদের দেশে কাজ করে তাহাদের কাজের দাম ও ভারতের উন্নতির জন্য যে টাক। ধার হইয়াছে তাহার স্বদ আমাদিগকে দিতে হয়। আমরা খাই অার না খাই আমাদিগকে ইহা দিতেই হইবে। যদি নিজেদের উদর পূর্ণ করিয়া আমরা এইসকল দেন। পরিশোধ করিতে পারি তবে আমরা আর দেউলিয়া হইলাম না। আর যদি নিজেদের উদরপূর্ণ না করিতে পারি তাহা হইলে আমাদিগকে অকালে কালগ্রাসে পড়িতে হইবে । ভারতবর্ষ একটি মহাদেশ-বিশেষ। ইহাতে প্রায় তেত্রিশ কোটি লোকের বাস। ইহার উৎপন্ন সামগ্ৰী নিতান্ত কম নয়, কিন্তু তবুও আমরা দেখি ভারতবাসী দীর্ঘজীবী হয় না, অনেকে জীবনসংগ্রামে টিকিয়া থাকিতে পারে না। দারিদ্র্য ভারতবাসীকে এমন দুৰ্ব্বল করিয়াছে যে সে আর রোগকে পরাস্ত করিতে পারে না। উত্তম আহার এবং উত্তম স্থানে বাস রোগদূরীকরণের প্রধান উপায় ; এই দুই জিনিস ভারতবর্ষে দুলভ নহে, কিন্তু ভারতবাসীর পক্ষে দুলভ। উভয়ই পাইতে হইলে অর্থের প্রয়োজন, ভারতবাসীর তাহা নাই। তাই ভারতবাসী মূখ, ভারতবালী দুৰ্ব্বল। গ্রীকপণ্ডিত পেরিক্লিস বলিয়াছিলেন আমরা দারিদ্র্যকে ঘৃণা করি না কিন্তু দারিদ্র্য দূর না করার চেষ্টাকে ঘৃণা করি। ভারতবাসী নাকি ধৰ্ম্মপ্রাণ তাই সংসারত্যাগকে শ্ৰেষ্ঠস্থান-দিয়াছে। তাহারা দরিদ্র হওয়ার জন্য— পরের স্বারে ভিক্ষার জন্য ব্যস্ত। শাক-অল্প এবং ছিন্ন কস্থাকে ষথেষ্ট বলিয়া মনে করে। অনেকেই জনক ও শুকদেবের উপাখ্যান জানেন। রাজর্ষি জনক প্রভূত ধনের অধিপতি আর শুকদেব সৰ্ব্বত্যাগী। জনক শুকদেবের ধৰ্ম্মভাবের গভীরতা-পরীক্ষার চেষ্টা করিলেন। র্তাহার প্রাসাদের একদিকে অগ্নি-সংযোগ হইলে দেখিলেন শুকদেবের মন অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, কারণ তাঁহার কৌপীন সেইখানে শুকাইতে দিয়াছেন, প্রবাসী—কাৰ্ত্তিক, ১৩২২ [ ১৫শ ভাগ, ২য় খণ্ড /\,\.--്.-്.-```` .--്.സറാTarunnoBot (আলাপ) ২২:৩৪, ৩০ মার্চ ২০১৬ (ইউটিসি).ംTarunnoBot (আলাপ) —কিন্তু জনক নিশ্চল, শান্ত, ধীর । সৰ্ব্বত্যাগ করিয়াও শুকদেব কেীপীনের মায়া ত্যাগ করিতে পারেন নাই। মানুষের মধ্যে কতকগুলি প্রবৃত্তি আছে, সেই প্রবৃত্তিগুলিকে কিছুতেই ধ্বংস করিতে পারা যায় না, কিন্তু তাহদিগকে পরিচালিত করিয়া স্বপথে আনা যাইতে পারে। ধনলাভের আকাঙ্ক্ষ। পাপ নহে, ইহা একটি প্রবল প্রবৃত্তি। জঠরানলে ইহার জন্ম এবং সুখভোগেচ্ছায় ইহার বৃদ্ধি । মহাপণ্ডিত মার্শ্যাল বলেন ধৰ্ম্ম ও অর্থের আকাঙ্ক্ষায় মানুষ পৃথিবীতে যত সব মহৎ কাজ করিয়াছে। আমাদের দেশে বলা হইয়াছে "অর্থমনৰ্থ ভাবয় নিত্যম্’। কিন্তু অর্থই আবার চারি বর্গের মধ্যে একটি, সুতরাং অর্থ পদার্থটি निडाख छूछ् नग्न। आमि न बनिरन७ नकएनई हेश স্বীকার করিবেন। এখন প্রশ্ন এই, অর্থ কি মানুষের ক্ষমতার অধীন না ভাগ্যাধীন। অনেকেই হয়ত বলিবেন ইহা ভাগ্যাধীন। পাশ্চাত্যশিক্ষালব্ধ ব্যক্তিগণ ইহা স্বীকার করিবেন না। পুরুষকারের বাণী আমাদের দেশেও শুনা গিয়াছিল। কৰ্ম্মফলে আকাজ না করিয়া কৰ্ম্ম করাতেই ধৰ্ম্ম ; কৰ্ম্ম পরিত্যাগ করিয়া জড়জীবনে ধৰ্ম্ম নহে। গীতার বোধ হয় ইহাই সৰ্ব্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষা। মনুষ্যত্ব-লাভের জন্য অর্থের আবশ্যক । বিনা অর্থে জীবনের পরিপূর্ণত হয় না। কেবল ধৰ্ম্ম ধৰ্ম্ম করিলে ধৰ্ম্ম হয় না, সংযমে ধৰ্ম্ম । লাভেই প্রকৃত সংযমের পরিচয় পাওয়া যায়, অভাবে নহে। মামুষের দেহ জ্ঞান ও আত্মার উন্নতিই প্রকৃত উন্নতি। তাহাতে জাতির শক্তি বৃদ্ধি হয়, ভগবচ্ছক্তির বিকাশ হয়, প্রেমের প্রসার হয়, এবং পুণ্যলাভের সুযোগ হয়। অর্থ এই | সকল শক্তিলাভের একটি প্রধান উপকরণ । উদ্যম করিলেই এই অর্থ লাভ হয়। "উদ্যোগীনং পুরুষসিংহম্ । উপৈতি লক্ষ্মীঃ । দৈবেন দেয়ম ইতি কাপুরুষ বদস্তি।” ভারতবাসীর আর্থিক অবস্থার জন্য ভারতবাসীই দায়ী। অনেকসময় পরের উপর দোষ চাপাইয়া আমরা আনন্দ পাই, কিন্তু ভাবিয়া দেখিলে বুঝিতে পারিব উপরিউক্ত কথাটি কতদূর সত্য। - আর্থিক অবস্থা আলোচনা করিতে গিয়া আমাদের প্রধানতঃ তিনটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে হইবে। প্রথমত: ১ম সংখ্যা] আমরা আমাদের স্ববিধা ও সুযোগ-অনুসারে সামগ্ৰী উৎপন্ন করিতেছি কিনা। দ্বিতীয়তঃ, আমাদের উৎপন্ন সামগ্ৰী যথাযথরুপে বিতরিত হইতেছে কি না। তৃতীয়তঃ, ক্রয়বিক্রয় ও বাণিজ্যের কোন বাধা হইতেছে কি না, কিংবা তাহা দ্বারা সামগ্ৰী পুনরুৎপাদনের সুবিধা হইতেছে কি না। - -- সামগ্ৰী উৎপাদনের প্রধান উপাদান—ভূমি শ্রম ও মূলধন। ভারতের সকল ভূমি এখনও ব্যবহার হইতেছে না এবং তাহদের উৎপাদনশক্তির শেষ হয় নাই। কৃষিজাত দ্রব্যের জন্য যত ভূমি আবশ্বক তাহার অতিরিক্ত জমী এখনও আছে, তবে প্রদেশভেদে কম আর বেশী। ভূমির উৰ্ব্বর-শক্তি বৃদ্ধি করা যায়। সার-প্রয়োগ করিলে অধিক পরিমাণে শস্য উৎপন্ন হয়। ভারতে খুব কম স্থানে জমীতে সার দেওয়া হয়। তারপর প্রাকৃতিক শক্তি—ভারতে অত্যুচ্চ পাহাড়, গভীর নদী, খর वैजवाड অনেক আছে। বৰ্ত্তমান দুএক স্থানে এইসকল সম্পদের ব্যবহার আরম্ভ হইয়াছে। বোম্বাই-প্রদেশে কাবেরী-জলপ্রপাত হইতে তড়িচ্ছক্তি সংগ্ৰহ হইতেছে। হরিদ্বারের থর জলস্রোতে তড়িৎ-সঞ্চার হয়, কিন্তু এখনও স্থায়ীভাবে তথায় কোন শিল্প স্থাপিত হয় নাই। হিমালয়ের নানাস্থান আছে যেখানে নানারকমের কলকারখানা অতুি কম খরচে চলিতে পারে— কিন্তু এদিকে কোন উদ্যম নাই, কাহারও চেষ্টা নাই। সময়ে সময়ে মনে হয় বাকল সাহেব বুঝি সত্যই বলিয়াছেন যে ভারতের প্রাকৃতিক শক্তি মাহুষকে পঙ্গু করিয়া রাখিয়াছে। প্রাকৃতিক শক্তির ভীষণতা মানুষের শক্তির আয়ত্ত হইতে পারে লোকে বোধ হয় কল্পনা করিতে পারে নাই। আমি কিন্তু তাহ স্বীকার করি না। এই ভারতে সমূদ্রগামী নাবিক আছে। একসময়ে ভারতের সমুদায় নদীতে দূরগামী বছর চলিত। এখন কিন্তু ভারতবাসীর আত্ম চেষ্টা কম। দ্রুতগামী রেল অন্তর্বাণিজ্যের সহায়ত করিয়াছে বটে কিন্তু ভারতবাসীর একটা ব্যবসায় বিনষ্ট করিয়াছে। এই রেল যদি ভারতবাসীর দ্বারা পরিচালিত হইত তাহ হইলে দেশের তত ক্ষতি হইত না। কেবল মাত্র ব্যবসায়ের স্থান পরিবর্তন হইত মাত্র । পরিচালিত হয় বিদেশীর দ্বার, সমস্ত লাভ রেলওয়ে বিদেশীই ভারতের অর্থসমস্যা സTarunnoBot (আলাপ)ഹ ഹ. )-ు উপভোগ করে। মূলধন যদি ধার করিয়া এদেশীয় লোকের দ্বারা পরিচালিত হইত তাহাতেও আমাদের লাভ হইত। সেইজন্য বৰ্ত্তমান সমস্ত রেলওয়ে জাতীয় (national) করিয়া লইবার চেষ্টা হইতেছে। রেলওয়ে ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ কারবার, ইহাতে লক্ষলক্ষ লোক নিযুক্ত আছে। কিন্তু ভারতবাসীরা কেবলমাত্র নিম্নতম কৰ্ম্মে নিযুক্ত হয়। ইহার প্রধান পদ লাভ করিতে পারে না, কারণ বিদেশী কোম্পানী অধিকাংশ রেলওয়ে পরিচালনের ভার পাইয়াছেন। ঠিক সেই কথা অন্যান্ত কলকারখানায় খাটে। বিদেশী উদ্যমে দেশে কলকারখানা প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে ও হইতেছে। বাঙ্গলাদেশের পাটের কলের কথা মনে করুন; তাহাতে একজনও বাঙ্গালী প্রধান পদ লাভ করিতে পারে নাই, কারণ বিদেশী ব্যবসায়ী নিজেদের দেশের লোকের উপর অধিক বিশ্বাস করে। আমরা কেবল সেখানে কুলী থাকিতে পারি, ইহার অধিক অধিকার আমাদের নাই। বৰ্ত্তমান যুদ্ধের সময় ভারতের শিল্পের উন্নতির জন্য বিভিন্ন প্রদেশে অনুসন্ধান চলিতেছে। বাঙ্গলাদেশের অনুসন্ধানকৰ্ত্তা সোয়ানসাহেব বলিয়াছেন যে এদেশে- কোন বড় শিল্প প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। তাহার প্রধান কারণ দেশের লোকে পরিচালন-অক্ষম এবং তাহদের অর্থের অভাব। তিনি ধনীদিগকে অর্থ দিয়া শিল্প স্থাপিত করিতে উপদেশ দিয়াছেন। যৌথ-কারবার চলিতে পারে ন৷ ইহাই তাহার মত। ক্রমে যখন লোকের শিক্ষা বৃদ্ধি হইবে, তাহারা যখন কৰ্ম্মকুশলতা লাভ করিবে, যখন পরম্পর পরস্পরকে বিশ্বাস করিতে শিখিবে, তখন যৌথ-কারবার প্রতিষ্ঠিত হইতে পারে। সোজাকথা বলিতে গেলে এদেশের লোকে ব্যবসায় বোঝে না এবং ব্যবসানীতি উল্লঙ্ঘন করে। আমার বোধহয় । সোয়ানসাহেব আমাদের ব্যাধির ঠিক বিশ্লেষণ করিয়াছেন। তবে তাহার পন্থ অবলম্বন করিয়া চলিতে হইলে দেশের ধনাগম হইতে অনেক সময় লাগিবে। আমরা শ্রমকুশল নহি এবং আমাদের ধন নাই। এই দুই অভাব কি করিয়া মোচন করিতে পারা যায় ? ভারতবাসী স্বাবলম্বনপন্থা অবলম্বন করিয়া যদি এই দুই অভাব মোচন করিতে পারে তাহ। অপেক্ষা মঙ্গল আর কিছু হইতে পারে না।”