পাতা:প্রবাসী (পঞ্চদশ ভাগ, দ্বিতীয় খণ্ড).pdf/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


१७ शिकीड़ोईन डैनत्र शत्रेडश विश সে মনে করিল “কি এ মনোবিকারের পূৰ্ব্বলক্ষণ নয় ত?" , " ধীরে ধীরে ডাকিল “উপেন।" ~ স্বপ্তোখিতের মত চমকিয়া উপেন উত্তর দিল—“কেও ! সন্তোষ ! এস, বস।” - নানা কথার পর সন্তোষ উপেনের পক্ষে একটা ঘোর অীতিকর কথা পাড়িয়া ফেলিল। বলিল “উপেন, আজ তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করব-বলবে?” উপেন বলিল—“কি কথা আগে না শুনে বলব কি ন৷ কি করে বলি।” সন্তোষ হাসিয়া বলিল—“আরে আমি ত আর তোমাকে :কান অবক্তব্য প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করব ন!—তবে কথাটা তোমার নিজেরই সম্বন্ধে।” *. “আমার সম্বন্ধে ?” "ই তোমারই কথা। এই দেখ ভাই প্রায় ছবছর হল আমরা একসঙ্গে বাস করছি—এক কলেজে পড়ছি-কিন্তু এই ছ বছরের ভিতর তোমার মনোভাব কিছুই বুঝতে পারলুম না—তোমার হাবভাব, তোমার কার্য্যকলাপ আমার কাছে যেন একটা ঘোর প্রহেলিকাচ্ছন্ন বলে বোধ श्च ।” উপেন বলিল—“কই কি এমন তুমি দেখলে ? আমি ত অতি সাধারণ মানুষ।” সন্তোষ বলিল—“আচ্ছা তোমার বিয়ে হয়েছে—বাপ মা বাড়ীতে রয়েছেন—তবুও তুমি বাড়ী যাওনা কেন বলতে পার ?” উপেন যেন চমকিয় উঠিল—সে চুপ করিয়া রহিল। সন্তোষ বলিল “চুপ করে রইলে যে ?” উপেন নীরব। - অনেকক্ষণ পরে একট। দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করিয়া সে বলিল “আছে বৈকি কিছু কারণ " সন্তোষ বলিল “সেইটাই ত শুনতে চাই।” উপেন কিছুতেই তাহার মৰ্ম্মকথা কাহাকেও জানাইতে রাঙ্গী হইত না, তবে আজ সন্তোষ কিছুতেই যখন ছাড়িল না তখন অগত্য সে তাহার জীবনের আমূল বিবরণ তাহাকে বলিল । কথাটা উপেনের কাছে যতই গুরুত্বপূর্ণ হউক না কেন SAMMSMMMMMM প্রবাসী—কাৰ্ত্তিক, ১৩২২ সংসারের মধ্যে থেকে, আত্মীয় স্বজনের মধ্যে থেকে, সেখান সালঙ্কারে ফাস করিয়া দিল। হাসি ঠাট্ট বিদ্ধপ—উপেন | [ ১৫শ ভাগ, ২য় খণ্ড সন্তোষ সেটাকে অতি সাধারণ রকমের বলিয়া ধরিয়া লইল। তাহার কথা শুনিয়া সে নিজে একটু বিরক্তও হইল, বলিল —“এই কথা ! সেই বঙ্গবীরের দাম্পত্যজীবনের চিরবিখ্যাত ইতিহাস। খুব বাহাদুর তুমি। বাড়ী যাও বাপু বাড়ী যাও। সব কাজই বাড়ী থেকে আরম্ভ করতে হয়। এ রকম ফাকি দিয়ে দায়িত্বশূন্ত হয়ে অনেকেই বড় হতে পারে, কিন্তু কার সমস্ত কৰ্ত্তব্য পালন করে, সমস্ত আপদবিপদের অংশ গ্রহণ করে, যে বড় হতে পারে, সেই যথার্থ বড়। বড় কে ? যে বনে গিয়ে সন্ন্যাসী হয়, না যে সংসারে থেকে দশ জনকে খেতে পরতে দিয়ে মানুষ করে ? বড় কে ? যে মেসে বসে ঘোর চিস্তায় দিনগুলা কাটিয়ে তার নিরপরাধ পত্নীর জীবনের সমস্ত স্থখ কেড়ে নেয়, না যে নিজের স্ত্রীপুত্ৰৰে মুখী করে পিতামাতাকে স্বর্থী করে দেশের উপকার করে? ও সব পাগলামি ছেড়ে দাও।” আর সহ হয় না—সস্তোষের কথাগুলা উপেনের কানে বিষের মত লাগিতেছিল। সে চীংকার করিয়া উঠিা বধিল—“বাস্। আমি তোমার লেকচার শুনতে চাই না। লেকচার শোনবার আমার কোনও আবশ্যক হয়নি। আশা করি আমার সম্বন্ধে তোমরা ভবিষ্যতে আর কখনও কোন আলোচনা করবে না।” তাহার উচ্চ আদর্শের মৰ্ম্মতাহার উচ্চ আকাঙ্ক্ষার কথা—সন্তোষ কি বুঝিবে ? - সন্তোষ হাসিয়া উঠিল, বলিল “আচ্ছা সে দেখা যাবে। এদিনকার ঘটনার ফল হইল,এই যে সেদিন সন্তোন যাহা যাহা শুনিয়াছিল তাহা মেসের প্রত্যেকের অতিষ্ঠ করিয়া তুলিল। উপায় না পাইয়া কাহাকে কিছু না বলিয়া উপেন একদিন সকলের অনুপস্থিতিতে মেস পরিবর্তন করিয়া ফেলিল । ( $ ) দীর্ঘ ছয়বৎসর কালের অতীত গহ্বরে লুপ্ত হই। গিয়াছে। অমল। এই দীর্ঘ ছয় বৎসর তাহার বুকে পাৰা বাধিয়া কাটাইয়াছে। - সে অশিক্ষিতা সামান্ত গ্রাম্য-বালিকা-তাহার ক্ষু | ১ম সংখ্যা ] ত্যাগ ዓፃ സTarunnoBot (আলাপ)ു SJMSMSMSMSMSMSMSMSMSMSMSMSMSMS হৃদয়ে ভবিষ্যতের যে-একটা অস্পষ্ট চিত্র স্বপ্নের মত দ্বারা হইবে না, সে ত পূর্কেই স্থির করিয়া রাখিয়াছে। তাহার জীবন প্ৰভাতে ঈষৎ ফুটিয়া উঠিয়াছিল, হতাশার কঠোর হস্ত তাহ ধীরে ধীরে মুছিয়া লইয়া গিয়াছে। ভবিষ্যং জীবনের একট। উচ্চ আকাঙ্ক্ষ কখনও তাহার মনে স্থান পায় নাই—সামান্য বালিকা বধূ সে, তাহার মনে উচ্চ আশা কিছুই ছিল না। যন্ত্রচালিতের মত শ্বশুরশাশুড়ীর আদেশ পালন করিয়াই সে তাহার সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষার সফলতা পাইত বৈদেশিক ইতিহাসে বীরাঙ্গণার কীৰ্ত্ত কখনও সে পড়ে নাই, সে আদর্শের দিকে তাহার মন কখনও ধাবমান হয় নাই। পিতৃগৃহে পিতা মাতাকে ছাড়িয়া শ্বশুরবাড়ীতে শ্বশুর-শাশুড়ীকে দেখিয়৷ তাহাদিগকেই তাহার একমাত্র আদর্শ মনে করিত। সুখ

  • দুঃখের একটা নিযুত ছবি কখনও তাহার মনে আসে নাই। সে কোন কাজেই অতিশয় দুঃখিত হইত না-- আনন্দাতিশয্যেও কখন বিকল হইয় পড়িত না।

স্বামীর সম্বন্ধে তাই বলিয়া সে যে ভাবিত না এমন নহে। এ পর্য্যস্ত সে স্বামীর সহিত কখনও কথা কহে নাই—স্নেহ ভালবাস পাওয়া দূরে থাকুক, দুইট মিষ্টকথা পৰ্যন্ত শুনে নাই-কাজেই সে দাম্পত্যজীবনের চিত্রটা সেই রকম ভাবেই আঁকিয়া রাখিয়াছিল। স্বামীসন্দর্শন হয় ন৷ বলিয়া যখনই তাহার মনে কষ্ট হইত তখনই সে মনে করিত "পাঠের জন্যই তিনি ত আসিতে পারেন না—তা আর কি হইবে ?" যাহাকে সকলে স্ত্রীর প্রতি দুব্যবহার বলে সে সেগুলাকে আবশ্যকীয় বলিয়া ধরিয়া লইত। সরল হৃদয় বলিয়া বোধ হয় সে এত সহ করিতে পারিত, যদি কখনও ঘূণাক্ষরে সে তাহার নির্দয় স্বামীর মনোভাব জানিতে পারিত ডাহা হইলে তাহার কোমল হৃদয় এতদিনে নিষ্পেষিত হইয়া যাইত কি না কে জানে ? ( & ). উপেন এখন নূতন মেসে থাকে। এ মেসে আসিয়া পধ্যস্ত সে পিতাকে কোনও সংবাদ দেয় নাই। তাহার কারণ এই যে এইবার যা হয় একটা করিবে—এই ব্যাপারটাকে সে আর তাহার জীবনের কণ্টক করিয়া রাখিবে ন। স্ত্রীপুত্র লইয়া সংসারধাত্র প্রতিপালন করা তাহার আপাতত সে তাহার কৰ্ত্তব্য দেখিল-যদি সে পাপের বোঝা ঘাড় হইতে নামাইতে চায় তৰে তাহাকে দেশ ছাড়িতে হইবে । ভাবিয়া সে স্থির করিল কোন একটা স্ববিধা পাইলেই বিদেশে চলিয়া যাইবে—সেখানে যাইয়া মামুষের মত জীবন যাপন করিবে। দেশে ফিরিবার মত যদি সে তাহার অবস্থা উন্নত করিতে পারে তবে ফিরিবে, নচেং নহে। তাহার মত সামান্ত লোক ত প্রতিবৎসর ম্যালেরিয়ায় লক্ষ লক্ষ মরিতেছে—ম্যালেরিয়ায় মরিয়া কি হইবে ? তাহা অপেক্ষা যেখানে মাহৰ মানুষের মত মরিতে জানে—সেইখানে গিয়া মরাই ভাল। এ প্রস্তাব পিতার কর্ণগোচর করিলে হয় ত নানা অস্ববিধ ঘটিবে-কাজ * নাই সে-সব ঝঞ্চাটে । যথাসময়ে সংবাদ দিবে স্থির করিল। ( ७ ) জীবনে কষ্ট কাহাকে বলে তাহাই অমলাকে জানাইবার জন্য সেবার তাহার শ্বশুর পীড়িত হইলেন। বহুদিন হইতেই তাহার কাসির অস্থখ ছিল, সম্প্রতি সেটা খুব বাড়ীবাড়ি,রকমের হইয়াছে। তাহার জীবনব্যাপী এই রোগের জন্যই তিনি উপেনকে ডাক্তারী পড়িতে পাঠান। উপেন ডাক্তার হইলে তাহার সুচিকিৎসার আর ভাবনা থাকিবে না সে আশা ত খুবই পুরিল ? সংসারে তাহার একমাত্র পুত্রবধু অমলা ও পত্নী। উপেনের অনুপস্থিতিতে তিনি অমলাকেই তাহার পুত্রের স্থান দিয়াছেন। একমাত্র পুত্রবধু অমলা শ্বশুরশাশুড়ী উভয়ের সমস্ত হৃদয়টা অধিকার করিয়া রাখিত—ৰ্তাহাদের সমস্ত স্নেহভালবাসার উপর সে একছত্র আধিপত্য করিত। অমলারও আনন্দের মধ্যে ছিল তাহার শ্বশুরশাশুড়ী। কাজেই শ্বশুরের অমুখে অমল বড়ই চিস্তিত হইয়া পড়িল— তাহার কোমল অন্তঃকরণকে ব্যথিত করিয়া তুলিল। প্রথম-প্রথম তিনি উঠিয়া হাটিয় বেড়াইতে পারিতেন, ইদানীং ডাক্তারে তাহাও ৰাৱণ করিয়াছে। এরূপ অবস্থায় উপেনকে বাটী আসিবার জন্ত লেখা তাহারা খুবই আবশ্বক বোধ করিলেন। বৃদ্ধ রোগশয্যায় শুইয়া নিজেই পত্র লিখিলেন "বাব, আমার বড়