পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ت& ss$ মবিয়া আপনাকে পলিফা বলিয়া ঘোষণা করিয়াছিলেন । আলী পরাক্রান্ত শত্রর বিনাশ জন্য অসংখ্য সৈন্য সহ সিরিয়া দেশ আক্রমণ করিলেন। উভয় সৈন্য পরস্পরের সন্মুখীন হইলে তুমুল যুদ্ধ আরন্ধ হইল। বহু যুদ্ধের পর মাবিয়ার পক্ষে পরাজয়ের লক্ষণ দৃষ্ট হইল। তখন মাবিয়ার পক্ষভুক্ত স্বচতুর সেনাপতি ওমরের পরামর্শে সৈন্যগণ গঞ্জরের অগ্রভাগে এক এক খণ্ড কোরণ ধারণ করিয়া বলিতে লাগিল, “ধৰ্ম্মগ্রন্থের নামে তোমাদিগকে যুদ্ধ গুণন্ত করিতে বলিতেছি।" এই কৌশলে প্রতারিত হইয়া আলীর সৈন্যগণ যুদ্ধ ক্ষান্ত করিল ; আলী কোন উপায়েই তাহাদিগকে পুনৰ্ব্বার যুদ্ধে নিরত করিতে পারিলেন না। মাবিয়া সুযোগ বুঝিয় সন্ধির প্রস্তাব উপস্থিত করিলেন। মাবিয়ার পক্ষ হইতে ওমর এবং আলীর পক্ষ হইতে আবুলুস মীমাংসক মনোনীত হইলেন । ইহাদের নিদ্ধারণ মত সন্ধি করিতে আলী এবং মাবিয়া উভয়েই প্রতিশ্রুস্ত হইলেন। আলী কুফায় এবং মাবিয়া দামস্কাসে প্রতিগমন করিলেন। অতঃপর আধুমুসা এবং ওমর সন্ধির সূৰ্ত্ত নিদ্ধারণ করিতে সম্মিলিত হইলেন। আবুমুসা সরল প্রকৃতি ছিলেন। ওমর তাহাকে বলেন, “দেশ মধ্যে শাস্তি স্থাপন কল্পে আলী এবং মাবিয়া উভয়কেই পদচ্যুত করিয়া নূতন খলিফ নিযুক্ত করা আবখ্যক ।” আবুমুসা তদীয় বাক্যে বিশ্বাস স্থাপন করিয়া এই প্রস্তাবে স্বীকৃত হইলেন। যথাসময়ে তাহারা উভয় পক্ষীয় সৈনোর নিকট এই প্রস্তাব ঘোষণা করিবার জন্য উপস্থিত হইলেন । ওমরের কৌশলে আবুমুসা প্রথমে বেদীতে আরোহণ করিয়া বলিলেন, “হে সৈন্যগণ, দেশ মধ্যে শান্তি স্থাপন কয়ে আলী এবং মাবিয়া উভয়কেই পদচ্যুত করা আবগুক।” তার পর স্বীয় অঙ্গুলি হইতে অঙ্গুরীয়ক খুলিয়া লইয়া কহিলেন, “আমি এই অঙ্গুরীয়কের ন্যায় আলী ও মাবিয়াকে খুলিয়া লইলাম। এগন নূতন খলিফা মনোনীত করিতে হইবে” । ইহার পয় তিনি বেদী হইতে অবতরণ করিলেন। তাহার অবতরণের পর মুচতুর ওমর বের্দীতে আরোহণ করিয়া বলিলেন, “হে সৈন্যগণ, খলিফার শূন্য পদে আমি নাবিয়াকে মনোনীত করিলাম।” তার পর আকুমার পরিত্যক্ত অঙ্গুরীয়ক স্বায়ু অঙ্গুলিতে ধারণ করিয়া কহিলেন, "আমি এই অঙ্গুরীয়কের ন্যার মাবিয়াকে খলিফার পদে প্রবাসী। সংস্থাপন করিলাম।” তাহার বাক্যে সকলে বিস্থিত হইল। আলীর সৈন্য মধ্যে অসন্তোষ ধ্বনি উঠিল। তাহারা উভয় । মীমাংসককেই যথোচিত তিরস্কার করতে লাগিল। আবুমস উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করিলেন, “ওমর যে এরূপ কথা কহিবেন, । আমি তাহার কিছুই অবগত ছিলাম না।” (১) একজন সৈনিক পুরুষ ক্ৰোধ সংবরণ করিতে না পারিয়া ওমরের মস্তকে বেত্ৰাঘাত করিল। আলী এই অদ্ভুত মীমাংসা গ্রহণ করিতে স্বীকৃত হইলেন না। কিন্তু উভয় পক্ষীয় সৈন্যই দীর্ঘকালের তুমুল যুদ্ধে পবিশ্রাপ্ত হইয়া পড়িয়াছিল। এজন্য তাহারা আর যুদ্ধে নিরত না হইয়া স্ব স্ব স্থানে প্রস্থান । কলিল । এই ঘটনার পর হইতেই মবিয়ার ক্ষমতা ক্রমশঃ বৃদ্ধি । প্রাপ্ত হইতে লাগিল। মাবিয়া কৌশলে মিশর অধিকার করিয়া স্বীয় হিতৈষী ওমরকে শাসনকর্তৃপদে নিযুক্ত করিলেন। ওমর পূর্ববৰ্ত্তী শাসনকর্তা মোহাম্মদকে (ইনি আবুবকরের পুত্র ) বন্দী করিয়া গর্দভ চৰ্ম্ম মধ্যে দগ্ধ করিলেন । (২) আবুবকরের পুত্রের তাদৃশ শোচনীয় হত্যায় শ্রদ্ধাবান । মোসলমান মাত্রেই ক্ষুব্ধ হইয়াছিলেন। এই দুর্ঘটনার পর । বৎসর মাবিয়া আরব দেশ আক্রমণের জন্য সৈগুপ্রেরণ করিলেন । মক্কা, মদিনা ও এয়মানের অধিবাসীর কিয়ৎকাল তাঁহাদের গতিরোধ করিতে সমর্থ হয় ; কিন্তু স্বজাতির রক্তপাতে ভীত হইয় অচিরেই মবিয়ার নিকট বস্তৃতা জ্ঞাপন করে। আলী ইসলাম সাম্রাজ্যের এইরূপ বিশৃঙ্খল যুশন করিয়া মৰ্ম্মপীড়িত হইলেন। তিনি আর একধায় পূর্ণতেজে শত্রর ধলপরীক্ষা করিয়া দেখিতে সঙ্কল্প করিলেন। মবিয়াকে বিধ্বস্ত করিবার জন্ত ষষ্টি সহস্র সৈন্য সংগৃহীত হইল । o o ( ১ ) আমীর আলী প্রভৃতি কতিপয় ইতিহাস-লেখকের মতে কালুমুল গোপনে গোপনে আলীর বিরুদ্ধবাদী ছিলেন। গুহার ঘলেন যে, ওম্মিয় বংশীয় খলিফাগণ উত্তরকালে আৰুমূসাকে বৃত্তিপ্রদান করিয়াছিলেন । - ( ) আলীর শাসনকালের প্রারম্ভে আবদুল্ল মিশরের শাসনকর্ষ ছিলেন। জলি কয়লকে তৎপদে নিযুক্ত কষ্টিয়া পাঠান। কিন্তু - [ ৫ম ভাগ । ...” কিন্তু এই সৈন্তসঙ্গ বাত্রা করিবার পুর্কেই আলীর iীবনাস্ত হইয়াছিল। এই সময় অবদ্বোর রহমান, ইয়জক এবং ওমর নামক তিনজন ধৰ্ম্মোন্মত্ত ( Panatic) ব্যক্তি মক্কা নগরীতে বাস করত । আলী ও মাবিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিবন্ধন দেশ মধ্যে যে অশান্তি উপস্থিত হইদ্বাছে, তাছা কি উপায়ে ভিরোহিত করা যাইতে পারে, তৎসম্বন্ধে পরামর্শ করিবার জন্ত এক দিন তিন বন্ধুতে সম্মিলিত হয় । তাহারা Z ঠিক করে যে, আলী, মবিরা এবং ওমরের মৃত্যু বাতীত দেশব্যাপী অশাস্তির নিবারণ হুইবে না। অতঃপর অবদোর রহমান আলীর, ইয়জক মাবিয়ার এবং ওমর ওমরের ইত্যার ডারগ্রহণ করে। রমজান মাসের সপ্তবিংশ রচনাতে উহাদের সাধারণ মসজিদে উপাসনা করিবার নিয়ম ছিল । দুৰ্ল্লত্তের এই সুযোগে সঙ্কল্পিত ছদ্ধাৰ্য সাধন করিতে মলন করে। ইয়ুজক যথাসময়ে দামস্কাসে উপনীত হইয়া মসজিদে প্রথিষ্ট হয়। মবিয়া মসজিদে গমন পূৰ্ব্বক উপাসনায় নিরন্ত হইলে ইয়জুক তাহাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে। কিন্তু তাহার লক্ষ্য ভ্ৰষ্ট হয়। মাবিয়ার অমুচরেয় তাহাকে ধৃত করে , তাহার প্রাণদণ্ড হয় । ওমর নির্দিষ্ট রাত্রিতে মিশরের মসজিদে উপস্থিত হইয়া উপাসনারত ব্যক্তির জীবনান্ত করে। কিন্তু নিহত ব্যক্তি তাহার উদিষ্ট ওমর হইতে পৃথক ব্যক্তি ছিলেন। ওযর পীড়া নিবন্ধন মসজিদে গমন করিতে ন পারিয়া করিজ মামক এক ব্যক্তিকে উপাসনার কার্য্য নিৰ্বাহ করিতে নিযুক্ত করেন। মসজিদের রক্ষকেরা হত্যকারী ওমরকে ধৃত করিয়া শাসনকৰ্ত্তা ওমরের নিকট আনয়ন করে। ওমরের আদেশে তাহার শিরচ্ছেদন হইয়াছিল। অবদোর রহমান স্বীয় সংকল্প সাধন করিবার অভিপ্রায়ে কুক্ষীয় গমনপূৰ্ব্বক একজন রূপবতী বিধবার গৃহে আশ্রয় গ্রহণ করে। অবদোর রহমান তাহার রূপে মুগ্ধ হইয়া বিবাহের প্রস্তাব করে। এই য়ুমণীপ স্বামী আলীর জনৈক সৈনিকের হস্তে জীবন বিসর্জন করিয়াছিল । এই ফারণ প্রতিহিংসাপরায়ণা রমণী উত্তর করে, “আমি পণ করিয়াছি - নে, যে ব্যক্তি আমাকে তিন সহস্র রৌপ্য মুদ্র, একজন তিনি আবদুল্লার হন্ত হইতে শাসনভার গ্রহণ করিতে অসমর্থ - হইয়া ফিরিয়া আইসেল । অতঃপর মোহাম্মদ আলীর পক্ষ হইতে । নিপরে গমন করেন, এবং আবদুল্পীকে দূরীকৃত করির শাসনভাৰ গ্রহণ করিতে সমর্থ হুল । ক্রীতদাস, একটা দ্বাণী ও আলীর মস্তক যৌতুক দিতে পরিবে, আমি তাহাকেই বিবাহ করিব।” অবদোর রহমান এই প্রস্তাবে স্বীকৃত হয়। রমণী তাঁহার সহায়তার জন্য খোলফায় রাশেদিন । ఫిళ ধারওয়ান ও সহিব নামক দুই জন ছৰ্ব্বস্তুকে নিযুক্ত করে। এই তিনজন ছৰ্ব্বস্তু রমজান মাসের সপ্তবিংশ রজনীতে মসজিদে প্রবেশ করিয়া উপাসনারত আলীকে আঘাত করে। তিন দিন পরে তাহার জীবনান্ত হয় । মোহাম্মদের প্রিয়তম আলীর ঈদৃশ শোচনীয় পরিণালে শ্রদ্ধাবান মোসলমান মাত্রেই দুঃপে ম্ৰিয়মান হন । আলী মোহাম্মদের কত দূর প্রিরপত্রি ছিলেন, তাহ প্রদর্শন করিবার জন্য আমরা তাহার একটা বাক্য উদ্ধৃত করিতেছি। মোহাম্মদ কোন উপলক্ষ্যে খুলেন, “হে পরমেশ্বর, আলীর বন্ধুর প্রতি প্রসন্ন হও, এবং আলীর শত্রকে নিৰ্য্যাতন কর।” কোনূ কারণে আলী মোহাম্মদের ঈদৃশ প্রতিলাভ করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন ? পিতৃমাতৃহীন মোহাম্মদ বাল্যকালে জোষ্ঠতাত আবুতলেবের গৃহে প্রতিপালিত হন। আলী আধুতালেষের পুত্র। আবুস্তালেবের সাংসারিক অবস্থা সচ্ছল ছিল না। এই জন্য মোহাম্মদ উপাৰ্জনক্ষম হইয় আবুতালেবের সংসারভার লাঘব করিখার অভিপ্রায়ে আলীর ভরণপোষণের ভার গ্রহণ করেন। তদবধি আলীর সহিত মোহাম্মদের প্রতির অচ্ছেদ্য বন্ধন স্থাপিত হয় । মোহাম্মধ ইসলাম ধৰ্ম্ম প্রচার জছা উত্থিত হইলে পূৰ্ব্ব প্রথমে খাদিজা তাহার প্রচারিত সত্যে বিশ্বাসস্থাপন করেন, তার পরেই আলী দীক্ষিত হন। কোরেশের মোহাম্মধ ও তদীয় শিষ্যগণকে নিপীড়ন করিতে আরম্ভ করিলে আলী অম্লান চিত্ত্বে সমস্ত সহ করিতে থাকেন, এবং একবার নিজের প্রাণ বিপদসঙ্কুল করিয়াও মোহাম্মদকে রক্ষা করেন । মোহাম্মদ ও তদীয় শিস্যগণ কোরেশের নিপীড়ন সহ করিতে ন পারিয়া মদিলায় গমন করেন। আলী সৰ্ব্বশেবে গদিনা পরিত্যাগ করেন। মোহাম্মদের কোন কাৰ্য্য উদ্ধার করিবার জন্তই আলী উাহার মঞ্চ পরিত্যাগের পরেও কয়েক দিন নিৰ্ব্বান্ধব অবস্থায় শত্রপুরীতে বাস করিতেছিলেন । দ্বিতীয় হিঞ্জিরীতে আলী মোহাম্মদের প্রিয়তম কন্ঠ ফতেমার পাণিএহণ করেন । সেই বহুবিবাহের যুগে আলী একনিষ্ঠ গ্রেমের আদর্শ স্বরূপ ছিলেন। ফতেমার জীবদ্দশায় আলী আর বিবাহ করেন নাই। তাহাদের দাম্পত্যজীবন প্রণয়কলহে অম্লমধুর হইত। একদা রজনীযোগে আলী ফতেমার