পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ుసెbr সহিত কলহ করিয়া গৃহ হইতে বাহির হন, এবং উপাসনামন্দিরের প্রাচীরপাশ্বে গমন করিয়া শয়ন করেন । মোছাম্মদ এই সংবাদ অবগত হইয়া তথায় উপনীত হন এবং তাহার পৃষ্ঠের ধুলিরাশি মার্জন করিতে আরম্ভ করিয়া বলেন, “হে আবুতোরাব ( ধূলি রাজ্যের অধিপতি , গাত্রোথান কর ।” তদবধি আলীর অন্য নাম আবুতোরাব হইয়াছিল। কেহ আলীকে এই নামে সম্বোধন করিলে তিনি পরিতুষ্ট হইতেন । মোহাম্মদের পরলোকগমনের পর কয়েক বাস মধ্যেই ফতেমার মৃত্যু হয়। অতঃপর আলী ক্রমান্বয়ে আট বিবাহ করেন । তিনি এই বিষয়েও মোহাম্মদের অনুসরণ করিয়াছিলেন বলিরা বলা যাইতে পারে। আলী নরতিশয় জ্ঞানবাণ ছিলেন । মোহাম্মদ বলিতেন, আমি জ্ঞানপুরী, আলী এই পুরীর দ্বারস্বরূপ। উত্তরাধিকার ও অন্যান্য আইনে আলীর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল । আলী শৌর্য্যবীর্য্যের আধার ছিলেন। লোকে তাহাকে আসদোল্যা নাম দিয়াছিল। আসদোল্যা শব্দের অর্থ ঈশ্বরের সিংহ। যুদ্ধ আলীর অতি প্রিয়কাৰ্য্য ছিল। একবার মোহাম্মদ তাহার হস্তে মদিনারক্ষার ভাল ন্যস্ত করিয়া নিজে যুদ্ধে গমন করিয়াছিলেন। তাহার যাত্রাকালে আলী বলেন, “হে প্রেরিত পুরুষ, আপনি যুদ্ধে গমন করিতেছেন, আর আমাকে স্ত্রীলোক ও বালকগশের মধ্যে রাথিতেছেন ।” আলীর বিশ্বাস র্তাহার অসাধারণ জ্ঞানবস্তু ও অতুল শৌর্য্যবীৰ্য্যেরই অমুরূপ ছিল । মোহাম্মদ বলিতেন, আলী ঈশ্বরকে ও তাহার প্রেরিত পুরুষকে ভাল বাসেন, এবং ঈশ্বর ও তাহার প্রেরিত পুরুষও আলীকে ভাল বাসেন । ফলতঃ, আল বহুগুণালঙ্কৃত মহাপুরুষ মোহাম্মদের অনুরূপ ছিলেন। মোহাম্মদ একদিন ফতেমাকে সম্বোধন করিয়া বলেন, “হে ফতেম, পরমেশ্বর মরলোকের মধ্যে কেবল দুইজনকে গ্রহণ করিয়াছেন, একজন তোমার পিতা, অপর জন তোমার পতি ।” এই সকল কারণেই আলী মোহাম্মদের তাংশ প্রিয়পাত্র ছিলেন, এবং মোহাম্মদ ঈশ্বরের নিকট আলীর শক্রকে নিৰ্য্যাতন করিবার জন্য প্রার্থনা করিয়াছিলেন । - কাল পাঁচ বৎসরকাল শাসনদও পরিচালনা করেন । তাহার শাসনকাল গুহকলহেই অতিবাহিত হইয়াছিল। প্রবাসী। [ ৫ম ভাগ । এই কারণ তাহার সময়ে পররাজ্য জর জন্য কোন উদ্যোগ হইতে পারে নাই। কেবল মাত্র একবাল সিন্ধুদেশ আক্রমণ জন্য সৈন্থ প্রেরিত হইয়াছিল। ৬৫৯ খৃষ্টাব্দে সেনাপতি হরেস খলিফার অনুমতি ক্রমে সিন্ধুদেশে সসৈন্তে গমন করেন। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে জয়লাভ করিয়া দেশগুণ্ঠন এবং বহুসংখ্যক লোক বন্দী করেন। কিন্তু পরিশেষে অধিকাংশ সহচর সহ কিঞ্চন নামক স্থানে নিহত হইয়াছিলেন । হাসন । (৬৬০ খৃঃ) পরলোকগমনকালে আলী কাহাকেও উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন নাই। তাহীর মৃত্যুর পর বিশিষ্ট মোসলমানগণ তীয় পুত্র হাসনকে একবাক্যে খলিফার পদে নিৰ্ব্বাচিত করেন। হাসন স্তায়পরায়ণ, সরলচেতা, পরোপকারী এবং ধৰ্ম্মাম্বুরাগী ছিলেন ; কিন্তু তাহার তাদৃশ সাহস ও শৌৰ্য্যীৰ্য্য ছিল না । হাসন খলিফার পদে বৃত হইয়া পিতৃসংগৃহীত বিপুল সৈন্য সহ মাৰিয়ার বিরুদ্ধে বাত্রা করিলেন। স্বজাতির রক্তপাতে র্তাহার নিজের অনুরাগ ছিল না। হিতাকাজী মোসলমান অগ্রণীগণের উত্তেজনাই তাহাকে যুদ্ধে প্রবৃত্ত করিয়াছিল। যুদ্ধ আরন্ধ হইবার পূৰ্ব্বেই সৈন্তগণ মধ্যে আত্মফলছ উপস্থিত হয়। শান্তিপ্রিয় হাসন এই ধটনায় বিরক্ত হইয়া সন্ধির প্রস্তাব করেন । তদীয় কনিষ্ঠ ভ্রাতা তেজস্বী হোসেন প্রভৃতি অগ্রণীগণ এই প্রস্তাবের বিরোধী হয়েন। একজন সহচর হাসনকে বলেন, “হে মোসলমানকলঙ্ক, শান্তিলাভ করুন!” হাসন উত্তর করেন, “আমি মোসলমানকলঙ্ক নছি, কিন্তু য়াঙ্ক্যলাভের অদ্য তোমাদের রক্তপণ্ড করিতে ইচ্ছুক নহি ।” কাহারও প্রতিবাদে কোন ফলোদ্য হইল না । নিম্নলিখিত সৰ্ত্তে সন্ধি স্থাপিত হইল। (১) হাসন থলিফার পদ পরিত্যাগ করবেন। (২) মাৰিয়া খলিফা হইবেন। (৩) মাবিয়ার মৃত্যুর পর হাসন খলিফ হইবেন। (৪) কুফার রাজকোষের সঞ্চিত অর্থ হাসন প্রাপ্ত হইবেন । (৫) পারস্তের কিয়দংশের রাজস্ব হাসন বৃত্তি’ স্বরূপ প্রাপ্ত হইবেন । (৬) মাবিয়া হাসনের সম্মুখে আলীর কোনরূপ নিন্দ করিবেন না। সন্ধি স্থাপিত হইলে হাসন .৪র্থ সংখ্যা । ] শাসনভার পরিত্যাগ পূৰ্ব্বক মধিনায় গমন করিয়া বাস করিতে আরম্ভ করেন • | সমাপ্ত । খ্রীরামপ্রাণ গুপ্ত। বৈদিক ভারতে অনার্য্য জাতি। ভারতবর্ষ আৰ্য্যজাতির একটি উপনিবেশ। কতদিন পূৰ্ব ইগর এদেশে আসিয়ছিলেন তাহ নিশ্চয় করিয়া -ৰূল যার না। তবে যতদূর প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে তাহাতে মনে হয় সম্ভবতঃ ৭••• বৎসর পূর্বে এই উপনিবেশ প্রথম স্বাপিত হইয়াছিল। ভারতের আকর্ষণী শক্তি । তারতবর্ষ নাকি রত্নগর্ভ। এই রহ্লাভের আশায় বিদেশীয়গণ ক্রমাগতই এখানে আসিতেছে। ইংরাজ রাজত্ব ভারতে স্বপ্রতিষ্ঠিত হইবার পূৰ্ব্বে ফরাসীগণ, ওলন্দাজগণ এবং স্পেন ও পেটুগালমাসীরা এখানে প্রাধান্য স্থাপনেয় চেষ্টায় ছিল । ইহুদিগের সকলেরই উদ্দেশু ছিল লুঠপাঠ। as a.. বৎসর ইউরোপের কত জাতিই ন ভারতবর্ষকে গাল করিবার চেষ্টা করিয়াছে। ইহার পূৰ্ব্বে ৮০০ বৎসর ফুলমানদিগের রাজত্ব। বৈদিক যুগ্ম হইতে আরম্ভ করিয়া খ্ৰীয় সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত হিন্দুগণ ভারতবর্ষে রাজত্ব করেন। মধ্যে গ্রীক ও শকগণ এদেশ আক্রমণ করিয়াছিল। আৰ্য্য লি জাতি, শক ও মুসলমানগণ এখন ভারতের অধিবাসী . কিন্তু ইহারা সকলেই যে বাস করিবার জন্য এদেশে আসিছিল তাঁহা নহে। শকগণ আসিয়াছিল লুণ্ঠন করিবার হন এবং মুসলমানগণের উদ্যেও মহত্তর ছিল না। একমাত্র আর্যজাতিই বাসস্থানের অনুসন্ধানে ভারতবর্ষে প্রবেশ করিয়াছিল। ইহায় পূৰ্ব্বে যে স্থানে বাস করিত তাই | অপেক্ষাকৃত অমুৰ্ব্বর, এবং জলাশয়ের অভাবেও ইহধিগকে ইত্যন্ত কষ্ট পাইতে হইয়াছিল। পশুপালন ও কবি বাইেিগর প্রধান কার্য, তাহদের পক্ষে জলাশয়বিহীন অম্বুৰ্বর ইসলাম সমাগেরলফ পড়েন মিললনলয়ামনি নাম DDDD DDDS DDBBBS BBBB BBBBB BB BB BBBS शृषाखणरी ५लिग(११ ।। __ বৈদিক ভারতে অনার্য্য জাতি । ుసెస్సె ভূমিতে বাস কল্প অসম্ভব। এই পশুপালন ও কৃষিকাৰ্য্যের সুবিধার জন্যই আর্য জাতিকে ভারতবর্ষে উপনিবেশ স্থাপন করিতে হইয়াছিল। বর্তমান পঞ্জাব প্রদেশ প্রাচীন সাহিত্যে পঞ্চনদ এবং সপ্তসিন্ধু নামে প্রসিদ্ধ। সিন্ধু এই দেশের একটা প্রধান নদ। শতদ্রু, বিপাশ, ইরাবতী, চন্দ্রভাগ,ও বিতস্তা পূৰ্ব্বভূ-ভাগকে বিধৌত করিয়া এবং কাবুল পশ্চিম দেশ হইতে প্রবাহিত হষ্টয়া সিন্ধুর সহিত মিলিত হইতেছে। এমন মনোরম ও উর্বর ভূমি আৰ্য্যগণের নয়নপথে আর পতিত হয় নাই। ভারতবর্ষে প্রবেশ করিব মাত্রই ইহাদের যনপ্রাণ মুগ্ধ হইয়া গেল। ইছারা সমস্থ করিলেন এই দেশেই বাসগৃহ নিৰ্ম্মাণ করিতে হুইবে । ভিন্ন ভিন্ন দল ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বাসস্থল নিদিষ্ট করিলেন। এইরূপে পঞ্চজনপদ এবং তৎপর সপ্তজনপদের কষ্ট হইল। দাস, দর্য ও রাক্ষস । কিন্তু আৰ্য্যগণ সহজে এইদেশ অধিকার করিতে পারেন নাই । যখন ইহারা ভয়তভূমিতে পদার্পণ করিয়াছিলেন, গুণন অপর একজাতি এই দেশে বাস করিত ঋষিগণ ইহাদিগকে দাস, দয়া ও রাক্ষস নামে অভিহিত করিয়াছেন । খগেন্ধে নমুচিশম্বরাদি অনেক দাস সেনাপতির উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়। কিন্তু পুরাণকারগণ ইহাদিগকে যে ভাবে চিয়িত করিয়াছেন, তাহাতে প্রকৃত তথ্য অবগত হওয়া অভ্যস্ত কঠিন হইয়া পড়িয়াছে। আধুনিক শাস্ত্র পাঠ করিয়া সাধারণের জ্ঞান হইয়াছে যে, শম্বরাদি দেবযোনি বিশেষ। প্রকৃত ঘটনা কি তাহা বিচার করা যাউক । দাস ও দূস্বাগশ কে প্রথমে তাহাই আলোচনা করিব। ঐতরেয় ব্রাহ্মণে লিখিত আছে – তোমার সন্তানসমূহ অন্ত প্রদেশ ভোগ করুক। অন্ত এদেশে ইহারাই অন্ধ, পুণ্ড, শবর, পুলিন্দ, মুজিব ইত্যাদি জাতি নামে খ্যাত। অধিকাংশ দম্বাই বিশ্বামিত্র হইতে উৎপয়— বৈশ্বামিত্রা দস্থ্যনাম ভূষ্টিা: ) ১৮ কোন কোন জাতি স্নানামে খ্যাত এখানে তাহা নির্দেশ কুর হইল কিন্তু ইগর মে বিশ্বামিত্র হইতে উৎপন্ন – তাহ ঋগ্বেদ দ্বারা প্রমাণিত হয় না। বরং ইহাই সত্য যে বিশ্বামিত্র প্রমুখ ঋবিগণ দহ্যগণের সহিত সংগ্রাম করিয়া ছিলেন (৩৩৪৬৯ ইত্যাদি )।