পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


نا ہ* পত্নীব্রত। রাখালের স্ত্রী মৃত্যুশয্যায়। ডাক্তার কবিয়াজ বিদায় লষ্টয়াছেন ; অবশিষ্ট পরমায়ু বড় জোয় ২৩ খৃষ্ট না। ক্ৰন্দনরত আত্মীয় স্বজন মুমুঘুকে ঘিরিয়া আছেন। মুমুঘু চক্ষ উম্মলিত করিয়া সকলের দিকে চাহিয়৷ চাহিয়া দৃষ্টি ফিরাইয়া লইতেছিলেন । রাখালের পিত পরলোকযাত্রীর মনোভাব বুঝিয়া পুত্রকে ডাকিয়া বলিলেন, “রাপাল, আমর মাহিরে যাইতেছি ; তুমি এই খানে একটু থাক।” সকলে বাহিরে গেলেন ; রাখাল স্ত্রীর শিয়রে বসিল । রাখালের স্ত্রী স্বামীর মুখের দিকে চাহিয়া রহিল। রাখাল বলিল, “তুমি কি আমায় কিছু বলিখে , তাহার স্ত্রী অতি ক্ষীণ কণ্ঠে ধীরে ধীরে বলিলেন, “তুমি বিবাহ কোরো।” রাখালের গও বাহিয়া ধারা বহিতেছিল । সে বলিল, “ন, আমি আর বিবাহ করিব না ।” তাহারী আবার বৃলিলেন, ‘ল, তোমার কষ্ট হবে, তুমি বিবাহ কোরো।” য়াখাল স্ত্রীর শুদ্ধ ওঠে একটু বেদনার রস দিয়া বলিল, “তুমি অন্ত কোন অনুরোধ কর, আমি প্রাণপণে পালন করিব ; কিন্তু এ অনুরোধ আমায় করিও না।” তাহার স্ত্রী আবার ক্ষীণ কণ্ঠে মুছভাবে থামিয়া বলিল, “তুমি কেন বিবাহ করবে না, পরকালে যদি আমার রাগ বা ঈর্ষার ক্ষমতা থাকে, তবে আমি বলিয়া বাইতেছি, আমি কিছুমাত্র অসন্তুষ্ট হইব না। তুমি স্বচ্ছনে বিবাহ করিও।” রাখাল সোহাগপুলকিত হস্তে স্ত্রীর হস্তধারণ করিয়া বলিল,"তুমি এ অম্বরোধ করিতেছ কেন, আমি বিবাহ করিতে পারিব না।” মুম্বন্ধুর ওষ্ঠের কোণে একটু ক্ষীণ হাস্তরেখা ফুটিয়া উঠিল। স্তিমিত দ্বীপ জলিয়া উঠিয়া নিৰ্ব্বাণ প্রাপ্ত হইল। সে হাসি অবিশ্বাসজনিত বিজপের, কি সন্তোষের তাহ ঠিক বুঝা গেল না। রাখাল বর্তমান কালের বিশ বৎসর পূর্বের বি, এ, উপাধিধারী। তখনো গ্রাজুয়েটের বর্তমান দুর্দশার স্বত্রপাত হয় নাই। রাখালের স্ত্রীর প্রান্ধ শেষ হইবার পূর্থেই স্নাথালের পাচ সাতটা বিবাহসম্বন্ধ উপস্থিত হইল। রাণীল সকলকে প্রতিপ্রমুখবচনে প্রত্যাখ্যান করিতে লাগিল। শ্ৰাদ্ধান্তে কণ্ঠাগ্রস্ত পিতৃগণ একত্র দলবদ্ধ হইয়া রাখলের পিতাকে আক্রমণ করিলেন । রাখালের পিত বলিলেন, প্রবালী । { ৫ম ভার্গ। “রাখালের বিবাহে আমার কোন আপত্তি নাই ; উৰে পুত্র বিদ্বনি ও বয়স্ক হইয়াছে, তাহার যে মত আহয়ে সেই মত জানিবেন। আপনার তাঁহাকে রাজ করিতে পরিলেই হইল।” গ্রামবুদ্ধগণ রাখালের পিতাকে এতাবৃণ পুত্রবণগ দেখিয় নিন্দ করিতে করিতে রাখালকে গিয়া আক্রমণ করিলেন। রাখাল নম্রভাবে তাহাদিগকে প্রত্যাখান করিল। বৃদ্ধগণ তখন রাখালকে তর্কে আহবান করিয়া বলিলেন, “তুমি কেন বিবাহ করবে না ? দীপাল হাসিয়া বলিল, “ইহার কোন কেন নাট। আমরা স্বত কঞ্জ করি সকলেরই কি একটা কারণ থাকে? দশটা অল্পে কাজের মধ্যে আমার এও একটা মনে করবেন।” বুদ্ধগণ নিতান্ত ক্রুদ্ধ হইয়া রাখাল ও তাহার পিতাকে গালি পীড়িতে লাগিলেন । যে কালে পিতার ইচ্ছাই শাস্ত্র ছিল সে কালে স্নাথালের পিতার পুত্রকে এতখানি প্রশ্রয়দান ও রাখালের এতগুলি বৃদ্ধের অবমাননা বুদ্ধদিগের নিকট নিতান্ত অসহ বোধ হইয়াছিল। তাহার মাথালের পিতার নিকট গিয়া তর্জন করিয়া বলিলেন, “ইংরাজি পড়িয়ে মেশ ফুলপাবণ পুত্র পেয়েছ। দেশটা উচ্ছন্ন গেল। বুলি মূখুয্যের ছেলে শশী ইংরাজি পড়েও কিন্তু কুলধৰ্ম্ম বিস্তুত হয় নি ; যে মহা কুলীন, বেশী না করুক, তবু বাপের আদেশে ছয়টি বিবাহ ত’ করিয়াছে , কিন্তু রাপালের মত দাম্ভিক ছেলে কথন দেখি নি; বিপত্নীক অবস্থারও এত গুলি বৃদ্ধের কথা অবহেলা করিয়া প্রত্যাখ্যান করিল। একুমি তোমার পুত্রকে শাসন কোরো” ; ইত্যাদি ৷ রাখালের পিতা হর্ষগদগদ হইয়া বললেন, “আজ আপনার আমায় অনিৰ্ব্বচনীয় আনন্দদান করিলেন । আজ বুঝিলাম আমার পুত্রের যথার্থ শিক্ষা হইয়াছে। র্যাহার এক পা স্বর্গে ও এক পা মর্ত্যে ছিল, সেই দেবী স্ত্রীসংজিত হইলেও তখন পূজনীয়া মাননীয়া হইয়াছিলেন। আমার পুত্র তাঙ্গর নিকট যে প্রতিজ্ঞ কবিগছিল জীবনে তাঙ্গ যে রক্ষা করিতে যত্নবান হুইয়াছে ইহাতে আমি আজ বড় মুণী। আমরণ এ প্রতিজ্ঞা অক্ষুণ্ণ থাকিবে কি না জানি না, কিন্তু তাহা পালনের যে চেষ্টা তাঁহাই আমাকে যথেষ্ট আনন্দদান । করিয়াছে। আপনার অপেক্ষ করুন, এই শুভ সংবাদ দ্বান করিয়া মিষ্টমুথ না করিয়া যাইতে পাঞ্জিবেন না।” S. ৪র্থ সংথ। । ] -- - বৃদ্ধগণ বিশ্বংবিশ্নবিতলোচনে পরম্পরের দিকে তাকাতাকি করিতে লাগিলেন ; য়াখালের বন্ধুগণ ধীম হস্তে ময়রার দোকানল উদ্দেশে ধাবমান ভইল । • * • so দশ বৎসর পরেয় কথা। স্থাপীল মুম্ষু পিতার শয্যাপ্রান্তে বসিয়া । বৃদ্ধ রাখলের মাথায় হাত দিয়া বলিতে লাগিলেন, “আমার আশীৰ্ব্বাদ ও শুত ইচ্ছা তোমাকে রক্ষা করুক। মরণ সময়ে তোমাকে গুটি কয়েক কথা বক্তবা আছে। ধৰ্ম্মশীল ও ঈশ্বরপরায়ণ হইবে। আমাদের দেশে পিতৃভক্তির ভূরি দৃষ্টান্ত বর্তমান। তুমিও স্বশীল ও আমাতে ভক্তিমান, আমার অসম্পন্ন ইচ্ছা সম্পাদনের জন্তু তোমার কিছু বলিবার আৰশুক নাই। তুমি সকলই জান এবং নাধ্যমত সম্পাদন করিবে তাহ আমি জানি। একটা কথা কেবল বলিবার আছে। তুমি স্বৰ্গগামিনী দেবীর নিকট যে প্রতিজ্ঞায় বদ্ধ আছ, তাহা আমরণ প্রতিপালন করিবে । তোমার বিশুদ্ধপ্রেমকে আমার আদেশ ধেন বলপ্রদান করে । আমাদের দেশে পতিব্ৰতা বলিরা কথা আছে, পত্নীত্ৰত কথা নাই। দুষ্টাস্তের অভাবে তুমি তাহার উজ্জল দৃষ্টান্ত হইয়া পত্নীত্ৰত ধৰ্ম্ম সার্থক কর । আর কি বলিখ, তোমার মঙ্গল হোক ৷” বৃদ্ধ য়াখাল ব্ৰহ্মচৰ্য্য কঠোর ভাবে পালন করিয়া মৃত্যুর প্রতীক্ষা করিতেছেন । ঐচারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঙ্গালী ও জাপানী । বাঙ্গালী ও জাপানীর মধ্যে পার্থক্য কি ? একটা পরাধীন ও আর একটি স্বাধীন জাতি । উহাদের অবস্থারই কত পার্থক্য। এমত অবস্থায় উহাদের পার্থক্য প্রদর্শন করিতে বাওয়া ধৃষ্টত মাত্র। কিন্তু এই অবস্থার প্রভেদেও দুইটা জাতির কতকগুলি অবস্থা ও গুণের গোঁসাদৃশ্ব আশ্চৰ্য্য রূপে লক্ষিত হয়। এই সৌসীবৃঙ্গ দুষ্টট জাতির মধ্যে বাবধান অনেকটা সঙ্কীর্ণ করিয়া দিয়াছে। মনে হয় যেন অতীত কালে কোন এক সময় এই দুইট জাতি একস্থানে বৃদ্ধি পাষ্টয় ক্রমে অবস্থার বৈচিত্রে ভূখণ্ডের দুইটা স্থান অধিকার করিয়াছে। বাঙ্গালী ও জাপানী । ২০৭ অনেক পণ্ডিত গভীর অনুসন্ধানের পর এই নিদ্ধান্তে উপনীত হইয়াছেন যে জাপানীদের আরিমনিবাস মালয় দেশের কোন স্থানে অবস্থিত ছিল । জাপানীদেয় কতকগুলি জিমিষের নিৰ্ম্মাণ প্রণালী ও আকৃতি অনেকট মালয়বাসীদের অনুকরণ বলিয়া মনে হয় ; কিন্তু মালয় ও জাপানের ভাষার রচনাগত পার্থক্যে পূৰ্ব্বোক্ত সিদ্ধt:স্ত এক গভীর সন্দেহ জাগাইয়া দেয়। চীনদেশ হইতে বে অভিজাত বা বিজেতা জাপানীরা আগমন করে নাই, তাহার বিশিষ্ট প্রমাণ আছে। জাপানী ভাষার রচনা প্রণালী ও বিশেযু, বিশেষণ, এবং লিঙ্গবিরহিত ক্রিয়ার ব্যবহার দেখিলে উহাকে বাঙ্গালার মত বলিয়া মনে হয় । আর একটী সাপশু এই বে অসমাপিকা ক্রিয়া সমাপিকা ক্রিরার পূৰ্ব্বে ব্যবহার করিতে আমরা যেমন “তে ব্যবহার করি, জাপানী ভাষাও উহার ব্যতিক্রম দেখা যায় না । কেবল একটা ভাষাগত গঠনসালশ্বের উপর নির্ভর করিয়া কোন একটা সিন্ধান্তে উপনীত হওয়া অনেকের নিকট যুক্তিযুক্ত নাও বোধ হইতে পারে। এই ভাষা ছাড়িয়া ভাব ৪ চিস্তার দিকে অগ্রসর শুষ্টলেও বাঙ্গালী ও জাপানীর সাদগু উপলদ্ধি করা যাষ্টতে পারে । বঙ্গদেশের সমুদ্রতীরবর্তী অধিবাসীরা একদিক যেমন সাহসী অপরদিকে তেমনি কবিত্বশক্তিসম্পন্ন। র্যাহারা চট্টগ্রাম ইত্যাদি স্থানের বিষয় অবগত আছেন তাহারা জানেন যে চট্টগ্রামবাসী স্বভাবতঃ ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা ও সাহসিকতার জন্ত প্রসিদ্ধ। আর বিশেষতঃ উহাদের কবিত্বশক্তি অত্যন্ত প্রবল। কেবল চট্টগ্রাম কেন, ভাষা ও কবিত্বশক্তি বাঙ্গালীদের জাতিগত বিশেষত্ব । একথাটা জাপানীদের প্রতিও প্রযুক্ত। বাঙ্গালীর ছজুগপ্রিয়। এদিয়ে জাপানীরাও নিত্যস্ত কম নহে। তবে উহাদের ও আমাদের মধ্যে পার্থক্য কি ? কিসে, কোন দৈববলে জাপানীরা আজ জগতের বুকে দগুদিমান, আব কোন মায়াবীর মোগ্লুমস্ত্রে আমরা–-বাঙ্গালীরা—-ঘোর নিদ্ৰালন্তে অচেতন ? জাপানীদের মন্থৰ্যত্বের মূল কি ? আত্মমৰ্য্যাদা, আত্মসম্মান । যে আত্মসন্মানবোধ স্বাধীনতার অটল সিংহাসন সংস্থাপিত করে, যে আত্মসম্মান বোধ মনুষের আপাদমস্তক এক বৈদ্যুতিক শক্তি সঞ্চারণ করে, জীবনটা অবলীলাক্রমে মৃত্যুর পায় ঠালিয়া দিতে প্রস্তুত