পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৪২ - - এক্ষণে বিচার্য এক্ট, জাতীয় একতা সাধনের উপায় কি ? আগেষ্ট বলিয়াছি লিপেশীয় গবর্ণমেন্টের প্রতি বিরাগবশতঃ দেশের লোকের মনে, বিশেষতঃ শিক্ষিত ব্যক্তিদিগের মনে, এক প্রকাল একতা-প্রবৃত্তি বন্ধিত হইতেছে । এরূপ একতাপ্রবৃত্তিকে সম্পূর্ণ সন্তোষজনক মনে করি না। এরূপ একতপ্রবৃত্তি জাতীয় জীবনের মূলদেশকে স্পর্শ করে না ; অথবা জাতীয় চরিত্রে পবিত্রতা ও শক্তি উৎপাদন করিতে পালে না। ইংগণ্ডের দলাদলি গবৰ্ণমেণ্টেও এরূপ একতা-প্রবৃত্তি আমরা প্রতিদিন লগা করিয়া থাকি। বর্তমান সময়ে দেখিতেছি কনসারবোটৰুগণ লোকের অপ্রিয় ইষ্টয় পড়িয়াছেন। তাহাদিগকে পদচ্যুত করিবার জঙ্গ লিবারেলগণ বন্ধপরিকর হইতেছেন । এষ্ট কার্যো বিভিন্ন শেণীর, বিভিন্নভাবাপন্ন মানুষের অদ্ভুক্ত একতা দেখা যাইতেছে। এ একতা বিশ্বের্যপ্রস্তত, বিশেষ লক্ষ্যসিদ্ধির জন্ত অভুদিত, সে লক্ষ্যসিদ্ধ হইলে আর ইহা প্রবল থাকিবে না । ইহাতে স্বদেশ-প্রেমের উদ্দীপনা, ও চিত্বের নিঃস্বার্থপ্ত অপেক্ষ, বিশেষ দলের নিপীড়ন ও পরোক্ষভাবে স্বাগসাধন অধিক মাত্রাতে আছে বলিলেও অতুক্তি হয় না। ক্ষণিক কারণে সকল মানব-সমাল্পেষ্ট এরূপ একতা মধ্যে মধ্যে দেখা দিয়া থাকে । আমরা সৰ্ব্বদাই দেখিতেছি গ্রাম মধ্যে জলপ্লাবন প্রভৃতি দৈবছৰ্ব্বিপাক ঘটিয়া সমস্ত গ্রামের বিপদ মগন ঘটতেছে, তখন গ্রামবাসিগণ আপনাদের দৈনিক বিবাদ বিসস্থান, ঈর্ষা বিদ্বেষ প্রভৃতি ভুলিয়া গিয়া স্বন্ধের সহিত স্কন্ধ সংলগ্ন করিয়া সে বিপন্থদ্ধার করিয়া লষ্টতেড়ে । আবার সে বিপদ চলিয়া গেলে আপনাদের পুরাতন রীতিৰ আহুসরণ করিতেছে। বিপদে ক্ষণকালের জন্য মানুষের প্রকৃতিকে পরিবর্তিত করিয়া ফেলে। মানুষের কেন ষ্টতর প্রাণীদেরও প্রকৃতিকে পরিবর্হিত করে। ডাক্তার জঞ্জন্মিথের লিখিত ডাক্তার ডফের জীবনচরিতে একটি আশ্চর্যা ঘটনার উল্লেখ দেখা যায় । সে ঘটনাট এক্ট। ডাক্তার ডফ ১৮৩০ সালে এদেশে আসিয়া ধখন কাৰ্য্যারস্থ করিলেন, তখন টাকার সুপ্রসিদ্ধ মুন্সী মহাশয়দিগের সাহায্যে সেখানে প্রচারক্ষের প্রতিষ্ঠিত করেন। তাহদের মিশনগুহটী একটা উন্নত ভূমির উপরে স্থাপিত হয়। তৎপরে ১৮৩৩ সালে সুন্দর বনে এক মহা সাইক্লোন উপস্থিত হয়। ঐ ঝড়ে সমুদের প্রবাসী । ৫ম ভাগ।. ৫ম সংখ্যা ) - - - জল উঠিয়া সুন্দল বন পাবিত হইয়া যায়। BBB BBB BBBDD S BBBB BB BBBBB BBB চষ্টয়া গেল ; কেবল মিশনগৃহট উন্নত ভূমির উপলে দণ্ডীয়মাল থাকিয় বিপা গামবাসিগণকে আশয় প্রধান করিল। এই মিশনগৃহট যথন গোকাকীর্ণ, সকলে প্রাণভঙ্গে ত্ৰাঞ্চি ত্ৰাহি করিতেছে, তখন দেথা গেল যে একটা বাখ প্রাণভয়ে জলে সান্তাব দিয়া নিশনগুহের অভিমুখে আসিতেছে। বাঘট অতি কষ্টে সাতরিয়া সেষ্ট উন্নত ভূমিতে উঠিল, এবং বিড়ালটর মত শাস্থভাবে সেই ভিড়ের মধা দিয়া সেট গৃহে প্রবেশ করিল ; এব এককোণে গিয়া পড়িয় খুঁকিতে লাগিল । মিশনের কৰ্ত্তারা এই অবস্থাতে আসিয়া তাঙ্গার কাণে বন্দুকের চোঙ্গ লাগাষ্টয় তাহীকে গুলি করিলেন। বাঘ যে, সেও বিপদে পড়িয় আপনার প্রকৃতিকে ভুলিয়৷ গিয়াছিল ; মামুষের সঙ্গে এক স্থানে পাড়াইয়াছিল। কিন্তু কথা এই, সে কি চিরদিন সেইরূপ থাকিস্ত ? ঝড় থামিয়া গেলেই আবার নিজমুৰ্ত্তি ধাবণ করিত। সেইরূপ ধে একতার মুলে কেবল বিদ্বেষ তাহ অধিক দিল থাকে না, বা তাহা মানব-প্রকৃতিকে উন্নত করে না । সুতরাং যে স্বজাতি, প্রেম ওরফে ইংরাজ-বিদ্বেষ, তাহার প্রতি অধিক আস্থ স্থাপন করিতেছি না। - এস্থলে কেহ কেহ হয়ত বালবেন, কেবল কি ইংরাজবিদ্বেষবশতঃ একতা-প্রবৃত্তি বন্ধিত হইতেছে ? তাছাত নহে, একতা-প্রবৃত্তি বাড়িবার আরও অনেক কারণ বিদ্যমান। তাহা সত্য । ( ১ম ) ইংরাজী শিক্ষাতে মিভিন্ন প্রদেশে । যুবকগণের চিত্তসকলকে এক ছাচে চলিয়া গড়িতেছে, " (২য়) সংবাদপত্র সকল বিভিন্ন প্রদেশের স্বথ দ্বীপ পরম্পরের গোচর করিতেছে, এবং চিত্ত ওভাবের বিনিময়ের পক্ষে অদ্ভুক্ত সহায়তা করিতেছে ; (৩য়) রেলওয়ে, ষ্টীমার প্রভৃতি গতায়াতের সুবিধা করিয়া দিয়া বিভিন্ন প্রদেশীয় মানষের সম্মিলন ও আত্মীয়তায় বার উদঘাটন করিয়া দিতেছে ; (৪র্থ) ইংরাজের প্রধান কীৰ্ত্তি বে পোষ্ট আগীস তাহা ত্বরিতগতিতে এক প্রদেশের মানুষের চিস্তা আর এক প্রদেশে বহিয়া লইয়া সেই প্লাবন টাকী - ੋ - - বেশ আগে হিমালয়ারি প্রাকৃতিক প্রাচীরের দ্বারা সীমাবদ্ধ ছষ্টয়া এক ছিল, এঙ্কণে তন্থপরে এক রাজশাসনের দ্বারা একীভূত ইয়া বাইতেছে ; এ সকল যে তলে তলে ভারতীয় জাতি সকলের চিত্ত্বে একতা-পর্তুতি বৰ্দ্ধিত করিতেছে চাহ কে অস্বীকার কলিবে ? কিন্তু আমাদের এই সকল শক্তির উপরে সম্পূর্ণ নির্ভর করিয়া থাকা কৰ্ত্তলা নয় —জাতীয় একতা বঙ্কিত করিবাব প্রভূ বিশেষ উপায় অবলম্বন করা উচিত। এই কথা যখন ধলিতেছি, তথন এ কার্য্যের স্বরতা ও বিশেষরূপে শ্বায়ুভল করিতেছি । বৰ্ত্তমান ভারতে জাতীয় একতা সাধন করা অসাধা ব্যাপার বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। যপন দেগি (১) বিগত সেন্স রিপোটে ৪৪•• ভিন্ন ভিন্ন বর্ণের উল্লেপ কহিয়াছে, যাহার মিলিতভাবে আগর বিচার বা আদান প্রদান করেনা; (২) যখন দেখি এই এক ভারতে হিন্দী, পঞ্জাবী, সিন্ধী, গুজরাট, মারহাট, কর্ণাট, মালয়াল, তামিল, তেলুগু, উড়িয়া, বাঙ্গাল, আসামী প্রভৃতি প্রধান প্রধান ও বহু সংখ্যক অপ্রধান ভাষা রহিয়াছে –(৩) যখন দেগি দশজন ব্যবসাদার এক মেলাতে গিয়া সৰ্ব্বাগ্রে দশটা চৌক বানাইতে বসিতেছে —(s) ৰখন দেখি এখনও উন্নত বর্ণের । থোকগণ নিকৃষ্ট জাতীয়দিগকে অশূন্ত বােধে দুরে পরিহার করিতেছে ; এমন কি তাহাধের ছায়া পর্শ করাকেও অপবিত্রতা ভাবিতেছে ; (৫) যথন দেখি মহরমাদির সময় পুলিসের সহস্র সতর্কতা সত্ত্বেও হিন্দু মুসলমানের মধ্যে স্বাক্ষ হাঙ্গীমা ঘটয়া রক্তপাত হইতেছে ; তখন ভারতীয় -একতার আশা স্বভাবতঃই স্নান হইবা যায়। ইছার উপরে আবার তিনটী নূতন শক্তি দেখা দিয়াছে, যাহার গতি বিপরীত রিকে দৃষ্ট হইতেছে। প্রথম, বর্তমান রাজাদের রাজনীতি বিভিন্ন প্রদেশের ও সম্প্রদায়ের মানুষদিগের মনে পরপরের প্রতি ঈর্য ও বিদ্বেষ উৎপাদন বিষয়ে সহায়তা করিতেছে। তাহার বেষ্কারাদিগকে বলিতেছেন, —বাঙ্গালির কেন তোমাদের মূখের গ্রাস হরিয়া লইয়া যায় । আমরা বাঙ্গালিদিগকে মাধা দিতেছি । তোমলা অগ্রসর হষ্টয়া BBk S ABSBBBBB BBBBBB BBBBBB DDB BB S BBBBBB BBBBB BB BBBBB BBB একষ্ট প্রকার আইন, আদালত, রাজশাসনের বশবৰ্ত্তী ছটা এখানে মার্সিবে কেন ? মুসলমানদিগকে বলিতেছেন হিন্দুরা সামাজিক সুখ দুঃখে এক ইয়। যাইতেছে ;- অর্থাৎ সমস্ত | কেন সব লুঠিা খায় ? শিখদিগকে বলিতেছেন তোমরা কেন জাতীয় একতা। - - S.8ტ হিন্দুদের কাছে হাবিয়া যাও? ইত্যাদি। তাহদের বিবেদ বুদ্ধিটা বাঙ্গালিদের প্রতিষ্ট কিছু অধিক দেখা যাইতেছে। ইহার ফল এই হইতেছে, যে যেখানে ঈর্ষা ছিল না সেখানে ঈর্ষা দেখা দিতেছে। এস্থলে ইহা স্মরণ করাইবার উপযুক্ত বে ষ্টলণ্ডে গথর্ণমেণ্ট কখনও স্বপ্নও দেখেন না, যে স্কটলণ্ডে ইংরাজ যাইবে না, বা ইংলেণ্ডে স্কচ কৰ্ম্ম পাইবে না, বা ওয়েলসবাস দিগকে ইংরাজ তাড়াইয়া রক্ষা করিতে হইবে। আমাদের দেশেই ইংরাজের রাজনীতি এই আকার ধারণ করিড়েছে। দুঃথের বিষয় এট তাহারী কিছু পরিমাণে কুতকার্যাও হইতেছেন ; ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশবাসিগণের মনে ঈর্ষা ৪ বিদ্বেষ দেখ দিতেছে । এই এক একতা-বিরোধী শক্তি ; দ্বিতীয় শক্তি হিন্দুধন্মের পুনরুত্থানের নামে বর্ণভেদের পুরাতন প্রাচীরগুলিকে পুন: সংস্কার করিয়া তুলিবার চেষ্টা। কিছুদিন হইতে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীর মামুত্র প্রাচীন ধৰ্ম্মকে পুনরুথিত ও সবল করিবার জন্ত প্রয়াসী হইয়াছেন। তাছাধের এই আকাঙ্কার যথেষ্ট কারণ আছে। ওঁাহারা দেখিয়াছেন যে হিন্দুদিগের প্রাচীন আধাত্মিকতা বিলুপ্ত হইতে ঘাইতেছে। দে জাতি ধৰ্ম্মপ্রাণতার জন্ত প্রসিদ্ধ ছিল, সেইজাতি ধৰ্ম্ম-ভাববিহীন হইতে যাইতেছে। এক্ষণে উপায় কি ? যেমন করিয়া পার প্রাচীন ধৰ্ম্মভাব সকলকে রক্ষা কর । প্রাচীন ধৰ্ম্মভাবকে রক্ষা করিতে গিয়া তাহারা জাতিভেদ প্রথাকে রক্ষা করতে ও পুনরার দৃঢ় করিতে বাধ্য হইতেছেন । কারণ প্রাচীন ধৰ্ম্ম ছাতিভেদ প্রথার উপরে প্রতিষ্ঠিত এবং তাহার সহিত অভিন্নভাবে জড়িত। এই বে জাতিভেদের প্রাচীরকে পুনর্গঠনের চেষ্টা, ইহার পরোক্ষ ফল এই দেখিতেছি, যে প্রত্যেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি বা বর্ণ আপনাদের সীমান্ত রেখা আবার পরিস্কার করিয়া আঁকিবার চেষ্টা করিতেছেন। কায়স্থ লভা, স্ববর্ণবণিক-সমিতি, তত্ত্ববায় সমিতি প্রভৃতি প্রতিদিন দেথা দিতেছে । এরূপ বিভিন্ন বর্ণের ব্যক্তিগণ সমবেত হইয়া নিজ লিঙ্ক বর্ণের মধ্যে শিক্ষা ও জ্ঞান বিস্ত্রার করিয়া স্বদেশের উন্নতিসাধনে সহায় হন, তাহাতে ঃখ করিবার কিছুই নাই ; এবং অনেক স্থলে যে তাহা হইতেছে না তাহাও বলা ডক্ষেপ্ত লয়। কিন্তু অনেক স্থলে দেখিতেছি আবার পুরাতন অধিকার, পুরাতন পার্থক্য, পুরা