পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


- - - - ! - - - - - २8७ - - -- ইহাদিগকে ডাকাতের দল বলিয়া ঘোষণা করিলেন, এবং ইহাদিগকে দমন করিতে প্রবৃত্ত হইলেন। দমন করা বড় কঠিন কাজ ধাড়াইল না ; কারণ এই বিদ্রোহী দল সকলে মধ্যে লক্ষ্য ও পরামশের একত।. ছিল না। রাজতন্ত্র শাসন প্রণালীতে কি গঁড়ায় তাহা আর দেধিতে বাকি রছিল না । মিকাণ্ডে প্রঞ্জাবৰ্গকে রাজ্যশাসনে অধিকায় দিয়া জাপানবাসিগণের মধ্যে একতা স্থাপন বিবয়ে যেরূপ সহায়ত করিয়াছেন, তাহা ভারতবর্যে সম্ভব নহে। কিন্তু অপর দুইটা উপায় ত আমরা অবলম্বন করিতে পারি। প্রথম, একট অগ্রসর উন্নতি-প্রয়াসী স্বদেশ-হিতৈষী শিক্ষিত দলেয় স্বাক্টর দ্বার স্বদেশ-প্রেমের উদ্দীপন করা, দ্বিতীয় প্রজা সাধারণের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার। “স্বদেশী-ধুয়া” নামক প্রবন্ধে যে "জাতীয় স্বাবলম্বন সভার” (National selfHelp Association) zog করিয়াছি, এই অগ্রসর উন্নতি-প্রয়াসী দল তাহার দ্বারা কষ্ট হইবে । এইরূপ একটা সভা স্বদেশপ্রেমিকদিগের মিলনের ভূমি উক। বিদেশগামী যুবকের সংখ্যা দিন দিন বঙ্কিত হউক। তাতার কেবল বারিষ্টার হইয়া, চুরুট ফুকিতে, ষ্টয়ারক দিতে, ও পরের নিন্দ করিতে, শিথিয়া আসিবেন না ; যে সকল উপায় অবলম্বন করিলে, শিল্প বাণিজ্য প্রভৃতির উন্নতি হইতে পারে তাহা শিথিয়া আশ্নল। কতকগুলি প্রতিভাশালী লোক জাপানে যান, দেখিয়া আসিয়া বলুন জাপান কি করিয়া বড় হইল ; কতকগুলি ফিলিপাইনে যান দেখিয়া আমুন আমেরিকা সেখানে কোন রাজনীতি অবলম্বন করিয়াছেন : বিশেষ ভাবে কতকগুলি দেশ বিদেশে শিল্প বাণিজোর উন্নতির ক্রম পরিদর্শন করিয়া আমুন । সৰ্ব্ব বিষয়ে ইহার আমাদের পথপ্রদর্শক ও পরামর্শদাতা ইউন । এই দল হইতে রীতিমত জাতীয় একতার প্রচারক একম্বল লোক নিযুক্ত করা আবখ্যক। ইহায় স্বদেপের উন্নতিসাধন মন্ত্রে দীক্ষিত হইয়া, ভগণ-পোষণের দ্য স্বদেশীয়দিগের স্বতঃপ্রত্নস্থ সাহায্যের উপরে নির্ভর করিয়া, ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশে দমণ করিবেন : রাজা প্রঞ্জা সকলের অভিমুখীন হইবেন : সকলকেই আপনাদের ভাবাপন্ন করিবার চেষ্ট করিবেন : বিশেষভাবে দেশীয় রাজাদিগকে বুঝাইয়া শিক্ষা বিস্তারের প্রয়াস পাইবেন ; দে যে বিষয়ে ইংরাজ শ্ববর্ণমেণ্ট - - প্রবাসী । - ৫ম ভাগ। - - এদেশের উন্নতি-প্রয়াস সে সকল বিষয়ে বিধিমতে ইংরাজ : গবর্ণমেণ্টের সাহায্য করিবেন ; এবং অপর সকলকে সহায়ত্ত্ব করিতে প্রবৃত্ত করবেন : মন্সণ্য বিদ্রোহ প্ৰবৃত্ত্বি দমন করিবেন : রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রকৃত পন্থ প্রদর্শন । কবিবেন : সৰ্ব্বোপরি ছাতায় স্বাবলম্বন ও জাতীয় | ভাৰ সৰ্ব্বত্র ব্যাপ্ত করবেন। ইতাদের শিক্ষা ও চরিত্রগুণে সৰ্ব্বসাধারণের অগ্রগণা ও সম্মানিত লোক হওয়া আবশ্বক I তদ্ভিন্ন ইহারা সৰ্ব্বসাধারণের, রাজ প্রজার, শ্ৰদ্ধাভাজন হইতে । পারিকেন না । - কিন্তু অনেকে হয় ত বলবেন, কে স্বদেশের জন্য এতটা - তাগিদ্বীকার করবে ? ব্রাহ্মসমাজেও সভ্যেরা এক সময়ে । নিরাশ হইয়া বলিয়াছিলেন, কে সমাজের জন্য এত অসুগিস্বীকার করিবে ? কিন্তু এক কেশবচন্দ্র সেন সে পথ খুলিয়৷ দিয়াছেন। তাহার পদবীর অনুসরণ করিয়া আজ আমরা কত্ব ব্যক্তিকে ব্রাহ্ম দেখিতেছি । কেন স্বদেশের উন্নতির জন্ত আত্মসমপণ করিবার লোক পাব না ? ইহা কি ঈশ্বর ও মানবের সেবা লয় ? আমি যে সম্পূর্ণ কল্পিত ছবি আকিয়া লিখিতেছি তার মহে। আমি জানি ভারতবাসীর প্রতি ও শ্রদ্ধাভাজন স্বপ্রসিদ্ধ

জষ্ঠ বিশেষ বাগ আছেন , এবং হয়ত কতক দূর অগ্রসরঞ্জ হইয়াছেন। আমি ঠহার চেষ্টার উপরে ঈশ্বরের আধাবাদ ভিক্ষা করি । তিনি এ বিভাগে দ্বিতীয় কেশবচন্দ্র সেন হইবার সম্পূর্ণ উপযুক্ত । তাহাক নিজের স্বাথলাশের উজ্জ্বল দুষ্ঠাস্ত কি বৃথা যাইবে ? ভাতিযাসিগণ ত্যাগী পুরষদিগকে সকল কালেই পূজা করিয়া আসিতেছেন, তাহারা নিশ্চয় গোপলে মৃতোদ্বয়ের দ্যার মানুষের সহায় হইবেন । আমুন আমরা সকলে তাহার সুগের &ষ্ট । সৰ্ব্বশেষে প্রজাসাধারণের শিক্ষার বিষয় কিছু বলি। র্যাঙ্গার দেশের উন্নতি চান, শহারা ভুলিবেন না, যে বৰ্ত্তয়াম শিক্ষা প্রণালীতে প্রজাসাধারণেব ও মারকুলের সহিত । শিক্ষিত ব্যত্ত্বিদিগের বিচ্ছেদ ঘটাইয়াছে। আমরা কংগ্রেস । করিতেছি, আমরা শিল্পশিক্ষার আয়োজন করিতেছি, আমরা জাপানে ছাত্র পাঠাইতেছি, প্রঙ্গ সাধারণ ৪ দেশের নারীগণ o গোপালকৃষ্ণ গোখলে মহাশয় এইরূপ এক দল সৃষ্টি করিবার ধৰ্ম্ম প্রচারে আত্মসমপণ করিস্তে । } ৫ম সংখ্যা । ] কোথায় । তাহলে এ সকল আকাঙ্ক ও উদ্যম হইতে দূরে-- করে। আমরা ঠাহীদের উৎসাহ ও সাহায্য পাইতেছি আমাদের হৃদয়েল ভাব চুল্লাষ্টয়া সে স্তর পর্যান্ত নামিতেছে না। এরূপ বিচ্ছেদ থাকিতে দেশের উন্নতিব কোনও চেঞ্জ স্থায়ী ফল প্রসব করিবে না । এষ্টজ শিক্ষার বিস্তান বিষয়ে এই আগসর দলকে সৰ্ব্বাপেক্ষ মনোযোগী হষ্টতে ইষ্টবে। শিক্ষা বলিতে কেতাবপড়া শিক্ষা মনে করিতে চষ্টবে না। সামাঙ্গিক উপায়ে কথোপকথন ও বতুতাদি দ্বারা অনেক শিক্ষা দেওয়া যাইতে পারে। উলণ্ডেব ইউনিভার্সিটি একষ্টেমসন প্রণালী তাঙ্গার পথপ্রদর্শন করিয়াছে । প্রজা সাধারণের শিক্ষা বলিলেই ভাষাগত পার্থকা মহান অন্তরীয় স্বরূপ সম্মুখে আসিয়া দণ্ডায়মান হয়। কোন ভাষায় ইয়াদিগকে শিক্ষা দেওয়া হইবে ? কোন ভাষা ভারতের সৰ্ব্বসাধারণেব ভাষা হইবে ? কোন ভাষা অন্ততঃ উর্দু, বা হিনীর স্থান অধিকার করিবে ? ইহা এক মহা প্রশ্ন। টঙ্কার আলোচনাতে এখন প্রবৃত্ত হইতে পারি না। স্থূলতঃ এই কথা বলিতে পালি, যে ইংরাজি ভাষা ভারতের সর্বত্র ব্যাপ্ত হইতে যাইতেছে। এ ভাষা পৃথিবীর সর্বল আপনাকে ব্যাপ্ত কলিতেছে। স্বাধীন জাতিরাও যত্ন পুৰ্ব্বক ইঙ্গ স্বীয় স্বীয় দেশের মনুষকে শিথাইতেছে । মান্দ্রাজী আয় ও মাম্রাঞ্জী সামান্ত লোকদিগকে দেখিয়া মনে হয়, সাধারণ মাছৰে মোটামুটি টঙ্গ বলিতে ও বুঝতে সমর্থ করা বড় কঠিন কাৰ্য্য নয়। শস্থত: প্রতোক গ্রামে এরূপ এক একটা ক্ষুদ্র স্থল করা যার, যাহারা ইহা বুঝে ও ইহা ইষ্টতে লব্ধ চিন্তা সকল মামুমের কাছে ব্যক্ত করিতে পারে। তৎপরে প্রত্যেক প্রদেশের দেশীয় সাহিত্য ও সংবাদপত্রাদি দ্বায়াও প্রন্থ - সাধারণের শিক্ষার সাহায্য করা যাইতে পারে। শেষে বলি প্রকৃত স্বদেশ-হিতৈষী যারা, তারা শিক্ষা বিস্তার বিষয়ে উদাসীন থাকবেন না । জাতীয় একতাল তৃিত্তি সেখানে । ঐশিবনাথ শাস্ত্রী। ভ্রমণ । কামাল শৈশবে তীর্থযাত্রী মাতামহী যখন আত্মীয় কুটুম্বের বিরাট কটক সঙ্গে লইয়া দেশ হইতে দেশস্তরে ঘুরিয়া বাড়ী - ভ্রমণ ! - - - - - - - - - - - Հ8Գ - --- - ফিরিতেন, এবং আমার ক্রীড়াসঙ্গী বালকদের যুগে যখন দেশ । বিদেশের অপূৰ্ব্ব কাচিল শুনিতাম তপন কি কৌতূহল, কি ৷ আকাঙ্ক আমার শিশুচিন্তু ব্যাকুল করিয়া তুলিত ! আমার বহুগণকে কি ভাগ্যবান বোধ হইত। মাতামীর বাৎসরিক তীর্থযাত্রার সময় ছিল কাৰ্ত্তিক হইতে ফাল্গুন মাস পর্য্যস্ত ; সে সময় স্কুলের চুটি থাকিত মা ; আমার পিতাও আমাকে পড়া কামষ্টি করিয়া কোথাও যাইতে দিতেন না। আপনাকে আমার বয়স্তগণ অপেক্ষা চীনভাগ মনে করিয়া ঈর্ষায় চিন্তু ক্ষক ইত, নুতন দেশ দেখিবার অপূর্ণ বাসনা মনকে প্রতিনিয়ত পীড়া দিত। বি, এ, পাশ করিয়া যখন মুক্ত হইলাম তখন আমার মাতামহী বির, ছদ্রোগপীড়িত। আমি রেলওয়ে টাইমটেবল খুলিয়া দ্রষ্টব্য স্থান ও খরচের তালিকা করিয়াই মধ্যে মধ্যে দেশভ্রমণের সাধ পূর্ণ করিতাম। মনশ্চক্ষে আগ্রার তাজের - অবর্ণনীয় রূপ কল্পনা করিবার চেষ্টা করিতাম ; প্রাগের গঙ্গালমুনার সঙ্গম চিত্রিত করিতাম : বুন্দাবনে रुझ्नडग्ने । কদম্ব ও তয়াল বনে ময়ূরমূগের নৰ্ত্তন ও পূর্ণকলসকক্ষ আঙ্গিরিণীর লীলাভঙ্গাভিরাম মন্থর গতি নিরীক্ষণ করিতাম । কিন্তু আবালোর ক্ষুধিত চিন্তু শুধু কল্পনায় তৃপ্তি পাইত না। ১৯০০ সালে আমাদের বাড়ীতে অল্পদিনের মধ্যে ছয়টি প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। সেই সময় আমার চিত্তশাস্তির জল্প আমার মাতামহী আমার চির-ঈঙ্গিত দেশভ্রমণে প্রেরণ করেন। মৃত্যুর করলে ছায় ধাঙ্গার চিত্ত আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিয়াছে সে বিরাট মুনীর কিছু না পাইলে তৃপ্ত হইতে পারে মা । তাই আমি সমুদ্রদর্শনের জন্য পুরী যাত্রা করিলাম ; সঙ্গে আমার দৃষ্ট বন্ধ। পূরী, ভুবনেশ্বর, ধগুগিরি ও চিক হ্রদ দেখিয়া ফিরিবার পথে কটক ও বালেশ্বর দেখিয়া আসিলাম। পুরীতে সমুত্র দেখিয়া বুঝিয়াছিলাম চৈতন্যদেব কেন সমুদ্রে আত্মবিসর্জন করিয়াছিলেন। ঐ বিরাটসৌন্দর্যোর মধ্যে আপনাকে বিসর্জন করিতেই ইচ্ছা হয় ; ভগবানের সন্ত বৃকের কাছে অন্তভব করিতে পারা যায়। ভুবনেশ্বরের মন্দির প্রাচ স্থাপতোর বিজয়কেতন। থওগিরিতে বৌদ্ধ যুগের গুগ ও শৈলগাত্রে উৎকীর্ণ অশোকালুশাসন দেখিয়া । বড় পুলকিত হইয়াছিলাম। মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিত হয়প্রসাদ শাস্ত্রী এসিয়াটিক মিউজিয়মের অশোক কোটে খণ্ড