পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Հ8 সময়ে আরও গণনাকাৰ্য্য সম্পন্ন করিতে পারিত। তাতীর স্মৃতিশক্তি এরূপ প্রথর ছিল যে, কোনও অঙ্ক-কৰ্ষ অসম্পূর্ণ অবস্থায় রাগিয়া দিয়া মাসান্তেও পূৰ্ব্বে যেখানে গণনা শেষ হইয়াছে সেই খানেই আরম্ভ করিয়া অঙ্কটি পুনরায় কষিতে পরিত। উত্তয় দিতে সে তত তাড়াতাড়ি করিত ল - কিন্তু তাহার উত্তরে তত ভূল হইত না। প্রশ্ন। কোনও বস্তুর দৈর্ঘা, বিস্তার ও উচ্চত; যথাক্রমে ২৩,১৪৫,৭৮৯ গঙ্ক, ৫,৬৪১,৭৩২ গজ ও ৫৪,৯৬৫ গজ । মে বনক্ষেত্রের পরিমাণ এক ঘন ইঞ্চির অষ্টমাংশ উক্ত বস্তুটি তাহাল কয়টির সমান ? উত্তর বলিবার সময়ে জেডিডিয়া: জিজ্ঞাসা করিল সংখ্যাটির দক্ষিণ কি বাম দিক হইতে সে বলিতে আরম্ভ করিবে। প্রশ্নকওঁ বাম দিক ৮টতেই শুনিতে ইচ্ছা প্রকাশ করিলে সে অষ্টাবিংশ অঙ্কবিশিষ্ট রাশিটি কিছুমাত্র ইতস্ততঃ না করিয়া নির্ডলে বলিয়া গেল। ইহার গণনায় দুইটি বিশেষত্ব ছিল । একজন এক প্রশ্ন করিলে তাহার অব্যবহিত পরেই অপর একজন আর একটি প্রশ্ন করিতে পারিত : বার যে উত্তর তাহা সে পাইত,ইহাতে কিছুমাত্র গোল ইত না। সমাধানকালে সে লোকের সহিত বাছাক্রমে আলাপ করিত ; ইহাতে তাঁহার কোনও বাঁধা বা কষ্টবোঘ হইত না। ১৭৫৪ খৃষ্টাব্দে সে একবলৈ লওনে আসে। এখানে রয়েল সোসাইটির সভ্যগণের সহিত তাহার পরিচয় চয় । তাঙ্গীরা তাঙ্কার গণনাশক্তির পরিচয় পাইয়। বিস্ময় প্রকাশ করেন । এই লণ্ডনগমন ব্যতীত সে কখনও তাঁহীর জন্মস্থান ত্যাগ করে নাই। ১৭৭২ খৃষ্টাব্দে তাছার মৃত্যু হয়। ১৭২১ খৃষ্টাব্দে জর্শনীর লিউবেক নগয়ে ফিশ্চিয়ান ফ্রাঁচি হেইলেকেন নামক একটি বালকের জন্ম হয়। ইহার শুধু গণনাশক্তি ছিল তাহী নহে, এক বৎসর বয়সে সে পেষ্টটিউকে বর্ণিত প্রধান প্রধান ঘটনাগুলি আরিক্ত করে, দুই বৎসর বয়সে বাইবেলবর্ণিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর সঠিত পরিচিত হয়, এবং তিন বৎসর বয়সে জাগতিক ইতিহাস ও ভূগোল, লাটিন ও ফরাসী ভাষা শিক্ষা করে। নান দিগদেশ হইতে তাহাকে দেখিবার জন্ত লোক আসিত: গুষ্টাব্দে ডেন্মার্কের বাজা তাঁহাকে স্বীয় য়াজধানীতে 8 כף מ জানান। এখানেই বালকটর পীড়া হয় এবং ইহাতেই যে প্রবাসী । [ ৫ম ভাগ । তাঙ্গার মৃত্বা হইবে ভবিষ্যদ্বক্তাল ছায় সে তাঙ্গ বাক্স করে। ১৭২৫ খৃষ্টাব্দে তাঙ্গার মৃত্যু হয় । এরূপ আরও দৃষ্টাস্তের কথা শুনিতে পাওয়া যায়। মেরিল্যাণ্ডের একটি নিগ্রো-বালকের বিবরণ ১৭৮৮ খৃষ্টাব্দে এচুয়াল রেজিষ্টাল (Annual Regisler) নামক পয়ে প্রকাশিত হইয়াছিল। এরূপ প্রকৃতিদন্ত শক্তি লইয়া ঘাঁহারা জন্মগ্রহণ করে তাহাদের নিকট হইতে লোকে হয় ত গণিতশাস্ত্র সম্বন্ধে একখানি অভিনব গ্রন্থ প্রণযনেয় বা পাটীগণিত বিষয়ক কোনও অভিনব তত্ত্ব আবিষ্কারের আশা করিয়া থাকে। কিন্তু লোকের এরূপ আশা পূর্ণ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা যেখা যায় না। উল্লিখিত দুষ্টান্তগুলি হইতে জানিতে পারা ' যায় যে, একমাত্র বিড়ার ব্যতীত আর কেহই জীবনে তত উন্নতিলাভ করিতে পারে নাই ; কেহ বা অকালে কীলগ্ৰাসে পতিত হইয়াছে . কাহারও বা বয়েীবৃদ্ধি সহকারে গণনাশক্তি হ্রাস পাইয়াছে। বয়স বুদ্ধির সহিত সকল বিষয়েই সাধারণতঃ স্মৃতিশক্তির হ্রাস হয়। যে গণিতশাঙ্গের সহিত ক্ষুতিশক্তির এতদূর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং যাঁহাতে একটু মাত্র ভুলচুক হওয়াব যো নাই, তাহার অনুশীলনের পক্ষে এরূপ স্মৃতিশক্তির হ্রাস যে একটা প্রধান অস্তবায় তদ্বিষয়ে সন্দেহ নাই । কিন্তু এবম্বিয অস্তুত গণনাশক্তি বয়োগুদ্ধি সহকারে কেন হ্রাস পায়, তাহার কারণ কতকটা অনুমান করিতে পারিলেও, এইরূপ শক্তির কারণ নির্ণয় করা গুঃসাধ্য। সচরাচয় শিক্ষা স্থার মানুষ যে গণনাশক্তি কিয়ৎ পরিমাণে লাভ করিয়া থাকে, কেহ কেহ বাল্যকালে শিক্ষারস্তের পূর্কেই কি প্রকারে সেই শক্তি এত অধিক পরিমাণে লাভ করে, তাহ নিশ্চয় করির বলা যায় না. এ বিষয়ে র্যাহারা কৌতুহলী, গুহার এফ ডবলিউ. এইছ মায়ার্স (F. W. H. Myers).প্রণীত Human Personality and its survival of Bodily Death নামক গ্রন্থের প্রথম বাল ৭৮ হইতে ৮৪ পৃষ্ঠা এবং ### stfà t#*t#ef** The Anrient Wisdom o. 4 পৃষ্ঠা দেখিতে পারেন । শ্ৰীনগেন্দ্রচন্দ্র সোম । ১ম সংখn । ] প্রবাসী বাঙ্গালীর পত্র । ইউরোপে বিজ্ঞান চর্চা । ( , ) র্যাল ইনষ্টিটিউশন-ইচ্ছার উৎপত্তি ও কাৰ্য্যকারিতা , নব্য রসায়নের জন্ম । সেপ্টেম্বর মাসের প্রারম্ভে এখানে আসিয়া পৌঁছি। তখন এখানে গ্রীষ্মের ছুটি ; বৈজ্ঞানিকগণ ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত : কেহ সমুদ্রবক্ষে, কেহ বা আল্পস পৰ্ব্বতোপলি, আবার কেন্স বু আমেরিক পবিত্রমণ করিতেছেন। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে কেমিক্যাল সোসাইটির েরাসায়নিক সভার ) পুস্তকাগার খোলা ছল। এই স্থানে রসাযনশাস্তবিষয়ক নানাভাষীয় লিখিত বহুমূল্য গ্রন্থনিচয় সংগৃহীত আছে ; বিশেষতঃ এমন অনেক ছাপা পুস্তক আছে, বাঙ্গ কলিকাতায় পাইবার কোন উপায় নাই। সুতরাং চাতকের স্তায় তৃষ্ণানিবারণ করিতে লাগিলাম ; এবং হিন্দুরসায়নশাস্তেব ইতিহাসের দ্বিতীয় খণ্ডের অনেক উপকরণ সংকলন করিতে সক্ষম হইলাম। এইপ্রকারে একমাস কাটিয়া গেল। কিন্তু আমি চঞ্চলচিত্তহইয়া পড়িলাম। র্যাহারা সৰ্ব্বদা বাসায়নিক গবেষণাojro ( laboratory) *'s *vy <ry «tra, তাহাম্বের পক্ষে হাত পা গুটাইয়া বসিয়া থাকা বড়ই কষ্টকর – বিশেষতঃ এই শীতপ্রধান দেশে চুপ করিয়া বসিয়া থাকা যার না। অক্টোবর মাসের প্রারম্ভে একজন প্রসিদ্ধ রাসায়নিক আমার সমক্ষে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। লওনে আসিয়া সৰ্ব্বাগ্রে ইহার গোঞ্জ করি, কিন্তু তখন ইনি ফ্রান্সে ছিলেন । rázata anta Hest-n (The Royal institution) দেখাইবার নিমিত্ত তিনি আমাকে সঙ্গে লইয়া গেলেন। বলা বাঁচলা, বিজ্ঞানের পীঠস্থানগুলি দর্শন ও তত্রস্থ উপাসক ও পুরোহিতদিগের সহিত আলাপপরিচয়ও চিন্তাবিনিময় করিবার জন্য আমি ইউরোপে আসিয়াছি। বলিতে কি, রয়্যাল ইন্‌ষ্টটিউশনের বাহ ও অীভ্যন্তরিক দৃশু দেথিয়া প্রথমতঃ আমার মনে বড় একটা সম্বমের উদয় হইল না। আমাদের প্রেসিডেন্সী কলেজ ইহা অপেক্ষ বিশাল, এবং মনের মধ্যে শ্রদ্ধার উদ্রেকৃ করে। কিন্তু শীঘ্রই মনের তাৰ পরিবর্তিত হইয়া গেল। আমি তীর্থযাত্ৰী-যখন আমার পাও৷ অঙ্গুলীনির্দেশ প্রবাসী বাঙ্গালীর পত্র । ૨૮ . করিয়া একে একে সমস্ত যেথাইতে লাগিলেন, যথন প্রদর্শন করিয়া বলিলেন, “এই দেখুন কাচের আধারের ( Glass case ) মধ্যে যত্নে সংরক্ষিত যে সমস্ত যন্ত্র রহিয়াছে, তারা ডেউ ও ফারাডে অনেকগুলি যুগান্তলসংঘটনকারী অাবিক্রিয়া সম্পাদন করিয়াছিলেন”, ইত্যাদি,—তখন আর ভক্ত প্রকৃতিস্থ থাকিতে পারিলেন না, ভাবে গদগদ ইষ্টয় পড়িলেন । বাস্তবিক যখন তীর্থযাত্রী ঐক্ষেত্রে গিয়া জগন্নাথের দর্শনলাভ করেন, তখন কি মূৰ্ত্তি কদাকার বলিয়া বিশ্বকৰ্ম্মার নিন্দ করিতে বসেন. না, ভক্তিরসে সিক্ত হইয়া অশ্রদ্ধারা বর্ষণ করিতে থাকেন ? বিখ্যাত রাসায়নিক ডাক্তার থপ যথার্থই বলিয়াছেন – “রয়্যাল ইনষ্টিটিউশনের রসায়নাগার চিরদিন বৈজ্ঞানিকের পক্ষে পবিত্রভূমি বলিয়া গণিত হইবে। এখানেই ডেভ সেই সকল আবিক্রিয়া করেন, যদ্বারা জড়বিজ্ঞানে যুগান্তর সংঘটিত হইয়াছে। রসায়নের ভক্তের রয়্যাল ইন্‌ষ্টিটিউশন অপেক্ষ সুরমা ও সুসজ্জিত বিজ্ঞানমন্দিরে আজ কাল নিজ নিজ কাৰ্য্যে ব্যাপৃত থাকেন। কিন্তু মুসলমানের পক্ষে মক্কাধামে কাৰা যেরূপ, রাসায়নিকের পক্ষে এই স্থানটি তদ্রুপ । ডেভী ও ফারাডের প্রতিভা ও কাৰ্য্যপরম্পরা দ্বারা পবিীকৃত এই গৃহে আসিয়া যে বিদ্যার্থীর উৎসাহ বাড়িবে ন, বা তামুরাগ প্রগাঢ়তর হুইবে না, তিনি কাহারও ঈর্ষার পাত্র হইতে পারেন না।” আপনার পাঠকপাঠিকাবর্গের অবগতির জন্য এই রয়্যাল ইন্‌ষ্টিটিউশনের উৎপত্তির বিষয় কিছু বলা যাইতেছে। ইহা আীে গরিবলোকদের উপকারের জন্ত স্থাপিত হয়। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেবে কাউট রফোর্ড ইহা স্থাপন করেন। তিনি ১৭৯৯ সালের প্রথমাংশে একটি পুস্তিক প্রকাশ *E*R i ozsä so-"Proposals for forming by subscription in the metropolis of the British Empire a Pubtic Institutiou for diffusing itle knowledge and sacilitating the gemcral introduction of useful mechanical inventions and improvements, and for teaching, by courses of philosophical lectures and experiments, the application of science to the common purposes of life.” Ezt estrz দেগা যাটতেছে যে অর্থকর শিল্প ও বিজ্ঞানের পরস্পর ঘনিষ্ঠ