পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఫిహ్రి 8 SAASAASAASAAMMeMMS MMM MMSMSMMS MMAMMAMMMAAAA এই খানেই ৮গেরাটা দাস মহাশয়ের জীবনী সমাপ্ত করিতেছি। কিন্তু, সৰ্ব্বশেষে, গোরাচাঁদ বাবুর একমাত্র সুযোগ্য পুত্র, মদীয় পরম স্বহৃৎ, সতপ্রিয় খ্ৰীযুক্ত সত্যভূষণ দাস মহাশয়কে আমার কৃতজ্ঞতা জানানো অত্যাবহাক । বন্ধুবর আমাকে তাহার পিতার জীবনী রচনাকল্পে যথেষ্ট সাহায্য করিয়াছেন। ভগবানের নিকট প্রার্থনা করি,— সত্যভূষণ বাবু সত্যপথে, চিরদিন প্রেমময়ে প্রতি রাখিয়া সংসারের কল্যাগসাধন করুন—আদর্শ জীবন অন্বেষণের জন্ত তাঁহাকে ঘরের বাহির হইতে হুইবে না। শ্ৰীদেবকুমার রায় চৌধুরী ভারত-রমণী । o “ল জাগিলে যত গুল্পিত কালিনী, পোহাবে না কভু এ দুখ যামিনী।" কালিদাস তাহার রঘুবংশের প্রারম্ভে বলিয়াছেনঃ স্বাগধাবিব সংগৃক্তে ব্যর্থপ্রতিপন্তয়ে। জগতঃ পিতরে বনে পার্থতাঁপরমেশ্বরে । বাক্যের সঙ্গে অর্থ যেরূপ সংযুক্ত, প্রকৃতিপুরুষ সেইরূপ সম্পূক্ত। বাক্য এবং অর্থ যেরূপ ছুইটী স্বতন্ত্র পদার্থ নহে, একটা বস্তুর দুষ্ট দিকৃ মাত্র, স্ত্রী পুরুষও সেইরূপ একটা অর্থও বস্তুর দুইটী দিকৃ। আমরা কখনও এরূপ কল্পনা করিতে পারি না, যে প্রথমে একটা শব্দের উৎপত্তি হইল, কিছুদিন তাহা অর্থহীন ভাবহীন রহিল, কালক্রমে তাহার সঙ্গে অর্থ বা ভাব (Idea) আসিয়া যুক্ত হইল। পক্ষাস্তবে ইহাও আমাদিগের কল্পনার অতীত, যে প্রথমে কেবল মাত্র একটা অর্থ ছিল, পরে তাহার সঙ্গে বাক্য আসিয়া যুক্ত হইয়াছে। সেইরূপ আমরা এরূপ কোনও সমাজ কল্পনা করিতে পারি না যেখানে কেবলমাত্র পুরুষ ছিল, পরে রমণী আসিয়া যোগ দিয়াছে, অথবা প্রথমে কেবলমাত্র রমণী ছিল, পরে পুরুষ আসিয়া যোগ দিয়াছে। সমাজ বলিলে স্ত্রী পুরুষের সমষ্টি বুঝায়। পুরুষ ও রমণী •উভয়কে লষ্টয়াই সমাজ । ইহারা সমাজবৃক্ষের দুইটী স্কন্ধ, অথবা সমাজপত্রের দুইটী পৃষ্ঠ । উভয়ের রং বিভিন্ন হইতে পারে, কিন্তু আয়তনে উভয়ের সমতা নিশ্চিত, একপত্রের দৃষ্ট

প্রবাসী । পৃষ্ঠার মধ্যে এক পৃষ্ঠা অপর পৃষ্ঠ হইতে বড় হইতে পারে না, এরূপ হওয়া অসম্ভব। মুতরাং উভয়ের শক্তিসামর্থ্যও সমান হইবে, অল্পাধিক হওয়া যুক্তিবিরুদ্ধ। কারণ, এক পৃষ্ঠা অপর পৃষ্ঠা হইতে বড় হইতে পারে না। কিন্তু বস্তুত: | আমরা দেখিতেছি যে একপৃষ্ঠা অণর পৃষ্ঠা অপেক্ষ অনেক বড় হইয় পড়িয়াছে। ইহার কারণ কি ? এবং কিরূপে এই স্বতঃসিদ্ধ নিয়মটীর এই দৃশ্যমান বাভিচারের কারণ নির্দেশ করা যাইতে পারে ? ইহার কারণ নির্দেশ করিবার জন্ত অধিক দূরে যাইতে ইষ্টবে না। স্থলতঃ অধ্যাত্মিক, নানসিক, শাৰীধিক সকল বিষয় লষ্টয় স্ত্রী পুরুষের শক্তি সমান হওয়া যুক্তিসঙ্গত হইলেও গর্ভধারণ, সন্তানপ্রসব ও লালনপাললাদিতে নারী-জাতির শক্তি এত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, যে স্বাভাবিক নিয়মেই পুরুষ অপেক্ষ শারীরিক শক্তিতে নারীজাতি হীল হইয়া পড়িয়াছে। এসমস্ত প্রকৃতিনির্দিষ্ট, ইতাদিগের মধ্য হইতে কোন একটীকে হস্তান্তর করা অসম্ভব । এস্থলে কেহ বলিতে পরিবে না যে পুরুষের পক্ষপাত করিয়া এই সকল কার্য্যের ভরে শ্লীপাতিল মস্তকে স্থাপন কলিশ তাঁহাকে হীনবল করিয়া ফেলিয়াছে। উঠাই যদি হয়, যে এগুলি প্রকৃতিনির্দিষ্ট স্বাভাবিক নিয়মেই ঘটে, তবে যে আমরা পূৰ্ব্বপক্ষ করিয়াছি—ী পুরুষ উভয়ে সমান তাহা কিরূপে প্রমাণ করা যাইতে পালে ? প্রকৃতি যদি এরূপ কোন ভার নারী-জাতির উপরে স্থাপন করিয়া থাকেন, যুদ্ধারা তাহার পুরুষ অপেক্ষা হীন হওয়া অনিবাৰ্য্য, তাহা হইলে সাম্যবাদেল ভিত্তি কোথায় ? আমরা বলিয়ছি, স্ত্রী পুরুষের সমতা একটা স্বতঃসিদ্ধ প্রতিজ্ঞ স্বভাবনিয়ন্ত্রিত সমাজে ইহার অন্যথা অসম্ভব । সুতরাং স্ত্রীজাতির এরূপ কোন শক্তি অবস্থা আছে, যদ্বারা এই ক্ষতি পূরণ হইতে পারে। এরুতি একদিকে যেমন হরণ করিয়াছেন, অন্যদিকে তেমনি পূরণ করিতে তিনি বাধ্য। তুলাযয়ের সমতাপ্রাপ্ত দুইটী পাল্লার (scales) একটাব মধ্য হইতে কিছু ভুলিয়া লইলে সমান পরিমাণ আর কিছু তাঙ্গতে স্থাপন করিতে হুইবে নতুবা তাছাদের সমতা বৃক্ষ হইবে না। প্রকৃতি ইহা করিতে কুষ্ঠিত হন নাই । তিনি দ্যায়নিষ্ঠা জননীর ন্যায় অপক্ষপাতে আপনার পুত্রকন্যাদিগকে সমানাংশে স্বীয় সম্পত্তি বিভাগ করিয়া দিয়ালে । সকলকে এক [ ৫ম ভাগ। | ৫ম সংখ্যা । ] জাতীয় বস্তু ন দিলেও মূল সমতার কোন তারতম্য ঘটে মই। নারীজাতির ক্ষতিপূরণের নিমিত্ত তিনি তাহাকে এমন একটী শক্তি প্রদান করিয়াছেন যাহা দ্বারা পুরুষজাতি চিরকাল শাসিত হইয়া আসিতেছে। কিন্তু এই শক্তি শারীরিক নহে, আধ্যায়িক । শারীরিক ও আধ্যাত্মিক শক্তির কার্য্যপ্রণালীতে এই একটা বিশেষ প্রভেদ আছে যে, শারীরিক শক্তির কার্য্য যেরূপ আশু ফলপ্রদ, আধ্যাত্মিক শক্তির কার্য্য সেরূপ নহে । শেষোক্তটার কায্যের গতি কিঞ্চিৎ মন্থর। সেইজন্স অনেক সময়ে শারীরিক শক্তির দ্বার আধ্যাত্মিক শক্তি পযুনিস্ত হইয়া যায়। কিন্তু বিশেষ ভাবে প্রণিধান করিলে দেখা যায় যে, ধীরে ধীরে বিজিত জেতাকে জয় করিতেছে। রোম শারীরিক শক্তিতে গ্রীস্কে জয় করিলেও আধ্যাত্মিক শক্তিবলে গ্রীস রোমের উপরে জয়লাভ করিয়াছিল। ভারত শারীরিক বলে ষ্টযুরোপের নিকটে পরাস্ত হইয়াছে বটে ; কিন্তু তাহার আধ্যাত্মিক শক্তি ধীরে ধীলে বিজেতার উপরে প্রতিষ্ঠালাভ করিতেছে। যাহা হউক, শারীরিক ও আধ্যাত্মিক শক্তিয়ের এই প্রভেদটার আশ্রয় লইয়া শারীরিক শক্তিতে বলীয়ান পুরুধ রমণীকে নিপীড়ন কলিয়াছে ও তাঁহাকে তাহার প্রকৃতিদাত্ত অধিকারগুলি হইতে বঞ্চিত করিয়াছে । কিন্তু ইহাল ফল কি হইয়াছে ? ফল হুইয়াছে “খিনিপাতঃ” । ইতিহাস --ভারত-ইতিহাস-সাক্ষা দিতেছে যে রমণীকে স্বাধিকার হইতে বিচ্যুত করাতে পুরুষের পক্ষে লাভ লষ্টয়াছে,-“পরম গো বধঃ” । অমিলা এ কথা বলিতেছি না সে পুরুষ যখন রমণীর অধিকারগুলি একটা একটা করিয়া ধীরে ধীরে হরণ করিয়াছিল, তখন সে রমণীজাতির প্রতি আক্রোশবশতঃ স্বীয় প্রতিহিংসাবৃত্তির চরিতার্থতার নিমিত্ত এরূপ করিয়াছিল। বরং ইহাই ঠিক বলিয়া মনে হয় যে স্ট্রীজাতিকে এই সকল অধিকার হইতে দঞ্চিত করিলে সমাজেয় মঙ্গল হুইবে, এষ্টরূপ ভূবিয়াই তাহা করিয়াছিল। রমণীও যে নিৰ্ব্বিবাদে স্বীয় অধিকারগুলি ছাড়িয়া দিয়াছিল, তাহা মনে হর না । তবে পুরুষ শারীরিক শক্তিতে বলবত্তর বলিয়া সংগ্রামে হারিয়া গিয়া পুরুষ যাহা ভাল মুকিয়াছিল তাহ বিকৃতি হইলেও অত্যাচার ভয়ে প্রকৃতি বলিয়া গ্রহণ করিয়া স্বীয় অবস্থাতে সন্তুষ্ট হইতে দ্বাধ্য হইয়াছিল। শেষে বিকৃতিই প্রকৃতি ভারত-রমণী । ২৬৫ হইয় গেল। কিন্তু অধিকারগুলি প্রকৃতি প্রম্বস্তু, সেগুলি হইতে রমণীকে বঞ্চিত করিলে প্রকৃতি কি তাহার প্রতিশোধ গ্রহণ করিবে না ? তুলাযন্ত্রের একদিক হইতে যদি কিছু ভার কমাইয়া দাও তবে যন্ত্রের সমতারক্ষার জন্য অপর দিক হইতেও ঠিক সেই পরিমাণে ভার কম করিতে হইবে। সমাজয়ন্ত্র সম্বন্ধেও ঠিক সেই কথা। সমাজপত্রের একপৃষ্ঠ যদি কিযুৎ পরিমাণে কাটিয়া দেওরাষায় তবে দেখা যাইবে যে অপর পৃষ্ঠাও কাটা হইয়া গিয়াছে। চুম্বক দণ্ডে (Magnetic bar) ঠিক মধ্যস্থলে কেন্দ্র এবং দৃষ্ট দিকের দুইটী মেরু, উত্তর ও দক্ষিণ, তাহা হইতে সমদূরবর্তী। শত চেষ্টাতেও মেরুদ্বয় কেন্দ্র হইতে আপনাদিগের সমদূর্বক্তিত্ব পরিহার করিতে পারে না । ইহা প্রকৃতির নিয়ম। ইহাকে পরিহার করা অসম্ভব । দক্ষিণ মেরুর কিয়দংশ কাটিয়া ফেলিলে দেখা যাইবে যে, কেন্দ্র উত্তর মেরুর দিকে কিয়দ্র সরিয়া গিয়৷ মেরুদ্বয়ের সমদূৰ্ববৰ্ত্তিত্ব রক্ষা করিতেছে। সমাজেও ঠিক সেইরূপ দেখা যায় যেখানে পুরুধ রমণীকে হীন করিয়াছে সেখানেই সে নিজেও হীনতাপ্রাপ্ত হুইয়াছে। আমৰু৷ ভারত-রমণীর দৃষ্টান্ত দ্বারা এই বিষয়টা কিয়ুৎপরিমাণে প্রতিপন্ন করিতে চেষ্টা করিব। আমরা দেখাইতে চেষ্টা করিব রমণীকে স্বাধিকারবিচ্যুত করিয়া সমাজ ভয়ানক ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে। এখন দেখা যাকৃ, নারীজাতি এদেশে কি কি অধিকার হইতে বিচ্যুত হইয়াছেন। আমরা সৰ্ব্বপ্রথমে স্ত্রী-স্বাধীনতা বা অনবরোধ বিষয়ের আলোচনা করিব । কারণ, এই স্বাধীনতা হারাইয়া নারীসমাজ অনেকগুলি অধিকার হারাইয়াছেন। একথা ঠিক যে প্রকৃতিনিদিষ্ট নিয়মানুসারে স্ত্রীজাতিকে অধিকাংশ সময় গৃহে আবদ্ধ থাকিতে হয় । পারিবারিক শ্রমবিভাগে রন্ধন ও শিশুসন্তানের রক্ষণাবেক্ষণ প্রভৃতি গৃহকাৰ্য্য রমণীকে করিতে হয় এবং অথোপাজ্জন ও পরিবারসম্বন্ধীয় অদ্যান্ত বাহিরের কার্য পুরুষকে করিতে ছয় । কিন্তু গৃহেও এরূপ অনেক কাৰ্য্য আছে যাহা স্ত্রী পুরুষ উভয়কেই করিতে হয় এবং বাহিরেও এরূপ অনেক কাৰ্য্য আছে যাহা স্ত্রী পুরুষ উভয়ের সমবেত চেষ্টা ব্যতীত সুসম্পন্ন হইতে পারে না। গৃহ রমণীর প্রধান কাৰ্য্যক্ষেত্র বলয় তাহাকে গৃহ মধ্যে আবদ্ধ করিলে কেরাণী বাবুকেও দপ্তরখানার চতুঃসীম মধ্যে আবদ্ধ