পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఇSసి করা উচিত। একথা ঠিক, অনেক রমণী এরূপ আছেন যে গৃহকাৰ্যা সম্পাদন করিয়া অন্য কোন কাৰ্য্য করিবার শক্তি ও সময় তাহদের থাকেন, অথবা করিলে গৃহকাৰ্য্যের অঙ্গহানি হয়। কিন্তু জিজ্ঞান্ত এই, এমন কেরাণী বা উকীলবাবু কি নাই যাহাঁদের অর্থোপার্জনের অতিরিক্ত কিছু করিবার শক্তি বা সময়ের নিতান্ত অসদ্ভাব ? সে জন্য কি পুরুষঙ্গতিকে অর্থোপাৰ্জ্জন ব্যতীত আর সকল কাৰ্য্য হইতে বরখাস্ত করিতে হইবে ? স্ত্রীজাতির বেলায় কিন্তু তাঁহাই হইয়াছে। গৃহ প্রধান কার্যাক্ষেত্র বলিয়া একমাত্র গুহকেই তাহার কার্য্যক্ষেত্ররূপে নির্দেশ করা হইয়াছে। যাহা অংশে ছিল, তাহাকে সমগ্রে পরিব্যাপ্ত করিয়া দেওয়া হইয়াছে। ফল কিন্তু ভাল হয় নাই। একটা দৃষ্টান্ত গ্রহণ করা যাকৃ। সভা সুমিতিতে রমণীর চিন্তার সহায়তালাভ করিলে পুরুষের বিচারের যে অত্যন্ত সুবিধা হইত তাঁহাতে কিছুমাত্র সন্দেহ নাই। পুরুষ পুরুষভাবে চিন্তা করে। রমণী যদি তাহার চিন্তা লইয়া পুরুষের সঙ্গে যুক্ত হইতেন, তাহা হইলে যে মণিকাঞ্চন সংযোগ হইত তাঁহাতে সন্দেহ নাই। বিচালে যোগ না দিলেও কেবল রমণীর উপস্থিতিষ্ট পুরুষকে সংষত করে। রমণীকে বর্জন করিয়া পুরুষ এই স্তযোগ হারাইয়াছেন। প্রাচীন ভারতে কিন্তু অল্পপ্রকার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে পুরুষ রমণীকে অন্তঃপুর কারাগারে অবরুদ্ধ করিয়া আপনাকে বিকলাঙ্গ করে নাই - আমরা প্রাচীন ভারতের দুইজন মনস্বিনী রমণীর চরিত্র এখানে আলোচনা করিব। তাহাদিগের চরিত্র অনুশীলন করিলে প্রতিপন্ন হুইবে যে সে সময়ে ভারতে কখনও অবরোধপ্রথা ছিল না। রমণী পুরুষের সহধৰ্ম্মিণী ও প্রতিদ্বন্দিনী ছিলেন। তাছাদিগের চরিত্র যে ধাতুতে নিৰ্ম্মিত, তাহা পুর্ণ স্বাধীনভার খনি বাতীত আর কোন স্থান হইতে সংগৃহীত হইতে পারে না। ইচ্ছাদিগের মধ্যে প্রথমটী গাঙ্গী, দ্বিতীয়ট দ্রৌপদী। তণ্ডুল সিদ্ধ হইয়াছে কি না তাহী জানিবার নিমিত্ত যেমন সমস্ত অল্প টিপিতে ছয় না, একটা কিম্বা দুইটা দেপিলেই যথেষ্ট হয়, আমরাও তেমনি এই দুইটী নারীচরিত্র পরীক্ষা করিয়া স্ত্রীজাতির অধিকার ও ভারতসমাজের তদানীন্তন অবস্থা • প্রাচীন সাহিতোরে নারীজাতির প্রতি অত্যাচারের উল্লেখ নাই তীখা নহে। কিন্তু থামাদের বিশ্বাস আদর্শ হীন হইলেও কাগক্ষেত্রে স্নধর্মর অধিকার অস্বীকৃত হুইত ন! । প্রবাসী । [ ৫ম ভাগ । অবগত হইতে চেষ্টা করিল। উপনিষদ .পাঠকের নিকটে গাগীর নাম সুপরিচিত। আমরা যে ঘটনা সম্পর্কে তাহার নাম উল্লেখ করিতে বাইতেছি তাহাও উপনিষদের একটা প্রসিদ্ধ ঘটনা । রাজর্ধি জনক বোধ হয় সিকাগে| ( Chicago ) ধৰ্ম্ম-মহামেলার মত স্বীয় রাজধানী মিথিলা নগরীতে একটা মহানজ্ঞেয় অনুষ্ঠান করিয়াছিলেন। ঘজের এক অংশে ব্রহ্মবাদীদিগের সন্মিলন । ভারতের ব্রহ্মবাদী পণ্ডিতমণ্ডলী উপস্থিত। রাজর্ষি সেখানে স্নবর্ণ-মণ্ডিত-শৃঙ্গ সহস্ৰ ধেনু উপস্থিত করিয়া পণ্ডিতগণকে তর্কযুদ্ধে প্রবৃত্ত করিবার নিমিত্ত কহিলেন, “আপনাদিগের মধ্যে যিনি সৰ্ব্বশ্রেষ্ঠ ব্ৰহ্মজ্ঞ তিনি এই সহস্ৰ ধেনু গ্রহণ করুন।” সভায় মহর্ষি যাজ্ঞবল্কা উপস্থিত ছিলেন । বোধ হয় ধেমুগুলি দেখিয় তাহার লোভ হইয়াছিল। সেই জন্য জনকের অপূৰ্ব্ব আহ্বানকৌশলে পণ্ডিতবর্গ যখন নিস্তব্ধ, তখন যাজ্ঞবল্কা দণ্ডায়মান হইয়া আপনায় শিস্যদিগকে কহিলেন "ধেমূসমূহ আমার আশ্রমে লইর বাও” । তখন চায়িদিক্ হইতে অশট স্বরে প্রতিবাদধ্বনি উত্থিত হইল। যাজ্ঞবল্ক্য স্বীয় কাৰ্য সনৰ্থলের জন্য বলিলেন, “ব্রহ্মবিদগণের চরণে নমস্কার! আমি ধেত্ব অত্যন্ত ভালবাসি ; সেই জন্য গ্রহণ করিয়াছি, ব্রহ্মবিদ বলিয়া নহে।” কিন্তু তাহ কে শোনে ? তাহার ব্রহ্মবিদ্যা পরীক্ষা করিবার নিমিত্ত চারিদিক হইতে তাহার উপর প্রশ্ন-শর সকল নিক্ষিপ্ত হইতে লাগিল। কিন্তু যখন কোন পণ্ডিত বাজ্ঞবল্ক্যকে পরাস্ত করতে পারিলেন না, তখন গাগাঁ পণ্ডিত মণ্ডলীকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, “আপনার প্রতিনিবৃত্ত হউন, আমি যাজ্ঞবল্ক্যকে দুইট প্রশ্ন করিতেছি । তিনি যদি ইহার সদুত্ত্বর প্রদান করিতে পারেন, তাহ হইলে আপনার পরাজিত হইলেন বলিয়া স্বীকার করবেন।” গঙ্গীর বাক্যে পণ্ডিতমণ্ডলী আর দ্বিরুক্তি না করিয়া নীরব হইলেন । এই ঘটনার দ্বারা প্রাচীন আৰ্য্যসমাজে লালাঞ্জাতির অধিকার ও তাহার প্রতিভাব বিকাশ অতি উজ্জ্বল তাখে প্রকটিত হইয়াছে। জাতীয় মহাসমিতির বষ্ট অধিবেশনে একজন মচিলা সভাপাতকে ধন্থদ্বাদ দিয়াছিলেন। তাঁহা লইয়া কত বাদ প্রতিবাদ বোধ হয় জনক ও যাজবন্ধ বিষয়টা পূৰ্ব্ব হইতে এইরুপ ঠিক করির রাখিয়ছিলেন, নতুবা মহৰ্লি যজ্ঞবল্ক্য এরূপ কাৰ্য্য করলেন কেন । ৫ম সংখ্যা । ] হইয়াছিল। আর এই ধৰ্ম্মমহাসমিতিতে রমণী বলিতে গেলে সভাপতির আসন প্রাপ্ত হইলেন । সিকাগো ধৰ্ম্মসভার সভাপতিত্ব যদি কোন লমণী দাবী করিতেন তবে ইয়ুরোপের কথা দূরে থাকুক, স্বাধীনতার লীলাভূমি সভা আমেরিকাও রমণীর এই পৃষ্টত মার্জনা করিতেন কি না সন্দেণ্ড। পাশ্চাত্য জগত এপর্য্যস্ত এত উন্নত হয় নাই যে ধৰ্ম্মসম্বন্ধীয় বিচার নিষ্পত্ত্বির নিমিত্ত কোন রমণীপ মধ্যস্তৃতা স্বীকার করিতে পরিবে। জগতেব অন্য কোথাও যাঁহ এ পর্য্যন্ত হয় নাই ভাবতে তাঁহা হইয়াছিল । আর একটা বীর্যাবর্তী রমণী দ্ৰৌপদী। পঞ্চালে মহ স্বয়ম্বর সভা নিৰ্ম্মিত হইয়াছে। ভারতের সমগ্ৰ যোদ্ধা ও রাজন্যমণ্ডলী স্থার সভাস্তল বিমণ্ডিত। যে লক্ষ্যভেদ করিবে সেই দ্রৌপদীকে লাভ করিবে ইহাই দ্রুপদের পণ । প্রধান প্রধান য়াজাগণ লক্ষাভেদে বিফলকাম হওযাতে পরিশেষে দ্রুপদ ও খৃষ্টদ্বায়ের আহবানে মহাবীল কর্ণ উখিত হইলেন। দ্রৌপদী কহিলেন “আমি সুতপুত্রকে বিবাহ করিব না।” পিতা ও পিতৃতুল্য ভ্রাতার অপেক্ষ রাখিলেন না। এই একটা কথা ধারা যে চরিত্র অঙ্কিত হইল, তাহু! খত পৃষ্ঠায়ও বর্ণিত হওয়া অসম্ভব। স্বীয় অধিকারের জ্ঞান স্বল্পষ্ট না থাকিলে এবং শৈশব হইতে সেরূপ শিক্ষা না পাইলে এ প্রকার অসমসাহসের কার্য একেবারে অসম্ভব। সে মহালভীয় দণ্ডায়মান হইয়া একটা কথা বলিতে অতি বড় বার্গীরও হৃদয় কম্পিত হইবার কথা, কিন্তু রমণী স্বীর অধিকাররক্ষা করিবার নিমিত্ত তথার নিজের ইচ্ছা জানাইতে ভীত হষ্টলেন না। এই সাহস কেবল স্বাধীনতাৰ জলবায়তেই বৰ্দ্ধিত হইতে পkর। যে দুৰ্জ্জয় সাহস একদিন হস্তিনাপুবের মহাসভাতে—যে সভায় ছাতক্রীড়াতে পাণ্ডব পরাজিত, ভীমাৰ্জুন কিংকৰ্ত্তব্যবিমূঢ়, ভীষ্ম দ্রোণ নীরব নিস্তক-সেই সভায় নিৰ্ভয়ে স্বীয় অধিকাসুলক্ষার নিমিত্ত যত্নবতী হইয়া ভীষ্ম দ্রেীণ প্রভৃতি নীতিবিশারদ পণ্ডিতদিগকেও বাকাজালে আঁতে করিয়াছিল, আমরা সেই সাহসের বিকাশ এথানে দেখিতেছি। পিতৃগৃহে স্বাধীনতার উন্মুক্ত বাতাসে এই সাহস আয়ত্ব করিয়াছিলেন বলিয়াই ঘোঁর অরণ্যেও একাকিনী মহাযোধ জয়দ্রণ কর্তৃক আক্রান্ত হইয়া তিনি সিংহীর স্থায় তাহাকে আক্রমণ করিয়াছিলেন এবং পদাঘাতে তাহাকে ভারত-রমণী । R3 ভূপাতিত কবিয়াছিলেন । হায়! নে দেশের রমণীবীর্য, রমণীপ্রতিভা এত দূর বিকাশপ্রাপ্ত হইয়াছিল সেই দেশের রমণীজাতি শৃঙ্খলিত হইয়া পিয়রাবন্ধ হইল কেন ? এ রহস্ত কে উদ্ভেদ করিবে ? রহস্ত কেহু উদ্ভেদ করুন আর নাই করুন, রমণীকে পিঞ্জরাবদ্ধ করিয়া পুরুষ যে বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে আমরা তাহ মুক্তকণ্ঠে বলিতে পারি। কোন উচ্চ কার্যে রমণীর যোগ নাই। গৃহের দু’চারিট কার্য ব্যতীত আর কোনও কাৰ্য্যে আমরা রমণীকে দেপিতে পাই না । সেই জন্য নারীজাতি সম্বন্ধে আমাদের হৃদয়ের ভাব অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ হুইদ পড়িয়াছে। বাহিরের কোন সৎকার্যেও রমণীর যোগ দেখিলে আমরা আমাদিগের হৃদয়ের কলুষিত ভাৰ গোপন করিয়া রাখিতে পারি না । পুরুষের হৃদল্প এবিষয়ে কত অধোগতি প্রাপ্ত হইয়াছে, সে বিষয়ে একটা প্রত্যক্ষ ঘটনার উল্লেথ না করিয়া থাকিতে পারিলাম না। এরূপ ঘটনা বিরল নহে, অনেকে ইহা প্রত্যক্ষ করিয়া থাকিবেন। কিছুদিন পূৰ্ব্বে কলিকাতার বাহিরে কোনও স্থানে ব্ৰহ্মোৎসবে যোগ দিবার নিমিস্তু গিয়াছিলাম। উপাসনার সময়ে হঠাৎ গোলমাল উপস্থিত হুইল । পুরাণে শুন! বাসু ঋধিদিগের ঘঞ্জে বিঘ্ন উৎপাদন করিরীর নিমিত্ত্ব রাক্ষসুগণ যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হইয়। নানাপ্রকার উৎপাত করিত। যজ্ঞরক্ষার নিমিত্ত শ্রীরাম দুষ্মন্ত প্রভূতি মহাবীরদিগের সহায়তার প্রয়োজন হইত। চারি শত বৎসর পূৰ্ব্বে চৈতন্তদেবকেও সঙ্কীৰ্ত্তন-যজ্ঞ রক্ষার জন্ত নবাবের সহায়তাগ্রহণ করিতে হইয়াছিল । বর্তমান সময়েও দেখা যায় ব্রহ্মোপাসনা-বজ্ঞের বিঘ্ন উৎপাদন করিবার জন্ত রাক্ষসগণ চারিদিকে ফিরিতেছে । রাক্ষসগণের আকৃতি পরিবর্তিত হইলেও প্রকৃতি পরিবৰ্ত্তিত হইয়াছে বলিয়া মনে হয় না । উক্ত উৎসবেও সেইরূপ স্বাক্ষসগণের আবির্ভাব হইয়াছিল এবং উপাসনাতে বিঘ্ন জন্মাইবার জন্য তাহারা চারিদিক হইতে লোষ্ট্র নিক্ষেপ করিতেছিল। আমি পাশ্ববৰ্ত্তী বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করিলাম, -এরূপ হইতেছে কেন ?” তিনি বলিলেন, “অরি কেন ? নারীগণ যে এবার উৎসবে যোগ দিয়াছেন। তিনি আরও বলিলেন যে নারীগণ যখন রোগীদিগকে মিষ্টান্ন এবং ফলমূল বিতরণ করিতে গিয়াছিলেন, তখনও তাহদের গাড়ীতে ঢ়িল পড়িস্নাছিল। শুনিয়া লজ্জা, ক্ষেতি ও স্বশায় মন অত্যন্ত