পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఫిసి উত্তেজিত হইয়া উঠিল। ভাবিলাম, কি ঘোর অধঃপতন খটিয়াছে। যাহাদিগকে যত্ন করিবার কেহ নাই, কোমল ব্যবহার যাহারা কখনও পায় না, জননীর ন্তার কোমল ব্যবহার দ্বারা রোগযন্ত্রণায় নিপীড়িত সেই হতভাগ্যদিগের হৃদয়ের ব্যথা ক্ষণকালের জন্তুও যাহার উপশম করিতে চেষ্টা করিলেন°র্তাহাদিগের পুরস্কার হইল কি ? মা এই লাঞ্ছনা! ইহাদিগের হৃদয় এরূপ বিকৃত হইয়া গিয়াছে যে, রমণী কর্তৃক সম্পাদিত হইয়াছে বলিয়৷ ইহার এরূপ সৎকার্যাটার প্রতিও সহানুভূতি প্রদর্শন করিতে পারিল না। পুরুষ রমণীকে স্বাধীনতা বিচ্যুত করিয়া যে কেবল রমণীর অনিষ্ট করিয়াছে তাহা নহে, নিজেও নারীজাতি সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে মনুষত্বহীন হইয়া পড়িয়াছে। রমণীর কোন কাৰ্য্যের প্রতি আর সুদষ্টি নিক্ষেপ করিতে পারিতেছে না । ইহাই পাপের প্রায়শ্চিত্ত । দ্বিতীয় কথা শিক্ষা। একথা সকলেই স্বীকার করিবেন, যে যে ব্যবহারিক শিক্ষায় অর্থোপত্নম ও অন্তান্ত শাৰীৰিক প্রয়োজন সাধিত হয় তাহাতে স্ত্রী পুরুষের বিভিন্নতা থাকিবেই, ইহা নিশ্চিত। আমরা ইতিপূর্কে যে পারিবারিক শ্রমবিভাগের কথা বলিয়াছি, তাঁহাতে এ প্রকার বিভিন্নত। অনিবাৰ্য্য। পুরুষ রন্ধন শিক্ষা করবে না কিম্বা রমণী কেরাণীগিরি অভ্যাস করিবে না, ইহাই স্বাভাবিক ও সাধারণ নিয়ম । বুঝিতে হইবে তাহার কোনও অর্থ নাই। সুতরাং নারীজাতির উচ্চশিক্ষা সমর্থন নিমিত্ত উদ্ধৃত "কন্যাপ্যেবং পালনীয়া শিক্ষনীয়াচ যত্নতঃ” এই শ্লোকাঙ্ক ব্যবহারিক শিক্ষার পক্ষে ব্যাখ্যা করিয়া যাহারা মনে করেন "কেল্লাফতে” প্তাহাদিগের সঙ্গে আমাদিগের কোন সন্ধান্তভূতি নাই। যে শিক্ষায় হৃদয় মনের উচ্চতা ও বিস্তার সাধিত হয় সে শিক্ষায় পুরুষ নারী নির্বিশেষে সকল মানুষেরই সমান অধিকার। তাহা সঙ্কোচ করিবার কাহারও অধিকার নাই। পুরুষ স্বীয় পুরুষত্ব বৃক্ষার জন্য সংগ্রাম করিতে পাবেন, নারী নিজ নারীত্বের সীমা রক্ষা করিবার জন্ত যত্নবর্তী হইতে পারেন, কিন্তু মমুৰ্য্যত্ন উভয়ের লাধারণ সম্পত্তি । তাহান্ত্র উপর হস্তক্ষেপ করিবার কাহারও অধিকার নাই। মতুযুত্ব লাভ করিবার অধিকার সকলেরই সমান। যাহা সমুন্যত্ব লাভের অগুরার তাহ সমাজের পক্ষে সৰ্ব্বাগ্রে বজ্জনীয়। দর্শন, প্রবাসী । কিন্তু শিক্ষা বলিলে যে কেবল ব্যবহারিক শিক্ষণ - বিজ্ঞান, কাব্য, সাহিত্য, ইতিহাস প্রভৃতির আলোচনাতেন্ধে মিলানন্দ মিলে, তাহাতে আত্মার যে বিকাশ ও উন্নতি সাধিত হয়, তাহার অধিকারী কেবল পুরুষ, রমণী নহে, এ ব্যবস্থার দ্যায়, পক্ষপাতদুষ্ট ব্যবস্থা আর কিছু হইতে পারে কি না সন্দেহ । যদি শ্রমবিভাগ লা থাকে, যদি অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলি পরস্পর পরস্পরের কার্য্যে হুস্তক্ষেপ করে, তবে কথন দেহু যন্ত্রের কার্য চলিতে পারে না । কিন্তু বধি এ প্রকার , ব্যবস্থা করা ধার যে মিষ্টাল্লের রসের সারভাগ কেবল যকৃতের পুষ্টিসাধনেই ব্যস্থিত হইবে ভাহা হইলে শরীরের পক্ষে সুস্থ ও সফল থাক কথন ও সম্ভবপর হইয়ে না। শরীরের অনিষ্ট না করিয়া কখনও এরূপ ব্যবস্থা করা যাইতে পারে না । সমাজুস্থিতির জন্ত সমাজের কার্য্যগুলি স্ট্রা পুরুষ উত্তরে ভাগ করিরা লইবে, অথচ সামঞ্জক উন্নতির সারভাগ কেবল পুরুষ উপভোগ করিবে, ইহা অপেক্ষ কুব্যবস্থা আল্প কি হইতে পারে! আমরা কিন্তু ইতিহাসে অন্তরূপ ব্যবস্থা ঘেখিতে পাই। দর্শন, বিজ্ঞান, কাব্য, সাহিত্য ও গণিতে অনেক বৃন্মণী প্রসিদ্ধিলাভ করিয়াছিলেন। ইতিহাস কিযুৎপরিমাণে ইহার সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে। খনা, লীলাবতী, কর্ণাটরাজপত্নী, কালিদাসের স্ত্রী, প্রভৃতি রমণীদিগের নাম প্রবাদবাক্যের দ্যায় প্রচলিত হইয়া গিয়াছে । কেহ বলিতে পারেন যে এ ত স্থা চারটি নাদ না । ইহা ত সমুদ্রে শিশিরবিন্দু। আমাদের মনে হয়, এই বিদুই সিন্ধুর পরিচায়ক । যিনিই শিক্ষণ পাইবেন, তিনিই যে প্রসিদ্ধিলাভ করিবেন, এরূপ আশা করা যাইতে পারে লা । আমাদের দেশে যিনিই বিজ্ঞাম চর্চা করবেন, তিনিই যে জগদীশচন্দ্র বসু হুইবেন, এমন আশা করা বৃথা । সহস্ৰ জনের মধ্য কুইতে একজনের নাম তবিযুদ্বংশীয়লের নিকটে ধার কি না সন্দেহ । এখন কোন কোনও সম্প্রদান্ত্রে স্ত্রীশিক্ষা যিস্তারিত হইয়াছে। র্যাহার শিক্ষালাভ করিতেছেন, তাহাদেশ কয় জনের নাম আমরা শুনিতে পাই ? আবার তাহাদের মধ্যে কয়জনেরই যা নাম মুদূর ভবিষ্যদ্বংশীয়দের শ্রুতিকোষে নিবন্ধ থাকিবে? সেই জন্যই বলিয়াছি বিলুই সিন্ধুর পরিচায়ক । স্ত্রীশিক্ষা প্রচ লিত না থাকিলে এই কয়েকট রমণীর নাম আমরা আজ উল্লেখ করিতে পারিতাম না। প্রতিপক্ষ তবুও জেদ করির বলিতে পারেন যে, আমরা যে কয়জনের নাম শুনিতে পাইতেছি [ ৫ম ভাগ। T. সংখ্যা । ] ! কেবল তাহাদিগকেই শিক্ষা দেওয়া হইয়াছিল, অপর সকলকে নহে । আমরা তদুত্তরে বলি এই যে, যাহাকেই শিক্ষা দেওয়া হয়, সেই যদি খনা লীলাবতী হইয়া উঠে, তবে শিক্ষা না দেওয়া যে সমাজের পক্ষে কিরূপ অনিষ্টজনক তাহ বলা নিম্প্রয়োজন। মহাকবি ভবভূতি যে একটী নারীচরিত্র অঙ্কিত করিয়াছেন, তাছা দেখিয়া প্রাচীন ভারতের স্ট্রীশিক্ষার প্রসার ভাবিলে মন অত্যন্ত পুলকিত vইয়। চিত্রট এই :-—মহর্ষি বাল্মীকির আশ্রমে লবকুশ বিষ্ঠার্থ হইয়া প্রবেশ করিয়াছেন। মহর্ষি এই দুই জনকে লইয়া অত্যন্ত বাস্ত হইয়া পড়িয়াছেন, বোধ হয় ত্যন্ত ছাত্রছাত্রীদিগের প্রতি কিঞ্চিৎ অমনোযোগী হইয়াছেন। সেই জন্য আৰ্য্যা আত্ৰেয়ী নিবিড় অরণ্যানী ভেদ পূর্বক অন্ত আর একটা আশ্রমে বইতেছেন। আমরা ইউরোপের কোনও অনুরাগী ছাত্র সম্বন্ধে ইহা কল্পনা করিতে পারি যে লওনে ভাল শিক্ষা হয় না বলিয়া তিনি পারিস বা ধার্লিনে যাইতেছেন। যদি রেলপথ প্রস্তুত হইবার পূৰ্ব্বে কেহ এরূপ করিয়া থাকেন, তবে নিশ্চয় তাহার অধ্যবসায়ের প্রশংসা না করিয়া কেহ থাকিতে পরিবে ল । কিন্তু এই রমণীর অধ্যবসায় কি ইহা অপেক্ষ সইত্ৰগুণে অধিক প্রশংসনীয় নহে ? বিষ্কার প্রতি কিরূপ অনুরাগ জন্মিলে এবং তল্লাভে কিরূপ ঐকান্তিক নিষ্ঠা থাকিলে এরূপ অধ্যবসায় সস্তুবে ? ব্যক্তি বিশেষের এরূপ অনুরাগ ও নিষ্ঠ সমাজের প্রতিবিম্ব মাত্র। সমাজে যদি নারীশিক্ষা প্রচলিত না থাকিত, তবে মারাবিশেষের এরূপ অম্বুরাগ সম্ভব হইত না। নারীর উচ্চশিক্ষা প্রচলিত ছিল বলিয়া মহাকবি ভবভূতি এই চিত্র অঙ্কিত করিতে সক্ষম হইয়াছেন । শিক্ষার প্রতি রমণীর এই অনুরাগ কি সুন্দর । কি মনোরম ৷ প্রসঙ্গক্রমে এথানে একটী কথা বলা যাইতে পারে। প্রসিডেন্সি কলেজে ছুইটী মহিলার প্রবেশাধিকাল লাভে ঘোর কলির আগমন ভাবিয়া যাহার চারিদিক অন্ধকার দেখিয়াছিলেন, তাতার মহর্ষি বাল্মীকির তপোবনের দিকে একবার দৃষ্টিপাত করুন, তাহ হইলে অন্ধকার ঘুচিয়া যাইবে, তাহারা দিব্য দৃষ্টি লাভ করিবেন। তাহারা দেখিতে পাইবেল যে পুরুষ রমণীর একত্র বিদ্যাভাস তপোবনে প্ৰবৰ্ত্তিত হইয়াছিল, বিলাভ হইতে আমদানী হয় নাই । কিন্তু হায় ! এ চিত্র দেশ চইতে বিলুপ্ত হইযাছে। যে দেশের রমণী শিক্ষার ভারত-রমণী । ఫిసిసి প্রতি এতদূর অনুরাগ ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করিয়াছেন, যে দেশের নালীশিক্ষণ পূনা, লীলাবর্তী প্রসব করিয়াছিল, সেই দেশের রমণী শিক্ষাধিকার হইতে বঞ্চিতা ! ইহা অপেক্ষা শোচনীয় ব্যাপায় আর কি হইতে পারে ? ফল আশাতিরিক্ত শোচনীয় হইয়াছে। যাজ্ঞবল্কা ও অঙ্গিরা যে দেশের মন্ত্রদ্রষ্ট ঋবি, উপনিষদ ও ভগবদ্গীত যে দেশের ধৰ্ম্মশাস্ত্র, ব্যাস ও বাল্মীকি যে দেশের কবিগুরু, সাস্থ্য ও বেদান্ত যে দেশের দর্শন, গৌতম ও কণাদ যে দেশের মনীষী, রামায়ণ ও মহাভারতের গৌরবে যে যেশ গৌরবাম্বিত, সায়ন ও ভাস্করের ভাস্বর দীপ্তিতে যে দেশ দীপ্তিমান, পাণিনি ও অমরের অমরকীৰ্ত্তি যে দেশের অতুলনীয় সম্পত্তি, শঙ্কর ও রামানুজ যে দেশের আচাৰ্য্য, সে দেশ যে সকল গৌরব হইতে ভ্ৰষ্ট হইয়া বিপ্তবুদ্ধিতে সভ্যতার অতি নিরস্তরে অবস্থিত হইয়াছিল, তাহার কি কোন কারণ নাই ? অবশ্ব আছে, সে কারণ প্রকৃতির প্রতিশোধ। রমণী জাতিকে শিক্ষাহীন করাই ইহার কারণ। মতুষ্কের সর্বপ্রথম শিক্ষা কোথায় আরব্ধ হয় ? রমণীর পদতলে—মাতৃচরণ-প্রান্তে। মাত স্বশিক্ষিতা না হইলে সন্তানের সর্বাঙ্গীন শিক্ষা আশা করা যাইতে পারে না । সেই জন্ত প্রাচীন কবিগণ শিক্ষার অধিষ্ঠাত্রী দেবতাকে পুরুষ রূপে কল্পনা না করিয়া নারীরূপে, মিনার্ভ ও সরস্বতী রূপে, কল্পনা করিয়াছেন। শিক্ষা মূখন রমণীর এত প্রভাব, তখন রমণীকে শিক্ষাহীন করিয়া কোম জাতি উন্নতিলাভ কলিতে সমর্থ হইতে পালে ? সেই জন্য রমণীকে শিক্ষাবিহীন করিয়া পুরুষ স্বীয়পদে কুঠারাঘাত করিয়াছে। তাছার নিজের শিক্ষাও ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে। মূল কাটিয়া আগায় জলসেচন করিলে কি হইবে ? সেই জন্য সমস্ত চেষ্টা বার্থ হইয়া নাইতেছে। নারীশিক্ষার অভাবে সমাজ বিকলাঙ্গ হইয় পড়িয়ছে। নারীর সহায়ত ব্যতীত পুরুষ কি কখনও সংসারসংগ্রামে জল্পী হইতে পারে ? মামুব একপদে অধিকক্ষণ দণ্ডায়মান থাকিতে পারে না । সুতরাং নারাপদহীন ভারত-সমাজ দণ্ডায়মান থাকিতে অক্ষম হইয়া ভূপতিত হইয়াছে। এ ত গেল অপর বিদ্ধ সম্বন্ধে, এখন পরা বিদ্যা সম্বন্ধে আলোচনা করা যাক্ । পরা বিদ্যা বিবয়ে প্রাচীন ভারতে রমণীর স্থান কত উদ্ধে ছিল, তাই আমরা গার্গ-যাঞ্জবন্ধ্য-সংবাদেই ইতিপূৰ্ব্বে