পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৪৭

From উইকিসংকলন
Jump to navigation Jump to search
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


| |

সাধনে নিৰ্ব্বিকল্প নামে মহাসমাধি শিক্ষা করিয়া যোগের উচ্চতম শিখরে আরোহণ করিলেন। তখন ধ্যাত ও ধোয়জ্ঞান একাকার হইয়া গেল। কিন্তু মহাত্মা তোতাপুরী ভক্তিতত্ত্ব একেবারেই বুঝিতেন না, এই নিমিত্ত কালীসাধক রামকৃষ্ণের কালীভক্তিকে কুসংস্কার মনে করিয়া নিরতিশয় বিদ্রুপ করিতেন। তখন রামকৃষ্ণ র্তাহাকে বুঝাইলেন যে, বাকামনানীত পরমাত্মাতে আমি, ভূমি, ঈশ্বর প্রভৃতি ভেদস্মক জ্ঞান নাই ; সব একাকার । কিন্তু যতক্ষণ ভেদজ্ঞানের কণামাত্র অবশিষ্ট থাকিবে, ততক্ষণ পরমাত্মা চিত্তা ও বাক্যের বিষয় হইয়া থাকেন। আত্মা পরমাত্মার সেবক। এই পরমাত্মাই আমাৰ জননী এবং ঈশ্বর । তোতাপুরীব প্রস্থানের পর তিনি একাকী নিৰ্ব্বিকল্প সমাধিস্থ হইয়। পরমব্রঙ্গে লীন হইতে চেষ্টা করিতে লাগিলেন। ছয়মাস কাল নিয়ত পূর্ণসম্ভোগের অবস্থায় ব্ৰহ্মানন্দরসপানে যাপন করিলেন। ইহাতেও তাহার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হইল না, সাধন-সাধ মিটিল না। অতঃপর তিনি ভিন্ন ভিন্ন ধৰ্ম্মসাধনোক্ত উচ্চতম পদ ও অধিকার লাভ করিবার জন্ত চেষ্টা করিতে লাগিলেন। তিনি পরম বৈষ্ণবী রাবার বেশে কৃষ্ণপ্রেম সাধন করিতে লাগিলেন । অতি অল্পদিনের মধ্যেই তাঁহাতে সিদ্ধিলাভ করিলেন । অন্তান্ত ধৰ্ম্ম, এমন কি মুসলমান ও খুষ্ট-ধৰ্ম্ম-সাধনায়ও সিদ্ধিলাভ করিলেন। ইহাতে র্তাহার অস্তশ্চক্ষু খুলিয়া গেল। দিব্যজ্ঞানে বুঝিতে পারিলেন, যে সকল ধৰ্ম্মই সেই অর্থগু সচ্চিদানন্দের এক এক দিক প্রদর্শন করিতেছে এবং তাহার ভিন্ন ভিন্ন পথ মাত্র । রামকৃষ্ণ সিদ্ধিলাভ করিলেন ; সঙ্গে সঙ্গে মনুষ্যসমাজে । প্রকাশিত হইয়া পড়িলেন। সাধনার্থী ধৰ্ম্মপিপাসু আত্মা সকল তাহীর নিকট আসিতে লাগিলেন এবং তিনিও উহার উপদেশে ও ষ্ট্রীবনে অসংথ্য লোকের কল্যাণ সাধনা করিয়া এবং অগণ্য লোকের মুক্তিপথের সহায় হইয়া আপনার দেবদুৰ্ল্লত জীবনের মহাত্ৰত উদ্যাপন করিতে লাগিলেন। তাহার বিশাল আত্মা জননী চিন্ময়ীশক্তির অমৃতক্রোড়ে লালিত পালিত হইয়া প্রফুল্ল কমলের স্থায় সৌন্দর্যমককুল পূর্ণ হইয়া উঠিল এবং তৃষিত অলিবুন্দ্রের লীলাক্ষেত্র হইয়া জীবনের পূর্ণ সফলতা লাত করিল। সাধক প্রবর হাফেজ রমণীমুথের সৌন্দৰ্য্য দেখির মুগ্ধ হইয়। থলিরছিলেন, “তুমি প্রবালী । এত সুন্দর, তুমি র্যাহার শ্রীহস্তের রচনা, না জানি তিনি কতই সুন্দর !!" বিস্ময়বিহালচিত্তে আমাদেরও জিজ্ঞাসা কয়িতে ইচ্ছা হয়, এই মহাপ্রাণ আত্মা যে শ্ৰহস্তের রচনা, যে অনস্ত ইচ্ছার একবিন্দু অভিব্যক্তি, না জানি তিনি কেন মহতোমহীয়ান্‌। ১৮৮৬ খৃঃ অব্দের আগষ্ট মাসে তিনি লীলাসম্বরণ করেন। উপসংহারে আর দুই একটা কথা লিখিতে চাই। আমরা পূৰ্বেই বলিয়াছি খ্রীরামকৃষ্ণ দেব বিবাহিত হইয়াছিলেন। তাহার এই সহধৰ্ম্মিণী শ্ৰীমতী সারদাসুন্দরীর আচরণ অতিশয় মনোমুগ্ধকর । তিনি মনস্বিনী রমণীর স্থায় স্বামীর সাধনপথে কণ্টক ন হইরা নারী চরিত্রের অপুৰ্ব্ব মাহাত্মা প্রকাশ করাছেন । তিনি অল্পবয়স হইতেই যে সংযমের পরাকাষ্ঠ, কামনাবাসনাত্যাগ ও ভগবদ্ভক্তির ধে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করিয়াছেন, তাহাতে র্তাহাকে দেবী না বলিয়া থাকা যায় না। আমরা উহাকে তাহার স্বামীর সহিত উদ্দেশে শ৬সহস্র প্রণাম করিতেছি। আমাদের এই হতভাগ্য দেশে শ্রীরামকৃষ্ণের দ্যার অনেক মহাত্মা জন্মগ্রহণ করিয়া মানবাত্মার গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠিত করিরাছেন। যে সাধনীবলে ইহারা এই উচ্চ পদবীতে আরোহণ করিয়াছেন, সচরাচর তাহার অবিমিশ্র অলাবিল ইতিবৃত্ত প্রাপ্ত হওয়া যায় না। এদেশের আপামর সাধারণ লোকে কোন অসাধারণ চরিত্র প্রভাব দর্শন করিলে এমনই মুগ্ধ হইয়া যান ধে একেবারেই তাহাকে দেবতাবোধে পুঞ্জ না করিয়া থাকিতে পারেন না । ইহাতে একদিকে তাহাঘের সাধুভক্তি ও সদণ্ডণপ্রবণতা দেখিয়া মুগ্ধ হইতে হয়, কিন্তু অপর দিকে নানবাত্মায় ইতিবৃত্ত যে কত ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহ বুঝান বড় দুষ্কর । অনেকের পরব্রহ্ম সম্বন্ধে ধারণ কিরূপ ক্ষুদ্র ইহা হইতে তাঙ্গও বেশ বুঝা যায়। মানবাত্মার প্রকৃত মাহাত্ম্য ফলে নয় কিন্তু উদ্যমে, চেষ্টায়, একথা আমরা একেবারেই ভুলিয়া যাই। কত আয়োজনে, কত যত্নে, কত স্বার্থস্থখবিসর্জনে ; কত আধাবসায়, ধৈৰ্য্য, সহিষ্ণুতায় ; কত অশ্রুপাতে এবং শোণিতপাতে এক একটা মহাসাধন সিদ্ধ হইয়া থাকে, কে তাহার পুঙ্খামু পুঙ্খরুপে অনুসন্ধান করিয়া থাকে ? স্থিরলক্ষ্য স্থিরপ্রাণ এবং অবিচলিত সাধনশাল মানুষই অসাধারণত্ব লাভ করিয়া ৫ম সংখ্যা । ] থাকে। যাহারা সংসাবক্ষেত্রে অসাবারণ লোক, তাহদের সাধনার ইতিহাস কতক পরিমাণে প্রাপ্ত হওয়া যায় ; কিন্তু ধৰ্ম্মরাজ্যের নরদেবগণের জীবনের অবগুজ্ঞাতব্য ঐ অংশটুকু গভীর রহস্তে জড়িত থাকে। সুতরাং মানবদৃষ্টি সে রান্ত ভেদ করিয়া উঠিতে পারে না। অবশেবে তাহাদিগকে লোকাতীতরূপে প্রতিষ্ঠিত করিতে চেষ্ট করা হয়। জনসাধারণের মধ্যে র্যাহারা ভক্ত, তাহারা লোকাতীত জ্ঞানেই ষ্ঠাহীদের পূজায় প্রবৃত্ত হন । কিন্তু কখনও অনুসরণে সাহসী ছন না। ইহাতে বাস্তবিক ময়ূৰ্য্যসমাজ অত্যন্ত ক্ষতিগ্ৰস্ত হয়। এই নিমিত্ত সাধকগণের সাধনাৰ ইতিহাস একান্ত প্রার্থনীয় হইলেও দুর্লভ হইয়া পড়িতেছে। সৌভাগ্যক্রমে ঐরামকৃষ্ণ দেবের সাধনার বিবরণ আমরা যথোচিত লাভ করিতেছি এবং এই জন্ত মহাত্মা বিবেকানন্দ ও তাগর গুরুভাইদিগকে আমাদের অন্তরের কুতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাইতেছি । - খ্ৰীষ্টন্দুভূষণ রায়। চীনদেশী যম রাজা । চান দেশে আসিবার পূৰ্বে আমার ধারণ ছিল যে, হিন্দুদিগের মত পৌত্তলিক জাতি বুঝি পৃথিবীতে আরমাষ্ট; কিন্তু এ দেশে আসিয়া অবধি যতই চানাদিগের ধৰ্ম্ম ও সংস্কার সম্বন্ধে অনুসন্ধান করিতেছি,ততই আমাৰ পূৰ্ব্ব ধারণা দূৰ হইতেছে। শুনিয়াছি হিন্দুদিগের তেত্রিশ কোটা দেবতা আছেন; কিন্তু চনাদিগের দেবদেবী বুঝি ছেষটি কোটীর কম হইবে না ! হিন্দুদিগের দেবদেবীর পূজা-প্রণালীর ও ধৰ্ম্ম-সংস্কারের সঙ্গে চীনাদিগের সংস্কারের কোন কোন বিষয়ে অনেকটা মিল লক্ষিত হয়। হিন্দুদিগের মত চীনদেশে যম রাজা, অরুণ, বরুণ, পবন, বসন্তের দেবী (চীনদেশে বসন্ত দেব), বৈদ্ধনাথ, বল্লম্বর, লক্ষ্মী, সরস্বতী, ষষ্ঠ দেবী, ব্ৰহ্মা, জরামুর, কাত্ত্বিক ( যুদ্ধের দেবতা) প্রভৃতির পূজা হইয়া থাকে। কিন্তু এই সকল দেবদেবীর মূৰ্ত্তির সঙ্গে হিন্দু দেবদেবীর মূৰ্ত্তির বিশেষ মিল নাই এবং পূজা-প্রণালীও এক প্রকার নহে। সে সমস্ত বর্ণনা করা এ প্রবন্ধের উদ্দেশু মহে ॥ চীনদেশী যম রাজা । বঙ্গদেশে যেমন প্রয়োজনানুসারে দেবমূৰ্ত্তি সকল গঠন পূৰ্ব্বক তাহার পূজা করা হষ্টয়া থাকে এবং পূজাকাৰ্য সম্পন্ন হইলে সেই মূৰ্ত্তি সকল জলে বিসর্জন করা হয়, এবং কোন মূৰ্ত্তি যথা স্বরাহর, ব্ৰহ্মা, রক্ষাকালী প্রভৃতির মূৰ্ত্তি, স্থামান্থতি কবিয়া রক্ষিত হইয় থাকে, কিন্তু দ্বিতীয় বার আর ঐ মূৰ্ত্তিকে পূঞ্জ করা হয় না , চীনদেশে তাদৃশ নিয়ম নহে। এদেশে সমস্ত উপান্ত দেবদেবীর স্থায়ী মুপ্তি ও মন্দির আছে। লোকে তথায় গিয়া পূজাকাৰ্য্য সম্পন্ন করিয়া থাকে। টেঙ্গিয়ে ও তন্নিকটবর্তী স্থানসকলে বহুসংখ্যক মন্দির ও দেবমূৰ্ত্তি স্থায়ী ভাবে রক্ষিত আছে। নগর প্রাচীরের ভিতর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে ধৰ্মরাজার মন্দির এয়া নগরের পূৰ্ব্বদ্বারের নিকট বমরাজার দেওয়ান ৰ চিত্রগুপ্তের মন্দির আছে! এইটা যম রাজার কাছারী বাড়ী। যম রাজাকে চীন ভাষায় ঠো-ইয়-তাটা বলে এবং প্তাহার প্রধান কৰ্ম্মচারীব চিত্রগুপ্তকে 'ৰ্চেছাই হোয়া” বলে। টেজিয়ের নগরপ্রাচীরের দক্ষিণ দ্বার দিয়া কিছু দুর গেলে বাম দিকে এক রাস্তা আছে। ঐ রাস্ত অবলম্বন পূর্বক কতকছুর গেলেই সন্মুখে এক সুন্দর কারুকার্য্য বিশিষ্ট কাঠময় গৃহ লক্ষিত হয়। সেই গৃহই যম রাজার মন্দিরের সদর দরজার গৃহ। ইহাতে এক প্রশস্ত দরজা আছে, ঐ দরজা সচরাচর খোলা থাকে না। কোন বিশেষ পৰ্ব্ব উপলক্ষে বা প্রধান কোন রাজকৰ্ম্মচারী মন্দিরে পূজা দিতে আসিলে উহা খোলা হয়। ঐ সম্বর দরজার উপর এক দ্বিতল গৃহ আছে, তাহার উপর নাট্যাভিনয় হইয়া থাকে। ইহার পার্শ্ব দিয়া এক ক্ষুদ্র রাস্তা আছে। তাহা দ্বারা সচরাচর লোকে মন্দিরের তিতর যাইয়া থাকে। এই দরজা দিয়া ভিতরে গেলে এক আঙ্গিনা দৃষ্ট হয়,তাহার সম্মুখে উচ্চ ও বৃহৎ এক কাঠময় গৃহ দেখিতে পাওয়া বার। তাহাকুমধ্য দিয়া ভিতরে গেলে আর একটা প্রাঙ্গণ দেখিতে পাওয়া ধার। সম্মুখে আর এক স্ববৃহৎ উচ্চ গুহ । ঐ গৃহের মধ্যস্থলে এক উচ্চ ও বৃহৎ আসনে ও দেবমূৰ্ত্তি অধিষ্ঠিত আছেন । ঐ মূৰ্ত্তি ধমরাজার মন্ত্রীর । মন্ত্রীর সম্মুখে মধ্যমাকার দুইটী মূৰ্ত্তি দণ্ডায়মান আছে ; তাহা বোধ করি ভূতাদিগের। আসনের উভয় পাশ্বে শ্রেণীবন্ধ ভাবে দণ্ডায়মান বৃহৎ আকৃতির কয়েকটা মূৰ্ত্তি আছে। ঐ সকল মূৰ্ত্তি নানা