পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


- [ ৫ম ভাগ । চীনদেশী বম রাজা । ২৮১ - প্রবাসী ।


-

৫ম সংখ্যা । ] - চীনদেশী ঠাইঞ্চ দৃশু । কাহাকেও পরািজস্থ্যে অতুল এশ্বৰ্য্যের অধীশ্বর করিয়া পাঠান, কাহাকেও রাজা, কাহাকে ৪বাদশাহ ইত্যাদি করিয়া সৎকায্যের পুরস্কাল করিয়া থাকেন । হ্যবাল মাহীদের অনেকগুলি পুণ্য কাৰ্য্যের মধ্যে ই একটা পাপ কাৰ্য্যও আছে, তাহদিগকে চিত্রগুপ্তের অধীনে নির্দিষ্ট কালের জঙ্গ থাকিতে হয়। তবে তাহাকে গুরুতর অপবাধিগণের মত শাস্তিতোগ করিতে হয়না। ইহাদের মধ্যে কেহ কেহ উপযুক্ততানুসারে দূতক্তিগের উপর প্রভুত্ব সুচক কার্যা করিয়া থাকে।

  • পুথিবীর বৃষ্টি হটতে যন্ত লোকের মৃত্যু হইয়াছে তাঙ্গদের অনেকে ভূতরূপে আজও বর্তমান আছে। ভূতগণের এক স্বতন্ত্র রাজ্য আছে। তাছাদের বিচারাদলত আছে, বিচারক আছে, হাট বাজাP্যবসা বাণিজ্য, গৃহকার্য সকলই পুথিবীর লোকের মত আছে। টোঙ্গয়ে যম মাজার অধীনে যত দেশ আছে, তাহদের লোক সকল মরিলে এখানকার যম বাজার রাজ্যে আনীত হয় আমার দোভাধী বলে যে প্রতি সাত দিন অন্তর টেঙ্গিয়র ভূতগণের হাট হইয় থাকে । তাঁহাতে

-- --- -- --- - দেপিতেছেন নরক কেমন গুলজার। নানা প্রকার দ্রব্যের পরিদ বিক্ৰী হইয় থাকে। এই সক ভূতগণ চিত্রগুপ্তের অধীন।

  • ালোকগণেব ভূত প্রথমে চিত্রগুথের বিচারাদালতে ।

নীত হইয়া তাহদের মোকৰ্দ্দমার বিচার হইলে, শাস্তি দিবার জন্য ঐ সকল স্বী ভূতগণ যম-রাজার স্বাণী “নিরাং-নিয়ার" নিকট প্রেরিত হয় । কারণ স্ত্রী ও পুরুষ ভূতের এক জেলে শাস্তি বিধান করা নীতিবিরুদ্ধ। পাপের শাস্তি স্বরূপ কেঃ কেহ পুনর্জন্মে শূকর, গরু, ঘোড়, কীট পতঙ্গাদি-ইষ্টয়া থাকে। উপরে যে সম রাজ্যের বিচারালয় ও নরকরূপ জেলের কথা বলিয়াছি, তাহার একটা শ্বের ফটোগ্রাফ পাঠাইলাম। পাঠক উপরে উচ্চাসনে বিচারক মোকদ্দমাল বিচার করিতেছেন,লিয়ে তাহার আদেশে পাপীগণকে শাস্তি দেওয়া হইতেছে । পোড়ামুণে যমদূত অপরাধাদিগকে তাড়া করিতেছে । ইহাতে সমস্ত দৃপ্ত দেখিবর যে নাই। কোন কোন স্থানে পাপীর মাথার মুদগর প্রহার করা হইতেছে, কোন কোন অপরাধীর মস্তিত্ব জাতায় পেশা হইতেছে, কাহারে মাথ করাত দ্বারা চিরি৷ দ্বি-খণ্ড করা হইতেছে। কঙ্গোরে বক্ষের ও উদরের মাংসপেশ কৰ্ত্তন করির অভ্যন্তরস্থ অস্ত্র সকল বাহর করিয় তাঙ্গকে হত্যা করা হইতেছে । মূল কথা চীন সাম্রাজ্যে যে যে প্রকার শাস্তিবিধান আছে, এই নরকেও সেক্ট সেট প্রকার দৃশ্ব লক্ষিত হইবে। যম রাজা ও চিত্রগুপ্তের ফটোগ্রাফ তুলিবার যে নাই। ঐ সকল মূৰ্ত্তি আচ্ছাদিত থাকে। টেছঃই হোয়াংএর মন্দিরের যে সকল চীনা পুরোহিত বা পাণ্ডাগণ বাম করে রাত্রিকালে ঠাহীরা লাকি পাপিগণের টীৎকার ও আর্তনাদের শব্দ শুনিতে পান। ঐ সকল ক্ৰন্দন ৪ চীৎকার চিত্রগুপ্তের বিচারালয়ে শাস্তিপ্রাপ্ত প্রেতাত্মাগণের চাৎকার বলিয় তাহারা ব্যাখ্যা করে । ভূতগণের মধ্যে কেহ কে রাত্রিকালে গোপনে আপন আপন বাটতে গিয়া আত্মীয়গণকে স্বপ্নে তাহদের নব্লক যন্ত্রণার কথা জানায় এবং তাহার প্রতিকাবের উপায়ও বলিয়া দেয়। বলা বাহুল্য যে ভূতের আত্মীয়গণ স্বপ্রাদেশ অনুসারে চিত্রগুপ্তেবমন্দিরে পূঞ্জ দিয়া থাকে। কেহ বা একট শুকর ও মোলগ প্রভৃতি বলিদান কবির প্রেস্তাত্মার নব্লক যন্ত্রণার লীবধ করিয়া থাকে। আবার কোন কোন চীণ রোজ কাহারো অতুরোপে তাহার আত্মীয় ভুতকে কোন বালক বা মালিকার উপর আবিস্তৃত করাইয়া তাঙ্গ দ্বার কথা বলাষ্টতে পারে। এই বিষয়ে যাহালা চানাদিগকে কুসংস্কারপন্ন বলরা নিলা করবেন তাতাদের অবগতির জন্ত আমাদিগের দেশেষ বহু ঘটনার মধ্যে একটা ঘটনার কথা উল্পেণ করিখ । আমার - মাতুলালয়ে আমার মাতুলগণের এক জ্ঞাড়ি ভ্রাতুপুত্রের *}}} হয়। তিনি জাতিতে ব্ৰাহ্মণ ছিলেন। তাই তাহার মৃত্যু হইলে ঠাহীর মৃত দেহ নাকি শূদ্রের ছায়া সংস্পৰ্শ কলে। তাই তাহার প্রেতাত্মার মুক্তি হইল না । তাহার প্রেতাত্মা ব্ৰহ্মদৈত্য রূপে ঠাহীর স্ত্রীর উপর আবিভূত হইয়া সময় সময় ক্ৰন্দন করিতেল ও লীন৷ দুঃখ প্রকাশ করিতেন যে প্তাহার মুক্তি হইবে না কেন না : শূদ্রের ছায় তাহার দেহ স্পর্শ করিয়াছিল। তাহার ভ্রাতাকে অনুরোধ করিতেন যে সত্বর গিয গয়ায় যেন পিণ্ডদান করিষা তাহাৰ উদ্ধাব করেন। বলা বাহুল্য যে তাহার ভ্রাতা গয়ায় গিয়া মুগারীতি পিণ্ডদান করিলেন। কিন্তু মাতুল ভ্ৰাতায় প্রেস্তাত্মা দূর হইল না তিনি আবার তাহার স্ত্রীর উপর আবিভূত হইয়া বলিলেন যে তাছার মুক্তি হয় নাই, কারণ পিণ্ডদান কালে পিণ্ডের মধ্যে চুল থাকায় উহা অপবিত্র বিধায় দেবতা উহ, গ্রহণ করেন নাই। এই ঘটনার পর তাহার ভ্রাতা পুনরায় গয়ায় গিরা সাবধালে পিও দিলেন এবংর তাহার মুক্তি হইল । আমার মাতাঠাকুবাণীর মুখে এই কথা শুনিয়াছি। কিন্তু মাতুল ভ্রাতৃবধ, যিনি এখনও ফর্তমান আছেন, তাহাকে এবিষয়ে কথনও প্রশ্ন করিতে সাহস করি নাই। কেবল বিশ্বাস ও কুসংস্থার দ্বারা যে এ সকল ঘটে, তাহাঁর আধ কোন সন্দেহ নাই । আমাদিগের দেশে এক সময়ে ভূতের বড় ভয় ছিল; কিন্তু তুতের সংখ্যা এণন ক্রমেই কমিতেছে, ইহা অত্যন্ত স্বগের বিষয়। আমরা শুনিয়াছি, লোহারাম চক্রবর্তী নামক এক ব্যক্তি ছিলেন । বহুসংখ্যক ভূত সাহার অধীনে থাকিত । ভূতগণ র্তাহার আজ্ঞাবহ ছিল । তিনি নাকি স্থানান্তবে রাষ্টতে হইলে ভূতগণ দ্বারা উহার পালকী বহনের কার্য্য করাইতেন। ফরিদপুর জেলার চন্দন ও গোরাই নদীর সংমিলল --- — - স্থলের নিকট চন্দন নদীর বলে আড়পাড়া নামক এক গ্রাম আছে । তথায় রায় উপাধীরা এক ব্রাহ্মণ পরিবার বাস করেন। তাহদের নাকি ভূতের ব্যবসা ছিল। ঐ দেশে সচরাচর প্রায় মহাশয়ুদিগের নাম উল্লেখ করিতে হইলে আড়পাড়ার ভূত বলির উল্লেখ এখনও করিয়া থাকে। চীনারা অত্যন্ত ভূতের ভয় করিয়া থাকে। পুরিবার মধ্যে কাহারে কঠিন পীড়া হইলে তাহা ভূতের কার্য্য মনে করিয়া অনেকে তাহার চিকিৎসা করেন। অন্ন ব্যঞ্জন দ্বারা ভূতকে পূজা করিয়া অনেকে ব্যাধি হইতে আরোগ্যলাভ করিতে চাহে। ব্ৰহ্ম দেশেও এই প্রথা আছে। বলা বভুল এই ভূতের কার্য মনে করিয়া অচিকিৎসায় অনেক লোক মারা যায়। চালাদিগকে কিছুতেই এই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কাৰ্য্য করলে যায় না। তাহারা কোন উৎকট ব্যাধির চিকিৎসা কিছুতেই করিতে রাজি হর না। - চানাদিগের বৎসরের সপ্তম মাসে ( আমাপেল ভাদ্র মাস } চীন দেশে ঘরে ঘরে ভূতেষ পুছা হইয়া থাকে। সপ্তম মাসের পসেল দিবস যাবস্ত চিত্রগুপ্ত সমস্ত ভূতকে ছুটি দিয়া থাকেন। মূল কথা এই পনর দিন যমরাজাস বিচারাদালত প্রায় বন্ধ থাকে। এই এক পক্ষকাল বাবত গৃহস্থগণ প্রত্যহ নানাবিধ অন্ন ব্যঞ্জন দ্বারা আপন আপন মাস্তু, পিতা, ভাই প্রভৃতিল প্রেতাত্মাকে পূজা কবিয়া থাকে স্বীপরুষগণ দলবন্ধ স্তষ্টয় তাহদের মৃত আত্মীযগণের কবরস্থানে গিয়া দশাং জালায়, কাগজের নিশান সকল তাহার নিকট প্রোথিত কলিয়া রাগিয়া প্রণাম কলে । শেষ দিবসে প্রতি গ্রামে ও সহরে লোকে আপন আপন বাটীর সম্মুথে বাস্তার ধারে ভূতের পূজার সহ আয়োজন করিয়া থাকে। প্রতি বাটাব সম্মুখে এক এক খানি যা দুই খানি টেবল স্থাপন করিয়া তাহার উপর নানা প্রকার ফল, মিঠাই, শূকরের, মুরগীর ও গরুর মাংস প্রভৃতি স্তরে স্তরে রাখা হয় এবং ধুপদীপ দ্বশং প্রভৃতি ভিয়ত জালাল হয়। টেবলের পাশ্বে নিম্নে একটা অগ্নিকুণ্ড করা হইয়াথাকে। চোংশু নামক বৃক্ষের পাতা তাহাতে ভালীন হয় । যে বাটঙ্গে যত লোক মারা গিয়াছে, উহাদের প্রত্যেকের জীবনের সংক্ষিপ্ত ঘটনা সহ বড় বড় এক এক থানি লেফাফা সংযুক্ত হইয়া থাকে। ঐ লেফাফা প্রায় এক ফুট লম্বী এবং নয় ইঞ্চি চৌড় হইবে। অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রাকারেরও হইয় থাকে। পরে বাটীর প্রধান