পাতা:প্রবাসী (পঞ্চম ভাগ).djvu/১৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


| ఇనbr বস্ত্র ধারণে প্রবেশ করিতেছে। কেহ কেহ গ্রীষ্মকালেও দিবীরাত্রি গায়ে গেঞ্জি’ বা বেনিয়ান’ আঁটিয়া বসিয়া থাকেন। দেখিতে গেলে আমাদের গাদেশে শীতকালেও গয়ে টান ‘গেঞ্জি’ দেওয়া কৰ্ত্তবা নহে। খ্ৰীষ্মকালে যথম গায়ে কোন কাপড়ই রাথিতে ইচ্ছা হয় না, তখন মিথ্য সভ্যতাব কুহকে বিলাতের অন্নকরণে স্বাস্থা নষ্ট করিবেন ? গায়ে আলোক ও বাতাস লাগাইলে স্বাস্থা ভাল থাকে। বাদ সভ্য সাজিয়া থাকিতেই হয়, তাহা হইলে পাতলা কাপড়ের ঢিলা জাম পরিদান করা সহস্ৰগুণে ভাল। আধুনিক অন্ত কোন ব্যবস্থাই বা ভাল ? আমরা বাড়ীতে সকালে সন্ধ্যায় থালি গায়ে থাকি, কিন্তু ঠিক যে সময়ে থালি গায়ে থাকিষ্ট্রে ভাল লাগে, ঠিক সেই সময়েই, সেই মধ্যাঙ্ক কালেষ্ট পায়ে পুরু মোজা, মোজার উপরে বায়ু প্রবেশরোধক জুতা হইতে ংক্লথের ঘন কামিজ, চাপকান, চৌগা প্রভৃতি কত কাপড় জড়াইয়া থাকি! ইহাদের উপরে কেহ কেহ বুট পরিতে সাধ করেন । আমরা এই গ্রীষ্মের দেশে গায়ে কাল আলপাকা কিংবা কাল পারামিটার চাপকন ও চোগ পরি, মাথায় কাল মখমলের কিংবা ফেন্টের টুপী অটি, এবং পাছে ইহাতেও শোণিত শীতল হয় এই আশঙ্কায়, পথ চলিতে চলিতে কাল কাপড়ের ছাতা খুলিয়া যাতেজঃ মস্তকে কেন্দ্রীভূত করি । এত অত্যাচারেও যে আমাদের স্বাস্থ্য থাকে, তাহা বাঙ্গালীর পূর্ব পুরুষের পুণ্যফল । আমরা ভুলিয়া যাই, বিলাতের মত শীতের দেশে এত কাল কাপড়ের দরকার থাকিতে পারে, কিন্তু এই গরম দেশে, সাদা কাপড়ের ঢিলা জামা, ঢিলা পায়জামা ইত্যাদিষ্ট ভাল। এদেশে পাশ্চাত্য টান জামা, টান কোট, টান কোন পরিচ্ছদই ভাল হইতে পালে না। শাদ, হালকা, সচ্ছিদ্র উীষ থাকিতে কেন যে আমরা কাকার টুপী মাথায় দিয়া দাড়াই, তাহ মধ্যে মধ্যে ভাবিয়া দেথা উচিত। ছাতার কাপড় কাল রঙ্গেরই করিতে হইবে কি ? মধ্যান্ত্রে পরিশ্রম - আয় এক অবিধি । এদেশে পূর্বাহ ও অপরাকুই মানসিক ও শারীরিক সকল প্রকার কাজের সময়। মেক্‌সিকো গ্রীষ্ম দেশ। সে দেশের আফিসের সময় পূর্বাত্ব ও অপরাষ্ট্র। মধ্যায়ুকালে প্রবাসী । SSMSSSMSSSMSAMMSMMM MMSMS SMSMSMS SS - - - - সে দেশের লোকেরা ভোজন ও বিশ্রামের ছুটী পায়। আলেকে সে বিশ্রামে নিদ্রাভোগ কলে । আমাদের দেশয় রীতি এই ছিল। কারণ, গীগবজ্যেষু কালেষু দিবাস্বপ্নে নিষিধ্যতে-গ্রীষ্মকাল ব্যতীত অন্স কালে দিবানিদ্র দোষাবহ । আমাদের রাজার বাস এমন দেশে, যে দেশে মধাতু ব্যতীত পূর্বাস্ত্র ও অপরাহ্লে কাজ করিৰার সময় থাকে না, যে দেশে এভ শীত যে মধ্যtহু কষ্টকর না হইয়া সুখকর হয় । রাজার দেশের অভ্যাস এদেশেও প্রবর্ধিত হইয়াছে। সুতলাং যাহায় রাজ-সরকারে কিংবা বিদেশীয় সওদাগরের আপিসে চাকরি করেন, ঠাচারা প্রকৃতির আদেশ লঙ্গন করিতে বাধা । তাহারা ভোজনের পরেই ধাবমান হষ্টয়৷ মৃত্যুকে আহবান করিতে থাকেন। কিন্তু বড়ই আশ্চর্যোয় বিষয়, তাহদের দেখা দেখি, অন্ত লোকেরাও এই অহিতকয় রীতি নিশ্চিন্ত মনে অনুসরণ করিতেছে। কলিকাতায় ও অন্যত্র মুটে মজুরের সকাল হইতে খেলা তিনট পৰ্য্যন্ত কাজ করিয়া দিনের মজুলি শেষ করে । কোন কোণ দেশীয় য়াজসরকারের কৰ্ম্মচারীর পূর্শটার পর সেরেস্তায় গিয়া বসে। এই অনিয়মের চরম দৃষ্টান্ত মধ্যাঃ কালে স্থলের ছাত্রগণকে ড়িল করান। সকাল সকাল থাষ্টয়া গিয়া কাজে বসায় হবিধ আছে। বিশেষত: ঘাঁহাদের বাড়ী দূরে ; দ্বিনের মধ্যে হইবার আনাগোনা কৰু তাহদের কৰ্ম্ম নহে। কিন্তু কাজের সুবিধা অসুবিধার সহিত স্বাস্থ্যরক্ষার ঐকা কদাচিৎ ঘটে । জাপানীরা মধ্যাহ্ল ভোজনেল নিমিত্ত কাৰ্য্যস্থলে ভাত লইয়া যায়। ইং হিন্দুর পারে মা বটে, কিন্তু দেশীয় রীতি প্রচলিত থাকিলে ভোজনের s বিশ্রামের হুবিধা নিশ্চিত থাকিত। নতুবা সে রীতি প্রচলিত হইতে পারিত নী । মাম্য যে অবস্থায় পড়ে, অদ্যান্ত জীবের স্তায় সে নিজেকে সেই অবস্থার উপযোগী করিতে থাকে। কতক ইচ্ছায় কতক অনিচ্ছায়, অয়ে অয়ে তাহার শারীরিক ও মানসিক সকল বিষয়ের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। এই পরিবর্তন - ঘটিলেই বিপন্থ। তখন অনেককে বিকলাঙ্গ হইয়া কোন রূপে কয়েক দিন কাটাইতে হয়, কিংবা সংসায় হইতে অকালে অবসর গ্রহণ কপিতে হয়। বিকলাঙ্গের দৃষ্টান্ত স্কুল ও কলেঞ্জের বালকদিগের - ৫ম ভাগ । ৬ষ্ঠ সংখ্যা । ] | o T - দূরদৃষ্টিহীনতা সকলেই প্রত্যক্ষ করিতেছেন । কি দ্রুত বেগে সভ্যতার বাহ্য লক্ষণ স্বরূপ কাচময় প্রতিচক্ষু এদেশে বিস্তৃত হইতেছে! প্রকৃতির শাসন, নিষ্ঠুর শাসন। যিনি যে অঙ্গের কিংবা বৃত্তির চালনা করেন না, প্রকৃতি র্তাহাকে সে অঙ্গ কিংবা বৃত্তি হইতে মুক্তিদান করেন। শুষ্টির মধ্যে অনাবশ্বকের স্থান নাই। ক্ষুদ্র গৃহে আবদ্ধ থাকিয় দিবরান্ত্রি ক্ষুদ্রাক্ষর দেখিতে দেখিতে যে চক্ষুর জ্যোতিঃ শোপ পাইবে, তাঙ্গতে আশ্চর্যা কি ? দিবসে ঘরে, এবং হয় ত বিদ্যালয়েও আলোক অল্প । কিন্তু রাত্রে কেরোলিন দীপের প্রচণ্ড রশ্মি চক্ষে পড়িতে থাকে, অগ্নি বালক ও যুবকেয় মস্তিষ্ক উষ্ণ, এবং দুৰ্গন্ধ দেহেল রক্ত কলুষিত করিতে থাকে। থামের আটচাল দে ভাল ছিল, মাটির প্রদীপ ও রেড়াল তৈল যে সহস্রাংশে উৎকৃষ্ট ছিল । শারীরিক বলহীনতা ক্রমে ক্রমে বাড়ির চলিতেছে। দীর্ঘ বলিষ্ঠ দেহ, শক্তিযুক্ত মুখমণ্ডল, অকুতোভয় ব্যক্তিত্ব,আলমা উৎপাত,ধৰ্ম্মে মতি -অঞ্জকাল দুৰ্ল্লভ। র্যাহারা শিক্ষিত, তাহদেরই কথা হইতেছে । সেই শিক্ষার সঙ্গে শারীরিক বলহানির কার্যা কারণ সম্বন্ধ অন্ততঃ ইংলওে দেখা যায় নাই, এদেশেষ্ট বা দেশ যাইতেছে কেন ? চোথে চসম, অজীর্ণ রোগ, আশা ৪ উদ্যমহীন বদন, অকালপক্ক কেশ, শিথিল দস্তু, অনিমিত দেহ্যষ্টি-একাধারে সকল শুভ লক্ষণই বর্তমান । পূৰ্ব্বকালে যাহার ৬৪ হইতে ৯৬ বৎসর বয়ঃক্রম হইত, তাহাকে দীর্ঘায়ুঃ বলিবার রীতি ছিল। এখন দীর্ঘায়ুঃ বলিবার মানুষ পাওয়৷ যায় না। প্রায় সকলেই মধ্যায়ুঃ, ৬৪ বৎসর দেখিতে নী দেখিতেই গতায় হইতেছেন। স্থৰ্বল রুগ্ন শিক্ষিত জনক জননীর সন্তানের দ্রুত শিক্ষিত হইতে পারে বটে, কিন্তু কেবল মস্তিষ্কে কি ফন্স • শারীরিক অস্বাস্থো শিক্ষিত ব্যক্তি কাতর। প্রায় এমন শিক্ষিত ব্যক্তি দেখিতে পাওয়া যায় ন, যিনি চিরকুল্প নহেন। এই রূপ জনপ্রযাহ চলিতে চলিতে শেষে কি সত্য সন্তাই বেগুন গাছে তাকসি লাগাইতে হুইবে ? এক জন দুই জন দশ জনে জাতীয় বিকাশ প্রমাণিত হয় না। যে জাতির শারীরিক অবনতির দ্রুত গতি দেখা যাইতেছে, তাহাদ্বারা তবিম্বতে কি কাজের সিপাহ"বিদ্রোহের দিনে প্রবাসী বাঙ্গালী । । - - ”

  • Rసిన

- সম্ভাবনা আছে ? সে কালের গ্রামে বালকদিগের চুটাছুটি, মারামারি, গাছে চড়া, জলে সাতার দেওয়াতে যে একটা জীবন্ত ভাব ছিল, তাহ সহরের বালকদিগের মধ্যে কমিক্স আসিতেছে। অনেকে কেবল পড়া লইয়াই ঘরে বসিয়াই থাকে, দশ জনের সঙ্গে মিশে না, হালে না, খেলা করেন— যেন প্রাণষ্ঠান। বায়ামের নিমিত্ত্ব বান্নামে তেমন ফল হয় ম। খেলাতে স্বাধীনতার ভাবে যে উৎসাহ জন্মে, ডাহা অল্প কার্য্যেও সংক্রমিত হয়। ঘল স্বাধিয়া এখানে ওখানে ভ্রমণ, এ গ্রাম সে গ্রাম দেখা, এ ব্যবসায় সে ব্যবসায় লক্ষ্য করা, খাল মদী প্রভৃতি প্রাকৃতিক দৃপ্ত উপভোগ করা,— ইত্যাদি নানা কাজ দ্বার বালকদিগের স্ফঞ্জি উৎপাদন কৰ্ত্তবী। অভিভাবকদিগেল্প দেখা আবশ্বক যে, তাহাদিগের অধীন বালক বালিকাগণের শারীরিক উন্নতি অণুমাত্র উপেক্ষিত না হয়। শিশুকে শিশু, বালককে বালক, যুবককে যুবক রাখিতে পার্কুিলেষ্ট প্রকৃতি মানবের এই সকল ভিন্ন ভিন্ন দশার পূর্ণতা সম্পাদন করবে। বিভিন্ন অঙ্গে ও বৃত্তিতে পূর্ণতালাভ করাষ্ট কি জাৰ্ছীয় উন্নতির অর্থ লহে ? শ্ৰীযোগেশচন্দ্র রায় । সিপাহী বিদ্রোহের দিনে প্রবাসী বাঙ্গালী । প্রবাসীর পাঠকগণ ইতিপূৰ্ব্বে স্বৰ্গীয় মাধবদাস বাবাজার জীবনী পাঠ করিয়াছেন । অল্প তাহারই একজন সহাধ্যায়ী এবং বন্ধু স্বৰ্গীয় কালীচরণ চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের জীবন বৃত্তান্ত তাহদের নিকট উপস্থিত কয় গেল। গত আষাঢ় মাসের প্রবাসীর ১৭৭ পৃষ্ঠায় “প্রবাসী বাঙ্গালী” শীর্ষক প্রবন্ধের প্রারস্তে যাহা উক্ত হইয়াছিল, কালীচরণ বাবুর সম্বন্ধেও তাহ প্ৰযুজ্য। কালীবাবু ১৮২- অঙ্কে এলাহাবাদ কীভগঞ্জ নামক পল্লীতে পিতা ৬ হরবল্লভ চট্টোপাধ্যায়ের গুহে জন্মগ্রহণ করেন । হয়বল্লভ বাৰু এখানে পাৰ্মিটের কাজ করতেন। তাছার আয় বড় বেশী ছিল না , কিন্তু । তখন সপ্তাখণ্ডার দিনে তাঁহাতেই তিনি দৌল দুর্গোৎসব করিয়া গিয়াছেন। তাহার বাড়ী সমূৰ্ত্তি দুর্গা ও কালী পুঞ্জ হইত। তিনি চরিত্রবান, ভক্ত এবং সাত্বিক প্রকৃতির